বিএনপির আশঙ্কা: এক মাস পর দেশের মানুষ খাবার পাবে না

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি এই ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ যদি সরকার না করে আর যদি একমাস এরকম অবস্থা চলে তাহলে মেবি এ সিচুয়েশন লাইক ফেমিন। কারণ, সাধারণ মানুষ তো খাবার পাবে না। এরপরে দাম বাড়তে শুরু করেছে। চালের দাম তো বেড়ে গেছে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপিতে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আরো আশঙ্কা করছি যে, ইতিমধ্যে গার্মেন্টসের যে ডিমান্ড বিদেশে থেকে আসে সেই চাহিদা বাতিল হয়ে গেছে। এতে করে মালিকেরা ভয়াবহ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন যে, গার্মেন্টসের শ্রমিকদের বেতন কিভাবে দেবেন। আমরা মনে করি নিম্ন আয়ের মানুষেরা, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক এই সমস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে সরকারের তরফ থেকে ভাতা প্রদান করা উচিত। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আপদকালীন পারিবারিক ভরণপোষণ ও বিশেষ ভাতা-বীমার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। এটা করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি এই ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ যদি সরকার না করে আর যদি একমাস এরকম অবস্থা চলে তাহলে মেবি এ সিচুয়েশন লাইক ফেমিন। কারণ সাধারণ মানুষ তো খাবার পাবে না। এরপরে দাম বাড়তে শুরু করেছে। চালের দাম তো বেড়ে গেছে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সরকারের আগে কোনো প্রস্তুতি ছিলো না। চীনের যখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, তারা যখন জরুরি ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বার বার বলা হচ্ছে এই বিষয়টি তখনও কিন্তু আমাদের সরকার বিষয়টাকে হালকা করে দেখেছে, হালকা করে কথা বলেছে। আজকে যখন এক্সপ্রেস ট্রেন উপরে এসে পড়ে গেছে। এখন এটার বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা করা যদি না যায় তাহলে প্রচণ্ড রকমের বিপর্যয় আসতে পারে বলে আমরা মনে করি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি যে, এটা (করোনাভাইরাস) একটা জাতীয় ও বৈশ্বিক বিপর্যয়। সেজন্য আমরা দলমত নির্বিশেষ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ সকল মানুষের প্রতি আমরা আবারো আহবান জানাচ্ছি-আসুন আমরা এখানে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে আমাদের সকলের এই মনোভাব সৃষ্টি করা প্রয়োজন যে, আমরা এটাকে মোকাবিলা করি। এই মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের যা যা কাজ করা দরকার সেই কাজগুলো আমরা যেন করি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই বৈশ্বিক বিপর্যয়কে মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের লিফলেটে, আমাদের বক্তব্যে যেভাবে বলা হয়েছে জনসমাগম থেকে দুরে থাকা, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, মানুষদের সচেতন করে তোলা বিশেষ করে গ্রামে আছেন যারা তাদেরকে সব দলের পক্ষ থেকে বলছি আমরা- ‘আপনারা বাড়িতে থাকুন সরকারের পক্ষ থেকে বলা উচিত তাদেরকে-তোমরা হোম কোয়ারেনটাইনে চলে যাও।

ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি অনুরোধ জানাবো ব্যবসায়ীদের প্রতি- দয়া করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বৃদ্ধি করবেন না। মানুষের এই দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রাক-প্রস্তুতি না থাকার জন্য সরকারের ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা ও ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি। করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ কিট, চিকিৎসকদের বিশেষ পোশাক সরবরাহ, তাদের প্রশিক্ষণসহ হাসপাতালে এই রোগের আক্রান্তদের স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানান ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের আতংকে ব্যাপক প্রভাব পড়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন আজকের তথ্যে ২ জন মারা গেছেন এই পর্যন্ত ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে গোটা শহর খালি হয়ে গেছে। আমি আজকে বেরিয়েছিলাম গ্রিন রোড, ধানমন্ডি এসব এলাকায় দিয়ে এসেছি। সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা যারা রিকসা চালায়, যারা সিএনজি চালায়, নির্মাণ শ্রমিকেরা যারা।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়. নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।