মাদরাসায় কাদিয়ানীদের হামলায় মাওলানা নিজামপুরীর নিন্দা

জানুয়ারি ১৫, ২০২০ জুনাইদ আহমাদ

গতকাল মঙ্গলবার বাদ ইশা বি-বাড়িয়া কান্দিরপাড় এলাকায় মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী হিসেবে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায় কর্তৃক তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়াত মাদরাসা দখল করার জন্য মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকগণের ‍উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয় ভাবে কাফের ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী।

মাওলানা নিজামপুরী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলার সাথে আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। আমাদের আন্দোলনে কখনো কোন ধরনের উশৃংখলা- বিশৃঙ্খলা বা ভাংচুর হয়নি। কিন্তু গতকাল বি-বাড়িয়াতে কাফের কাদিয়ানীরা বিনা উস্কানীতে কওমী মাদরাসার নিরীহ ছাত্র ও আলেমদের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সমস্ত বিষয় অকাট্যভাবে প্রমাণিত, যুগ-পরম্পরায় প্রতিষ্ঠিত এবং একজন সাধারণ মুসলমানের নিকটও যে বিষয়গুলি অজানা নয়, এমন একটি বিষয় হলো খতমে নবুওতের আকীদা অর্থাৎ আমাদের নবীজীর পর আর কোনো নবী নেই। নতুন করে কোনো নবী আর আসবেন না। নবুওতের ধারা নবীজীর উপর এসে চিরতরে সমাপ্ত হয়ে গেছে। তাওহীদ, রেসালাত, কেয়ামত-আখেরাত, কুরআন মজীদ, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ইত্যাদির অস্বীকারকারী যেমন স্পষ্ট কাফের, তেমনিভাবে খতমে নবুওতের আকীদা অস্বীকারকারীও নিঃসন্দেহে কাফের। সিদ্দীকে আকবর রা.এর যামানা থেকে আজ পর্যন্ত সকল উম্মতের এ ব্যাপারে একমত যে, নবীজীর পর নতুন নবুওতের দাবী উত্থাপনকারী এবং সেই দাবী কবুল করে তার উপর ঈমান আনয়নকারী কেউই মুসলমান নয়। যদি কেউ মুসলমান হওয়ার পর খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করে, তাহলে সে ইসলাম থেকে খারেজ হয়ে যাবে এবং মুরতাদ ও ধর্মদ্রোহী সাব্যস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের ঈমান বিধ্বংসী এই কাদিয়ানী সম্প্রদায় আমাদের কলিজার টুকরো নবী সা. এর খতমে নবুয়তকে অস্বীকার করে দেড়’শ কোটি মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। এই কাদিয়ানীরা কাফের। যারা কাদিয়ানীদের কাফের মনে করবে না তারাও কাফের। মুসলমানদের ঈমান বিধ্বংসকারী কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

মাওলানা নিজামপুরী আরও বলেন, ইদানিং কাদিয়ানীদের দুঃসাহস বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে মুসলমানদের উপর কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বি-বাড়িয়ার হামলাও এর একটি অংশ। গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ইংরেজদের খুশি করতে যে ভাবে মুসলমানদের উপর উঠে পড়ে লেগেছিল তদ্রূপ বর্তমান তাঁর ভ্রান্ত অনুসারীরাও ইহুদী-খৃস্টানদের খুশি করতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করুন। এবং হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনুন। অন্যথায় পুরো দেশ উত্তপ্ত ও তৌহিদী জনতাকে নিয়ে দেশব্যাপী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।