মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামেরিকা-ইরান-আরব সংঘাতের নেপথ্য আসলে কী?

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

মুফতী হারুন ইজহার চৌধুরী | রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তক


সম্প্রতি সাউদিয়ায় শিয়াদের আক্রমণে আমাদের আগের পর্যবেক্ষণটাই এ ছবিতে ফুটে উঠেছে।

শক্তিশালী ইরাক, শক্তিশালী লিবিয়া তাসের ঘরের মত উড়ে গেলেও ইরান কেবল টিকে যায়নি তাকে টিকিয়েও রাখা হয়েছে। অকপটে ইসারাঈলি প্রধানমন্ত্রী নিতানিয়াহু একথা স্বীকার করেই বলেছিলেন;
আরব-ইরান সংঘাতে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থটি ভালভাবেই সুরক্ষিত হচ্ছে।

সাউদিয়ায় যে কোন শিয়াবাদী আক্রমণে আমরা বিচলিত। মুনাফেক দাজ্জাল শাসকচক্রের সমর্থনে নয়, বরং আরব সুন্নি জনগণের স্বার্থে।

আমারা শিয়াবাদী ইরানের ইসরাঈল-বিরোধী নীতি ও তৎপরতার সমর্থক। ইসরাঈল আমাদের এক নাম্বার শত্রু। এবং ইসারঈলের দোসর সুন্নি আরব শাসকগোষ্ঠীকে আমরা ইরানের চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করি বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

কিন্তু বরাবরি সাবধানতার সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে ইরান তার সাফাভী-পারেসান সাম্রাজ্যবাদকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইসলামের মোড়কে। মার্কিন – ইরান সংঘাতকে ইসলামের বাহ্যিক আবরণে বিচার করলে ইরানের মূল ভিশনকে অজ্ঞতাবসত এড়িয়ে যাওয়া হবে। এটা বিপজ্জনক মূর্খতা।

ইরান প্রচণ্ড মাত্রায় একটা আত্মপরিচয় ও জাতীয় চেতনা লালন করে। সে চেতনা পারেসান ঐতিহ্যকে নিওইসলামিজম দিয়ে হাজির করতে একপায়ে খাড়া।

ইরানের সাথে ইয়াহুদীবাদের সংঘাত মূল ইসলামের প্রশ্নে নয়, বরং নিজস্ব জাতীয় চেতনার প্রশ্নে।

তাকিয়্যাহ্ নীতির মাধ্যমে ইরানী বিপ্লবের সময় শিয়াবাদকে গোপন রাখা হয় ইসলামি বিপ্লবের আড়ালে।
এখন বৃহত্তর ইরানী সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারকে আড়াল রাখা হচ্ছে মার্কিন-ইসরাঈল-আরবের সাম্রাজ্যবাদী অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আড়ালে।

আপনি ছবিটি ভালভাবে আবার লক্ষ করুন। এই ছবিতে তিনটি পক্ষকে দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু আত্ তাইফাতুল মানছুরাহ্ বা মুজাহিদনের চতুর্থ পক্ষটি এখানে দেখা না গেলেও
সংঘাতের মূল মেরুকরণ আস্তে আস্তে চলে যাবে সে দিকে। তখন ইরানের মুখোশও উন্মোচিত হবে, দালাল সউদী আমিরাত শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র যেভাবে উন্মোচিত হয়ে গেছে।

ইমাম মাহদীর আগমনে শিয়াদের ভুল ভেঙে যাবে, হজরত ঈসার আগমনে যেমন খৃষ্টানদের ভুল ভেঙে যাবে।
এই দুই ইমামের আগমনে অলস চিন্তায় বসে না থেকে আমাদেরকে আমাদেরকে এসব জটিল সংঘাতে প্রজ্ঞা,সাহস আর ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তা ও বাস্তবতাবোধের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।