বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই অরনী-আলভীকে হত্যা করেছে মা: র‍্যাব

মার্চ ৩, ২০১৬

bonojsree pic_118741_118879রামপুরার বনশ্রীতে অজ্ঞাত কারণে নিহত দুই শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মা মাহফুজা মালেক জেসমিন।

বৃহস্পতিবার র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা এ তথ্য জানায়।

র‌্যাবের দাবি, মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে ও সম্পত্তির বিরোধ এবং বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কেরই কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সন্তানদের মা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, মানসিক ভারসাম্যহীতা, সামাজিক অসঙ্গতি, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব নানাবিধ কারণে শিশু দুটির মা-ই তাদেরকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আটক অরণী ও আলভীর মাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় র‌্যাব সদর দফতরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি

এরআগে বুধবার সকাল ১১টায় জামালপুরের একটি বাসা থেকে রামপুরায় অজ্ঞাত কারণে নিহত দুই ভাইবোনের বাবা আমান উল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক জেসমিন ও খালা আফরোজা মিলাকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন-৩ (র‌্যাব)।

এরপর জামালপুর থেকে তাদের ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব।

দুই ভাইবোনের মৃত্যু খাদ্যে বিষক্রিয়ায় হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নতুন রহস্য উন্মোচন করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও চোখে রক্ত জমাট বাধার নমুনা রয়েছে।

এতে ধারণা করা হয় তাদের গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তাদের মা-বাবা ও খালা আটক করা হয়েছে। এরপর শিশুদের মা হত্যার দায় স্বীকার করেন।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, দুই ভাইবোনের গলায় সামান্য চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া চোখে রক্ত জমাট বাধা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, নিহতদের খাদ্যনালী থেকে কিছু খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিসেরা প্রতিবেদন ও সংগ্রহ করা খাবারের নমুনার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ৮টার দিকে রামপুরার বনশ্রী আবাসিক এলাকা থেকে অরুনী ও আলভীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল খাবারের বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, তবে লাশের ময়নাতদন্তের পর গলায় আঘাতের চিহ্ন হত্যার দিকে ঈঙ্গিত দেয়।