ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে সরকারের সাথে কাজ করছে জাতিসংঘ

ডিসেম্বর ২, ২০১৯ নিজস্ব প্রতিনিধি

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।

তিনি বলেন, এ জন্য জাতিসংঘের একটি টেকনিক্যাল টিমও কাজ করছে। তারা খুব শিগগিরই সেখানে যাবেন। ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘ বিরোধিতা করছে, এটা মন্তব্য সঠিক নয়।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ডিপ্লোম্যাটিক রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে গাম্বিয়া। গাম্বিয়া তাদের বিরুদ্ধে লড়বে। সেখানের কোর্টে বাংলাদেশের লড়ার সুযোগ নেই।

আইসিসিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধাগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে জাতিসংঘেও এ নিয়ে বক্তব্যও রেখেছেন। মিয়ানমার তখন থেকেই জানে আমরা দু’টি ফ্রন্টে কাজ করছি। এটা একটা অন্যের পরিপূরক। তাই এ নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার বিরাণ দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১০ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকার বলছে, রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য সব ব্যবস্থাই ভাসানচরে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে গেলে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প জীবনের চেয়ে ভালো থাকবে তারা। তবে সাগরের ভেতরে জনমানবহীন ওই চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সম্প্রতি ওই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও তারা বলেছেন, স্থানান্তরের বিষয়টি অবশ্যই রোহিঙ্গাদের সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে।