করোনাভাইরাস: আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃত ৮ হাজার

বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে (কোভিড ১৯) আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি।

এদিকে ইতালিতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। দেশটিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছে সেখানকার সরকার।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে যুক্তরাজ্যে লাখো মানুষ মারা যেতে পারে—সমীক্ষার নিরিখে এমন এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ওই সমীক্ষায় বলা হয়, ভাইরাসটি সবচেয়ে খারাপ মাত্রায় ছড়ালে ৫ লাখের বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। এ ছাড়া মারাত্মক অসুস্থ রোগীতে উপচে পড়বে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা। এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মারা যেতে পারে ২২ লাখ মানুষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বরিস সরকার যুক্তরাজ্যের জীবনযাপনে সব সামাজিকতা নিষিদ্ধ করেছে। ৭০ বছরের বেশি বয়সী লোকজনকে আলাদা করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ক্যাফে, পাবে, সিনেমা হলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসে মহামারির প্রকোপ কমিয়ে আনতে সন্দেহভাজন রোগীদের পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সঙ্গে সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ইউরোপে পর্যটক ঢোকায় বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমেরিকার ৫০টি রাজ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত আছে। বাজারে প্রচণ্ড অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নতুন করোনাভাইরাসের ব্যাপক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চাইলে জরুরি ভিত্তিতে আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply