ভারতীয় আধিপত্যবাদে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

 মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী | গবেশক, রাষ্ট্রচিন্তক



‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের এক বড় সমস্যা। দেশভাগের পর থেকেই এ সমস্যার বিস্ফোরণ বাড়ছে ঘাতকের গতিতে। দেশভাগের এক শিকার পাকিস্তানে মুসলিম জাতীয়তাবাদের বাধার কারণে ভারতীয় আধিপত্যবাদ শেকড় গাড়তে না পারলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ: ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপে ভারতীয় আধিপত্যবাদের থাবা বিশাল ক্ষতের সৃষ্টি করে যা আজও দৃশ্যমান। বর্তমান বাংলাদেশ তৎকালীন পাকিস্তানের অংশ থাকায় প্রকাশ্যে ভারতীয় আধিপত্যবাদ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারলেও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের গা-ঢাকা দেয়া সেক্যুলার ও বামপন্থীদের মাঝে প্রভাব সৃষ্টিতে তৎপর হয়। মূলত এরাই পাকিস্তানের দুই অংশের উত্তেজনার সময় ভারতের পক্ষ হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ আন্জাম দেয়। বলাবাহুল্য, ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়েও ভারতীয় আধিপত্যবাদ সুনিপুণভাবে কাজ করে পাকিস্তান-বিভক্তিকে বাস্তব-রূপ দান করে। এখনও ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের কাছে যেমন বিজয়-দিবস তেমনি ভারতীয়দের কাছে পাক-ভারত যুদ্ধে ভারতীয়দের বিজয়-দিবস। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশ হয়ে ওঠে ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ভারতীয় আধিপত্যবাদ মূলত এ দেশকে শাসন করে। উক্ত মেয়াদে পঁচিশ বছরের বিতর্কিত গোলামীচুক্তি বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের ভয়াল-থাবার অকাট্য দলিল। ভারতীয় আধিপত্যবাদের সাথে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয় মূলত স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারে সরসরি ইন্দিরা গান্ধীকে অনুরোধ জানানো থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদের শ্যেনদৃষ্টি পড়ে। এরপর ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ইসলামী দেশের সম্মেলনে (ওআইসি) তাজ উদ্দীন আহমদ ও ভারতীয় প্রশাসনের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে যোগ দিলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়। ভারতীয় আধিপত্যবাদ যখন দেখলো, স্বাধীনচেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি বিশেষ অংশের সহযোগিতায় শেখ মুজিবুর রহমানকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত শুরু হয়। বলতে হয়, সে সময়টাতে প্রশাসনে শেখ মুজিবুর রহমানের সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ বলতে যা বোঝায়, তা ছিলো না। এরই ফলশ্রুতিতে মার্কিন গোয়েন্দাসংস্থা সিআইএ, ভারতীয় গোয়েন্দাসংস্থা ‘র’-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারের নৃশংসভাবে নিহত হন।

পঁচাত্তরের পরিবর্তনের পর ভারতীয় আধিপত্যবাদ তাদের পছন্দনীয় অংশকে ক্ষমতায় আনতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের হোঁচট খায় এবং ৭ই নভেম্বরে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে মেজর জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্বভার হাতে নিলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ চরমভাবে মার খায়। ভারতীয় আধিপত্যবাদকে রুখতে প্রেসিডেন্ট জিয়া উপস্থাপন করেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন। এটাই তাঁর গঠিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মূল প্রাণ। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের মূলশত্রু হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। প্রেসিডেন্ট জিয়া বারবার বলেছেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ টিকে থাকলে এ দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে।হাল আমলের আপোষকামী বিএনপি নেতারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন থেকে বিচ্যুত হবার কারণে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দরখাস্ত নিয়ে দিল্লীতে ভিখ মাগতে হয়েছে। বিপরীতে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের মোড়কে দেশের সেক্যুলারচক্রের মাধ্যমে নিজেদের চক্রান্ত বিস্তারের পথকে সচল রাখে। এখনও সে ধারা বহমান।

বর্তমান আওয়ামী লীগের আমলে দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ যে কতো কুৎসিৎ ও ভয়ালভাবে ঘাঁটি গেড়েছে তা অনুমিত হয় এ বছরের গত অক্টোবর মাসে শেখ হাসিনার বিতর্কিত ভারত-সফরে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে আসার অভিযোগ ওঠার পর। সে মাসের ৫ তারিখ বিকালে ঢাকার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দেশপ্রেমিক তরুণ প্রতিভাবান ছাত্র আবরার ফাহাদ তার ফেইসবুকে উক্ত সফরে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার উপর একটি স্ট্যাটাস দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানকার ছাত্রলীগের কিছু ছাত্রনেতা ৬ অক্টোবর রাতে নির্মমভাবে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে। এতে পুরো দেশ আলোড়িত হয়ে ওঠে। শুধু নীরব থাকে আওয়ামী লীগ ও সেক্যুলার জগৎ। এমন কি খোদ শেখ হাসিনাও দায়সারাভাবে একটি বক্তব্য দিয়ে তার দায় শোধ করার চেষ্টা করেন। এমন একটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক বক্তব্যও আসেনি। সবাই জানেন, এর আগে মাযলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ছাত্রলীগের হাতে বার কয়েক নির্যাতিত হয়ে গুরুতরভাবে আহতও হয়েছেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলায় তার বিচারিক কারাদণ্ডও হয়েছে।

ইসকন নিয়ে আলোচনা দেশে কম হয়নি। প্রিয়া সাহা নামের এক ইসকন-সদস্যার আমেরিকায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র্রদ্রোহ পর্যায়ের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশের পরও সরকার কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। উপরন্তু শেখ হাসিনা লন্ডন থেকে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো আরও ক’কদম এগিয়ে প্রিয়া সাহা দেশে এলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেয়ার ঘোষণা দেন। অথচ সবাই জানেন, প্রিয়া সাহা ইসকনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ইসকনের সদস্যের তালিকায় ভারতের গুজরাটের কসাই খ্যাত নরেন্দ্র মুদীর নামও রয়েছে। সেই প্রিয়া সাহার এমন গুরুতর অপরাধের কোন শাস্তি শেখ হাসিনা দিতে পারেনি। অথচ এর চেয়ে বহু লঘু কারণে মাহমুদুর রহমান ও আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফার শহীদুল ইসলামকে গুরু শাস্তি দেয়া হয়। এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ কতো প্রকটভাবে শেকড় গেড়েছে।

ইদানিং ঢাকসু ভিপি নুরুল হক নুরুর উপর বারবার ঘটিত হামলা বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিষয়টিকে জোড়ালোভাবে ভাবাচ্ছে দেশজুড়ে। এখানেও প্রতিটি অভিযোগের তীর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের দিকে। সর্বসাম্প্রতিক নুরুর সরকার এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী বেশ কিছু বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেশের সচেতন মানুষকে আলোড়িত করেছে। বিরোধীদলগুলো যেখানে অবশ হয়ে পড়ে আছে সেখানে ভিপি নুরুর মতো স্বতন্ত্র ছাত্রনেতাদের সাহসী ভূমিকা আমাদের কাছে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। হাল আমলে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি ভারতীয় লবি ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না। এর মধ্য দিয়ে দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের থাবা কতো প্রকট আকার ধারন করেছে–তা এখন সচেতন ও দেশপ্রেমিকমহলকে প্রবলভাবে ভাবাচ্ছে। প্রশ্ন জাগছে, দেশ কি এখন প্রকৃতই স্বাধীন?

দেশের ইসলামপন্থীরাও ভারতীয় আধিপত্যবাদ নিয়ে এখন কবরস্থানে শায়িত। আমার এখনও মনে আছে, বাবরী মসজিদ শহীদ করার পর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও বাংলাদেশ সফরে আসতে চাইলে মরহুম শাইখুল হাদীস মাওলানা আজীজুল হকের নেতৃত্বে দেশের কওমী আলিম-সমাজ তীব্র প্রতিবাদ করে বিমান বন্দর ঘেরাওয়ের হুমকি দেন। ফলে, নরসীমা রাও সফর বাতিল করতে বাধ্য হন। বলাবাহুল্য, সে-সময় আলিম-সমাজ ছিলো অবিভক্ত ও অবিক্রিত। কিন্তু এখন শেখ হাসিনার কথিত ডীলের প্রতিক্রিয়ায় দিন বদলেছে। শাপলার গণহত্যার কথা ভুলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রশংসায় নেমেছে কওমী আলিমদের একটি পরিচিত অংশ। কথিত শোকরানা মাহফিলের নামে শেখ হাসিনার জন্য দেয়া হাইয়াতুল উলিয়ার সংবর্ধনাসভায় ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকার শাপলা-চত্বরে কোন হতাহত হয়নি মর্মে সামরিক সচিবের দেয়া জলজ্যান্ত মিথ্যাকে মাথা পেতে নেয়া এবং বেশরমভাবে শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ উপাধি দেয়া থেকে দেশবাসী বুঝে যায় কারা বিক্রিত আর কারা অবিক্রিত। যে কওমী জগৎ এক সময় সম্মিলিতভাবে ভারতীয় আধিপত্যাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো, তাদেরই একটি অংশ এখন ভারতীয় আধিপত্যবাদের সম্মুখে আত্মসমর্পিত, নীরব, নিশ্চল। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যাপ্রচেষ্টা, আবরার হত্যাকাণ্ড ও ভিপি নুরু এবং তার সহযোগিদের ওপর হত্যাপ্রচেষ্টা নিয়ে উক্ত বিক্রিত অংশটি মুখে আজও কুলুপ এঁটে বসে আছে। তারা কোন প্রতিবাদই করতে পারেননি। তাদের একটাই থিওরী: আওয়ামী লীগ আমাদেরকে টাকা দেয়। ইতিহাসের বিচারে তাদেরকে একদিন দাঁড়াতে হবেই।

২৬শে ডিসেম্বর ২০১৯ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা খবর দিলো, ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের মাসব্যাপী জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান চলবে। তাতে গুজরাটের কসাই খ্যাত নরেন্দ্র মুদীকে শেখ হাসিনা দা’ওয়াত করেছেন। নরেন্দ্র মুদীও বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে। তবে কি আগামীতে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আরও বিষদন্ত নিয়ে গভীর ঘাঁটি গড়তে যাচ্ছে?–এ প্রশ্ন আজ জাতীয় সঙ্কটের। বাংলাদেশের বিরোধীদলগুলো মুদীর এ আপত্তিকর সফর মেনে নেবে? ইসলামপন্থীরাও কি মুদীকে অভ্যর্থনা জানাতে ‘কওমী জননী’র পাশে দাঁড়াবে না কি আদর্শ রক্ষায় মাওলানা আজীজুল হক রহ.-র মতো মুদীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিমানবন্দর ঘেরাওয়ের প্রত্যাশিত কর্মসূচী দেবেন? ঈমানের সেই বাহাদুরি কি তাঁরা দেখাতে পারবেন? ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যে পরিকল্পনা করেছে শেখ হাসিনার সরকার এখনও তাতে সোচ্চার নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিন বললেন, ভারতের কথায় তারা আশ্বস্ত। অর্থাৎ উক্ত বিলের কোন প্রকার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কিন্তু ইতোমধ্যে খবরের কাগজে বেরিয়েছে, রাতের আঁধারে শতশত মুসলিমকে ধরে বিএসএফ বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছে এবং করছে। তবুও আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থের বিপরীতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাছেই নতি স্বীকার করছে।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশের স্বাধীন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা সবাই শঙ্কিত। কী হবে এ দেশের? দেশের প্রতিটি সেক্টরকেই ছলে-বলে-কৌশলে ভারতীয় আধিপত্যবাদের দাসত্বে বেধে ফেলা হয়েছে। দেশের পক্ষে দাঁড়াবে–এমন কাউকে দেখছে না দেশের মানুষ। একটু-আধটু বলাতে আবরার-নুরুদের কী হাশর হয়েছে–তা দেশের আকাশে জ্বলজ্বল করছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের স্বার্ধে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিচারিক কৌশলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ফলত, আমাদের মানচিত্রের আর্তনাদ আজ আকাশে-বাতাসে। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ কি অনিবার্য নয়? কারা দেবে এ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব? না, নিরাশ হবো না এখনই। আমাদের সামনে আছে ভিপি নুরু এবং নুরুর সহযোদ্ধারা। ওরাই পারবে আরেকবার দেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিতে। প্রয়োজন শুধু নুরুদের পাশে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে দাঁড়াবার। আহত নুরদের দেখতে গিয়েছিলেন কওমীদের যে আদর্শিক সৈন্যরা–তাঁদেরকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। যেদিন দেখবো, নুর আর কওমীদের সম্মিলনে এগুচ্ছে এক নতুন মুক্তিযোদ্ধার মিছিল, সেদিনই আমরা ভাববো বাংলাদেশ আবার স্বাধীন হবে ভারতীয় আধিপত্যবাদের রাহুগ্রাস হতে। আসুন, সবাই রুখে দাঁড়াই নুরদের নেতৃত্বে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। এই হোক আমাদের দেশপ্রেমের মাপকাঠি।