বিনা কারণে রোগী ভর্তি না করলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

করোনা ভাইরাসের অজুহাতে অনেক বেসরকারি মেডিকেলে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। ডাক্তার উপস্থিতি কম। রোগীদের ভর্তি কার্যক্রম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। অনেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারাও যাচ্ছেন। যা খুবই অমানবিক।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তদারকি করে এমন তথ্য পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

রাজধানীর স্কয়ার, ল্যাব এইড, সমরিতা, বিআরবি, গ্রীন লাইফ, কমফোর্ট, আনোয়ার খান মডার্নসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এই তদারকি করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন ভোক্তা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মুহাম্মাদ শাহরিয়ার। অভিযান পরিচালনা করছেন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তদারকি শুরু করেছে ভোক্তা অধিদফতর। এখন থেকে কোনো কারণ ছাড়া সাধারণ রোগীদের ভর্তি না করলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপ-পরিচালক মনজুর মুহাম্মাদ শাহরিয়ার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আজকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের যথাযথভাবে সেবা প্রদান করা হচ্ছে কিনা এটি তদারকি করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, আগের তুলনায় এখন ভর্তি কমেছে ৮০ শতাংশ। আর মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ডাক্তার হাসপাতালে আসছেন। এতে করে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রথম পর্যায় হাসপাতালগুলোকে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য বিভিন্ন পরামর্শের পাশাপাশি সতর্ক করেছি। যে সব ডাক্তার নিয়মিতভাবে হাসপাতাল-ক্লিনিকে আসছেন না তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

অধিদফতরের এ কর্মকর্তা বলেন, আজকে তদারকির করতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতে যেসব সমস্যা দেখেছি তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাবো। তারা যেন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর যদি হাসপাতালগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে অবহেলা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।