মসজিদে নামাজ নিয়ে সরকারি নির্দেশনা : যা বলছেন বিশিষ্ট দুই আলেম

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জারিদ বিন ফারুক


করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে নিরাপদ রাখতে মসজিদগুলোতে ইমামসহ ৫ জনের অধিক জামা’আতে নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্যসব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। জুমু’আর জামা’আতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামা’আত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমু’আর জামা’আতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামা’আতে অংশ নিতে পারবেন না।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদ ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘‘আমি মনে করি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক এবং ওলামাদের মতামতের প্রতিফলন রয়েছে এতে। নিয়মিত আযান হবে, একামত হবে, মসজিদ খোলা থাকবে, জামা’আতের সাথে নামাজ হবে, তবে লোকসংখ্যা সীমিত থাকবে।

তিনি বলেন, আল্লামা মুফতী তক্বী উসমানীর ফতওয়া মতে ক্বিরাআত ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করা যাবে। এমনকি দুটি খুতবা তিন মিনিটের মধ্যে সমাপ্ত করা যাবে। বয়স্ক, অসুস্থ, জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তি মসজিদে না এসে ঘরে নামায আদায় করলে জামায়াতের সওয়াব পাবেন। সংক্রমণ থেকে দুরে থাকার ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা ও আমল রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া লালখান বাজারের নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট আলেম শায়েখ মুফতী হারুন ইজহার চৌধুরী বলেন, ‘‘সর্বোচ্চ সতর্কতার সকল নিয়ম মেনে খুব অল্প সময়ের জন্য জামা’আতে যাওয়াটাই শরীয়াহ সম্মত, যেসব এলাকায় ঘনবসতি সেখানে আরো অধিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা জরুরী। এ সতর্কতা মেনে চলা শরঈভাবে ফরজ, কিন্তু তার জন্য জামা’আতকে ছোট করে পাঁচ বা দশে আনা যাবেনা।’’

তিনি বলেন, ”সংখ্যা কমিয়ে আনাটা যৌক্তিক, তবে সকল মসজিদে ৫/১০ এর মধ্যে সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া ঠিক না। কেননা এটা আপেক্ষিক, মসজিদের আয়তন, এলাকার পরিবেবশগত অবস্থা এবং মুসল্লীদের শারীরিক অবস্থা সমান না। তাই এখানে মুসল্লীর সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া ঠিক না।’’

শায়েখ মুফতী হারুন ইজহার বলেন, ‘‘তবে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ যদি বেশি সৃষ্টি হয়, তখন এমন বাধ্যকতার জন্য সালাত ঘরে আদায় করাটা উজর হিসেবে গণ্য হবে।’’