মসজিদ খুলে দেয়া নিয়ে ‘শীর্ষ ১৫ আলেমের বিবৃতির’ সমর্থনে আলেমদের নতুন বিবৃতি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


গত ৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে দেয়া বাংলাদেশের শীর্ষ ১৫ জন আলেমের আল্লাহর ঘর মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আজ দেশের ৭০ ঊর্ধ বিশিষ্ট আলেম ও মুফতীগণ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা গত ৮ এপ্রিল প্রকাশিত নিম্নোক্ত বিবৃতির সাথে একমত পোষণ করেন।

করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে পরিত্রানের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ প্রশংসনীয়। তবে মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা নির্ধারণের কারণে বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তালা লাগানো, ইমাম-মুআজ্জিন, মুসল্লিদের হয়রানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ওলামায়ে কেরাম বলেন, কাঁচা বাজারগুলোতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জনসমাগমের বৈধতা থাকলে আল্লাহর ফরজ বিধান জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য অজু ও পবিত্রতার সাথে স্বল্প সময়ে সাধারণ মুসল্লীদের মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ও সংখ্যা নির্ধারণ যুক্তিসঙ্গত নয়।

ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, আল্লাহর বিশেষ রহমত অর্জন এবং আল্লাহর গজব করোনা মহামারী থেকে মুক্তি লাভের জন্য সংখ্যার শর্ত তুলে দিয়ে সীমিত সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানাচ্ছি। এ মহৎ উদ্যোগ আল্লাহর রহমতকে তরান্বিত করবে এবং দেশ ও জাতির জন্য কল্যান বয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে খালেস দিলে তাওবা-এস্তেগফার, নামাজ-রোজা, দোয়ায়ে ইউনুস সহ অন্যান্য দোয়া অব্যাহত রেখে সবধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলার জন্য তাঁরা সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

বিবৃতির প্রতি সমর্থনকারী বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন  শায়খুল হাদিস মাওলানা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী। শায়খুল হাদিস মুফতী আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড, ঢাকা। শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। মাওলানা আব্দুল হামিদ, পীর সাহেব মধুপুর। মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া, গাজিপুর। মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর। মুফতী ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতী লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা। মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর। মাওলানা মুফতী কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম। মাওলাান আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। শায়খুল হাদিস মাওলাানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আই টি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ। মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ানগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতী মহিবুল হক, মুহতামিম, দরগাহ মাদরাসা সিলেট। মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী। মুফতী মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা। মুফতী শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা। মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী। মুফতী কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা। মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী। মাওলানা যাকারিয়া নোমান, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম। মুফতী গোলাম রব্বানী, নিলফামারী। মুফতী নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ। মুফতী ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতী আবুল হাসান, রংপুর। মুফতী বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা। মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর। মুফতী রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতী গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা। মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ। মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর। মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ। মুফতী মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা। মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ। মুফতী লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর। মাওলাান ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ। মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা। মুফতী শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী। মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা। মুফতী সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা। মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ। মুফতী সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতী হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ। মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী। মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা, বরিশাল। মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর। মুফতী শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতী রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতী বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী। মুফতী রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতী জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতী আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতী আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া। মুফতী মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতী ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর। মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.। মুফতী শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ। মুফতী আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ। মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী। মুফতী আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল। মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী। মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা। মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার। মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী। মুফতী আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী। মুফতী আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতী , জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ। মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর। মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর। সহ আরো অনেক ওলামা ও মুফতীয়ানে ইজাম।

উল্লেখ্য গত ৮ এপ্রিল “মসজিদ উম্মুক্ত করে দিন” শিরোনামে নিম্নোক্ত শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন, চট্রগ্রাম বাবুনগর মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর সহকারি মহাপরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও প্রধান মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, বারিধারা মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গিচরের মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, সাবেক মন্ত্রী মুফতী ওয়াক্কাস, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতী মুবারকুল্লাহ, মারকাজুল উলুম খুলনার মহাপরিচালক মুফতী গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস মাওলানা সোলায়মান নোমানী, শায়খুল হাদিস মাওলানা ইসমাঈল বরিশালী, শায়খুল হাদিস মাওলানা শেখ আজীমুদ্দীন, জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতী মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, শায়খুল হাদিস শাইখ নাসিরুদ্দিন ও মুফতী ওমর ফারুক বিন মুফতী নুরুল্লাহ।

ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, যেহেতু সংখ্যা নির্ধারণ ছাড়া হাট-বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি খোলা আছে, তাই মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ও আল্লাহর রহমতের আশায় শর্তহীনভাবে মসজিদ উন্মুক্ত রাখাই যুক্তিযুক্ত ও ঈমানের দাবী। আশাকরি, শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও মুসলিম জনতার এ প্রাণের ও ঈমানের দাবীর প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হবেন।