করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রশংসিত- তথ্যমন্ত্রী : সরকার ব্যর্থ- ফখরুল

বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ আজ বলেছেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই সরকার আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তবে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

এদিকে, করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও এনজিও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্থায়ী ‘জাতীয় পুনর্গঠন কমিটি গঠন’সহ সরকারকে ৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে নাগরিক ঐক্য।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, সচরাচর যুদ্ধকালে যেমন করা হয়, তেমনভাবে একটি মন্ত্রিসভা সাব-কমিটি অথবা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরামর্শকমণ্ডলী গঠনের।

সোমবার (০৪ মে) তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে অনলাইনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী এ সংকটের সময় মানুষের জীবন এবং জীবিকা দু’টি রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার প্রথম থেকেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেটি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা এমনকি বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের জীবিকা রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছেন, বিশ্ববিখ্যাত দি ইকনোমিস্ট পত্রিকায় সেগুলোর সঠিক পরিস্ফুটন হয়েছে।

ইকনোমিস্ট পত্রিকায় প্রকিশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এখন অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর উপরে।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যেই ভারত-চীন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের চেয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন কেউ প্রশংসা করুক আর না করুক এটিই হচ্ছে বাস্তবতা।

এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রাজধানীতে ত্রাণ বিতরণকালে বলেছেন, করোনা সংকটে গরীব মানুষদের সঠিকভাবে ত্রাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

হাসপাতালের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত না উল্লেখ মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকার কোনো কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। যেসব সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে, সেই সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিটিতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। গোটা দেশে আরও বেশি রকমের দুযোর্গের আশঙ্কা করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন লকডাউন ঘোষণা করেছে, তখন এরা কিন্তু লকডাউন ঘোষণা করেনি, স্থানীয়ভাবে লকডাউন দিচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয়ভাবে কোনো লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। যার ফলে মানুষ এটার গুরুত্ব সেভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টির করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা একেক সময় একেকটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিল যে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ করল কিন্তু দুইদিন পরে গণ-পরিবহন খোলা রাখল। ফলে সব কিন্তু গ্রামের মধ্যে দেশের মধ্যে সারা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল। আবার আজকে গার্মেন্টস খুলেছে কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীদের যে নিরাপত্তা, সেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। সরকার ব্যর্থ হয়েছে গার্মেন্টস মালিকদেরকে তাঁদের শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা গ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে জানান মির্জা ফখরুল।

সূত্র: পার্সটুডে