মসজিদ খুলে দেওয়ায়র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন আল্লামা বাবুনগরী

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবি ও জুমার ও এতেকাফ জন্য মসজিদ খুলে দেওয়ায় সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ৬ ই মে বুধবার সন্ধায় সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,মসজিদ মহান আল্লাহ তায়া’লার ঘর। পরকালের বাজার, বেহেশতের বাগান। রহমত,বরকতের পবিত্রময় স্থান। পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট শান্তি ও নিরাপত্তার জায়গা মসজিদ। মুসলমান মসজিদে গেলে প্রশান্তি লাভ করে।কোন অবস্থাতেই মসজিদ বন্ধ রাখা যায় না।

করোনা ভাইরাসের কারণে মসজিদ বন্ধের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর থেকেই আমি মসজিদ খোলা রাখার কথা বলে আসছিলাম। স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মসজিদ খোলা রাখা ও জুমার নামাযের জন্য দাবী জানিয়ে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে আমি একাধিক বিবৃতিও দিয়েছিলাম। অবশেষে দীর্ঘদিন মসজিদ বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত করে দেওয়ায় সরকার, ধর্ম মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন,পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ,তারাবী ও জুমার জন্য যেভাবে মসজিদ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে আমরা সরকারের নিকট আশা করবো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ঈদের নামায পড়ার জন্য আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে জাতীয় ঈদগাহ সহ দেশের সকল ঈদগাহে ঈদের নামায আদায়ের সুব্যবস্থা করে দেবেন।

তিনি বলেন,হাদীস শরীফে আছে,হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আযাব-গযব দেখলে সাথে সাথে মসজিদে যেতেন। করোনা ভাইরাসের এই নাজুক পরিস্থিতিতে আমাদেরও উচিত বেশি বেশি মসজিদে গিয়ে আল্লাহর তায়ালার নিকট কায়মনোবাক্যে দুআ কান্নাকাটি করে এই গজব থেকে পানাহ চাওয়া। এখন থেকে নিয়মিত পাঞ্জেগানা, জুমা ও তারাবিতে আমরা উপস্থিত হবো।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, পবিত্র কোরআনের সঙ্গে রমজানের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। এ মাসে কোরআনের চর্চা হয়, তেলাওয়াত হয় এবং দেশের হাজার মসজিদে তারাবি নামাজে কোরআন খতম করা হয় । পবিত্র কুরআনের আলোকে জীবন গঠনের একটা প্রশিক্ষণ হয় মাহে রমজানে। তারাবীর নামাযে কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতের যেই পরিবেশ রমজান মাসে হয়,তা বছর জুড়ে হয় না। করোনা ভাইরাসে কারণে মসজিদ বন্ধ থাকায় যেসব মসজিদে সুরা তারাবি বা খতমে তারাবীর আয়োজন করা হয়নি রমজানের এই বাকি দিনগুলোতে সেখানে তারাবির আয়োজন করে রমজান মাস ইবাদাত বন্দেগীর মধ্যে কাটানো চাই। তারাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

হাদীস শরীফে আছে,হযরত আবূ হুরায়রা (রাদি.) থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীর নামাজ পড়বে তার পূর্ববর্তী গোনাহ সমূহ মাফ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন,মাহে রমজানে আল্লাহ তায়া’লার রহমতের দ্বার উন্মুক্ত হয়। এ মাসে বেশি বেশি ইবাদাত করতে হবে। রমজানের অন্যতম একটি ইবাদাত এ’তেকাফ। এ’তেকাফ সম্পর্কে হাদীসের কিতাব কানযুল উম্মালে আছে,যে ব্যক্তি মাহে রমজানের(শেষ) দশ দিনের ই’তেকাফ পালন করবে, তার এই আমল (সওয়াবের ক্ষেত্রে) দুই হজ্জ এবং দুই ওমরার সমতূল্য হবে। তাই হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম পূণ্যের রজনী শবে কদরের তালাশে রমজানের শেষ দশকে আমাদের এ’তেকাফের এহতেমাম করতে হবে। রমজানের রোজা,তারাবীর নামাযে কুরআন তিলাওয়াত,এ’তেকাফ,জুমা ইত্যাদির বরকতে করোনা ভাইরাস সহ যাবতীয় বালা-মুসিবত দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।