৩০০০ কোটি টাকার স্যাটেলাইট আছে, চিকিৎসকদের বাঁচানোর সরঞ্জাম নেই কেন?

ডক্টর তুহিন মালিক | আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ


আপনাদের মনে আছে, রানা প্লাজায় আটকে থাকা গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য বাসাবাড়ি ও দোকান থেকে রড কাটার যন্ত্র চেয়ে সাহায্য করতে সেদিন জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলো উদ্ধারকর্মীরা। হায়রে দেশ! রাষ্ট্রের কাছে সামান্য কয়েক হাজার স্কয়ার ফিট ভবনের রড কাটার যন্ত্র পর্যন্ত নেই!

রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ে পাম্পের পরিত্যক্ত পানির পাইপে পড়ে যায় ৪ বছরের শিশু জিহাদ। জিহাদকে উদ্ধার করতে না পারলেও সেদিন তার শোকার্ত বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে। সেদিন সরকার পাইপের ভেতর ক্যামেরা পাঠিয়ে টিকটিকি পেয়েছিল। অথচ কোন মানুষ পায়নি। অথচ তখন সাধারণ মানুষই এসে বাচ্চাটির লাশ উদ্ধার করে। হায়রে দেশ! রাষ্ট্রের কাছে কয়েক ফিট পাইপের নীচে আটকে পড়া শিশুকে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নেই! ওয়াসার খোলা পাইপ ঢেকে রাখার জন্য কোন ঢাকনা নেই!

বনানী এফ আর টাওয়ারে যখন আগুন লাগে। তখন গোটা জাতি অবাক বিস্মিত হতে নিজেদেরকে নিঃস্ব আর অসহায় দেখে। যখন দেখে ২২ তলা ভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এমন একটা মই (ল্যাডার) আমাদের নেই!

এই রাষ্ট্র কোন কিছুরই দায় নেয় না৷ স্যাটেলাইট, আতশবাজি আর চাপাবাজিতে আলোকিত এই রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের জীবনের অতি সাধারণ সুবিধা বা সেবাটুকু দিতেও আজ আর সক্ষম নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও জানে যে, কয়েক দিনের মধ্যেই সবাই এগুলো ভুলে যাবে। অর্থাৎ পরবর্তী বিপদ হবার আগে পর্যন্ত। রাষ্ট্র জানে, গণভবন নামক এক ম্যাজিকাল ‘সান্ত্বনা ভবন’ রয়েছে আমাদের। যেখানে রাষ্ট্রের সব অবহেলা আর অক্ষমতায় পরিনত হওয়া লাশগুলোর পরিবারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে সান্ত্বনা! আর অভাগা জাতি জানেই না যে, এগুলো রাষ্ট্রের অবহেলা বা অক্ষমতাজনিত কোন মৃত্যু নয়। এটা একেকটা সুস্পষ্ট রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড।

যে রাষ্ট্র মহাকাশে ৩০০০ কোটি টাকার স্যাটেলাইট পাঠাতে পারলেও একজন চিকিৎসকের জীবন বাঁচাতে একটা আইসিইউ এম্বুলেন্স দিতে পারে না! একজন নাগরিকের জীবন বাঁচানোর জন্য আইসিইউ এম্বুলেন্স পেতে তাকে কতবড় ভিআইপি হতে হবে? রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি কিংবা দলের সাধারন সম্পাদক ছাড়া আর কোন কোন ক্যাটাগরিতে দেশের একজন নাগরিক তার জীবন বাঁচানোর জন্য ‘উন্নত’ ও ‘দ্রুতগতির’ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাবেন? যে রাষ্ট্র দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসককে পর্যন্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দিতে পারে না! সেই রাষ্ট্র পারে শুধু ‘গণভবনের সান্ত্বনা’ আর লাশের বিনিময়ে নগদ কিছু অর্থ সাহায্য ও এতিমের পরিবারের জন্য একগুচ্ছ সমবেদনা দিতে! এ যেন ‘গরু মেরে জুতা দান, আর মানুষ মেরে সান্ত্বনা দান’ এর মতই!

ফেসবুক থেকে নেয়া