‘ভারতের সুপ্রিম কোর্টও কি উগ্র হিন্দুত্ববাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগীর ভূমিকায় নেমেছে’

নভেম্বর ১০, ২০১৯ | ডেস্ক রিপোর্ট


বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট সাম্প্রদায়িক রায় উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র সভাপতি শায়েখে আব্দুল মুমিন ইমামবাড়ি ও মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

তাঁরা বলেছেন, এই রায়ের আইনের ন্যূনতম নীতি অনুসরণ করা হয়নি, বরং এই রায়ে অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য দলীল ছাড়া বেআইনীভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদিদের স্বপ্ন পুরণ করা হয়েছে।

আজ (১০ নভেম্বর) রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জমিয়ত শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেছেন, যে জায়গার উপরে প্রায় পাঁচ শ’ বছর ধরে একটা মসজিদ বিদ্যমান ছিল। এরপর ১৯৯২ সালে উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদিরা সেই মসজিদকে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে ভেঙ্গে দিল। এখন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে দিল, সেখানে মন্দির হবে। এটা কী করে বিচারিক রায় হতে পারে? এটা তো ঘটনা পরম্পরা শত শত বছরের পুরনো একটা ঐতিহ্যবাহী মসজিদকে গায়ের জোরে আইনী রূপ দিয়ে জবর দখলে নেওয়ার সাজানো ষড়যন্ত্র। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সেই ষড়যন্ত্রে শামিল হলো।

বিবৃতিতে জমিয়তের শীর্ষ দুই নেতা আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উত্থাপিত মামলায় অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতেই রায় দিতে হয়। অথচ পাঁচ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের রায়ে আদালাত এসব অপরিহার্য শর্তের দ্বার ধরল না। কারণ, এ যাবত পর্যন্ত কেউ এমন কোন অকাট্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি যে, মসজিদের জায়গায় কোন কালে মন্দির ছিল এবং সেই মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদিদের আবেগকে বিবেচনায় নিয়ে পাঁচ শত বছরের পুরাতন মসজিদের জায়গার মালিকানাকে পরিবর্তনের রায় দিয়ে দিল, এটা অচিন্তনীয়। এতে প্রমাণিত হয়, ভারতের উচ্চ আদালতও এখন ন্যায় বিচার নয়, বরং হিন্দুত্ববাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগীর ভূমিকায় নেমেছে। আমরা আসামের এনআরসি প্রসঙ্গেও ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এমন বিতর্কিত রায় লক্ষ্য করেছি।

জমিয়ত নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ইসলামী শরীয়ত মতে মসজিদ স্থানান্তরের কোন সুযোগ নেই। আর প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নির্বিঘ্ন রাখা ও নিরাপত্তা দেওয়া ভারতীয় সংবিধান মতে রাষ্ট্রের কর্তব্য। ভারতের সুপ্রিম কোটের রায়ে বেআইনীভাবে জায়গার মালিকানা বদলের সাথে সংবিধান কর্তৃক ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গিকারকেও মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা এই রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি এবং এই রায় প্রত্যাহার করে মসজিদ যথাস্থানে বহাল রেখে মুসলমানদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষা দিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় মুসলমানদের ন্যায্য ধর্মীয় অধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার লাভের অধিকার প্রতিষ্ঠার তীব্র আন্দোলনে সকল অন্যায়, আগ্রাসী তৎপরতা ও সাম্প্রদায়িক হিংসার বিষবাষ্পের দেওয়াল ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে।