ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ইসির পদত্যাগ করা উচিত : গাজী আতাউর রহমান

ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ | ডেস্ক রিপোর্ট



ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ভোটারদের ভোট দিতে না দেয়া, এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া, ভোটদানে বাধা, ইভিএম ব্যবহার করে ডিজিটাল কারচুপি এবং আগের রাতে এজেন্ট না দিতে হুমকির কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ করা উচিৎ।

গতকাল রাতে দলটির একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি করে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারি মহাসচিব আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ মেয়রপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, উত্তর মেয়রপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মুহা. বরকত উল্লাহ লতিফ, মুফতী শরীফুল ইসলাম।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে অপেক্ষমাণ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, আপনি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ইজ্জত নিয়ে আপনি চলে যান। তবে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যান। আপনি একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া দেশের সব দলকে নিষিদ্ধ করে যান।

তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও এবার নির্লজ্জ ভোট হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়েছি। এই নির্বাচন পরিচালনার ব্যাপারে আপনার দায়-দায়িত্ব আছে। আশা করবো আপনি আর এই জায়গায় থাকবেন না। যেহেতু আপনার মান-ইজ্জতের প্রশ্ন, অতএব, আপনার এই জায়গায় থাকাটা আমরা সমীচীন মনে করছি না। এই গ্লানি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে থাকাটা মোটেও উচিত হবে না।

সিইসির উদ্দেশে আতাউর রহমান বলেন, ইভিএমে আপত্তি ছিল, এরপরও আপনারা চাপিয়ে দিয়েছেন। মানুষ ভোট দিতে এলো না। কেন এলো না? প্রথমত, ইভিএমের বিষয়ে ভোট দেওয়া তারা জানে না। শিক্ষা কম, অভিজ্ঞতা কম, তাই যায়নি। এরপর আগের রাতে আমাদের এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, আমরা হতাশ, জনগণ হতাশ। আসলে বাংলাদেশের মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে তাহলে রাজনীতির দরকার নেই। আর রাজনৈতিক দলেরও প্রয়োজন নেই। একদলীয় শাসন করে দিলেই হয়। ভোট দিতে না পারলে রাজনৈতিক দলের কেন প্রয়োজন? এই কথাগুলো আপনাদের কাছে বলার জন্য এসেছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে নির্বাচন উৎসব হলেও এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আসতে উৎসাহিত করার ঐতিহ্য থাকলেও আজ আমাদের এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখার নির্মম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো। ভোটকেন্দ্রে আমাদের মেয়র প্রার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়া, সরকারদলীয় লোকজনের আতঙ্ক ছড়ানোর মহড়া, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও মারধর করাসহ নানা অনিয়মে নির্বাচন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।