মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ (রহ.) : জীবন ও কর্ম

সাঈদ আহসান খালিদ


শ্যামল পাহাড়ঘেরা ও ডলু নদীবিধৌত উর্বর পললে গড়া ঐতিহ্যবাহী সাতকানিয়া উপজেলা যেসব যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীর জ্ঞান-প্রজ্ঞা, কর্ম আর অবদানে ভাস্বর, ডা. মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেব (রহ.) সেসব প্রথিতযশা ব্যক্তিদের পুরোধা। ১৯২৫ সনে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাবুনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এ কৃতী সন্তান জন্মলাভ করেন। পিতা আবদুল ওয়াদুদ মিয়াজি আর মাতা রহিমা খাতুনের ঘরে জন্ম নেওয়া মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেব শৈশবেই তার পিতা-মাতাকে হারিয়ে পিতৃৃ-আশ্রয় আর মাতৃ-ছায়া থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু আশৈশব ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, আর সংগ্রামের ঝান্ডাবাহী এ মনীষী জীবনযুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করেননি, হতোদ্যম না হয়ে তিনি এতিম অবস্থাতেই দ্বীনি ইলম অর্জন করেন।

শিক্ষা জীবন
মৌলভী বদিউর রহমানের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভের মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি অসাধারণ মেধা আর কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন। চুনতি হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসা হতে যথাক্রমে ১৯৪৬ এবং ১৯৪৮ সালে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে আলিম ও ফাযিল পাশ করেন। ১৯৫০ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলুম মাদরাসা হতে ১ম বিভাগে কামিল (হাদিস) উত্তীর্ণ হন। শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এ কৃতী সন্তান মির্জাখিলের মুখলেছিয়া রহমানিয়া মাদরাসা, হাটহাজারী মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা, বরিশালের ছারছীনা আলীয়া মাদরাসা এবং সাতকানিয়া আলীয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন।

শিক্ষকতা জীবন
আজন্ম ইলমে-দ্বীনের খিদমতে নিবেদিত এ মনীষী ছাত্র জীবন শেষ করেই সাতকানিয়াস্থ বাজালিয়া হেদায়েতুল ইসলাম মাদরাসায় হেড-মাওলানা হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৫ বছর পর তিনি সাতকানিয়া আলিয়া মাদরাসায় সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সুদীর্ঘকাল তিনি শিক্ষকতার মহান ব্রতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। পরবর্তীতে তাঁকে একই মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং ১৯৯৬ সালে প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা, সুনাম আর কৃতিত্বের সাথে স্বীয় দায়িত্ব পালন করেন। সাতকানিয়া আলীয়া মাদরাসায় তাঁর অসাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা আর কর্মনিপুণতার কারণে অবসর পরবর্তীকালে তাঁকে ‘রেক্টর’ পদে নিয়োগ করা হয়। তিনি সাতকানিয়া থানার দেওদীঘি কাসেমুল উলুম কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম এবং এই মাদরাসার মুহতামিম ও ছদরে মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়ার সাবেক মুহতামিম হযরত হাজী ইউনুছ সাহেব (রহ.) এর বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

চিকিৎসা সেবা
এ কৃতী ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড, ঢাকা এর রেজির্স্টাড চিকিৎসক হিসেবে ১৯৭৭ সাল হতে আমৃত্যু সাতকানিয়ায় চিকিৎসা-সেবা প্রদান করে গেছেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ডা. মাওলানা হাবীবুল্লাহ সাহেবের দক্ষতা, প্রজ্ঞা আর সুনাম ছিল কিংবদন্তীতুল্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আর জনপ্রিয়তা আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সীমানা স্পর্শ করেছে। সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তানেও ছিল তাঁর অনেক রোগী। চিকিৎসা সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি বেশ কয়েকটি পুরষ্কার, পদক আর সংবর্ধনায় ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশ হোমিও চেতনা পাঠক ফোরাম তাঁকে ২০০৪ সালের হ্যানিম্যান পদকে সম্মানিত করে। এক জন সফল চিকিৎসক হিসেবে ২০০৩ সালে তিনি Bangladesh Homoeopathic Medical Association কর্তৃক গুনী চিকিৎসক হিসেবে সংবর্ধিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সাতকানিয়া উপজেলা সদরে তাঁর নিজস্ব হাবীবিয়া হোমিও ফার্মেসীতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে গেছেন। ডা. মাওলানা হাবীবুল্লাহ সাহেব বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক এসোসিয়েশন এর সাতকানিয়া থানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আধ্যাত্মিক জীবন
ডা. মাওলানা হাবীবুল্লাহ সাহেব ছিলেন দ্বীনদার, পরহেযগার ও সুন্নাতের পাবন্দ। তিনি দেওবন্দী চিন্তা-চেতনা ও মাসলাকের অনুসারী ছিলেন। হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ও আল্লামা শিব্বির আহমদ ওসমানী (রহ.) এর ভক্ত ও অনুরক্ত হওয়ায় সর্বদা ‘তাফসীরে আশরাফী’ ও ‘তাফসীরে ওসমানী’ অধ্যয়ন করতেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুমে অধ্যয়নকালীণ মুফতিয়ে আযম আল্লামা ফয়জুল্লাহ (রহ.) এর সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। সময় পেলে হযরতের সুহবতে সময় কাটাতেন। সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর বাংলাদেশী অন্যতম খলিফা, চট্টগ্রাম দারুল মাআরিফের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা.) ২০১৮ সালে ডা. মাওলানা হাবীবুল্লাহ সাহেবকে খিলাফত দান করেন।

পারিবারিক জীবন
সমাজ বিনির্মাণ আর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক জীবনও সাফল্যে বিভামন্ডিত। ডা. মাওলানা হাবীবুল্লাহ সাহেবের প্রথম ও দ্বিতীয় সহধর্মিনীর নাম যথাক্রমে মরহুম নূরুন্নাহার বেগম ও শামসুন্নাহার বেগম। তার সুযোগ্য পুত্রগণ হলেন- জনাব মাওলানা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, কামিল (হাদীস), বিএ (অনার্স) এমএ, পিএইচডি, প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ওমরগণি এম.ই.এস.কলেজ, চট্টগ্রাম; মেজো ছেলে মাওলানা মুহাম্মদ জাহিদ হোসেন, হাফিযে কুরআন, দাওরায়ে হাদীস (১ম শ্রেণী, জামিয়া আশরাফিয়া, লাহোর), এমএ (ইসলামি অর্থনীতি, প্রথম শ্রেণী), বর্তমানে লাহোরের শরিফ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি ভাষার অধ্যাপক; তৃতীয় ছেলে মুহাম্মদ নাজিম হোসেন, হাফিযে কুরআন, মুজাব্বিদ মাহির, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, চতুর্থ ছেলে জনাব মাওলানা ড. হাফেজ সাদিক হোসাইন, দাওরায়ে হাদীস (১ম শ্রেণী), বিএ (অনার্স) এমএ (১ম শ্রেণীতে ১ম), পিএইচডি, বর্তমানে সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মাননীয় রাষ্ট্রদূতের একান্ত সহকারী এবং পঞ্চম ছেলে মাওলানা ডা. মুহাম্মদ ফারুক হোসেন, হাফিযে কুরআন, কামিল (হাদীস), বিএ, ডিএইচএমএস ও ষষ্ঠ ছেলে মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর কন্যা সন্তানদের মধ্যে আছেন ১. মরহুমা রাশেদা বেগম; ২. সাজেদা বেগম; ৩. আরিফা মাহবুবা; ৪. জাকিরা মাহফুজা; ৫. উম্মে সালমা; ৬. রহিমা বেগম এবং ৭. হামিদা বেগম। প্রতিটি মেয়েকে স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে বাংলা, আরবি, ইংরেজি ও দ্বীনি তালিম প্রদান করেন।

মেয়েদেরকে প্রশিক্ষিত করে উচ্চশিক্ষিত ও উপযুক্ত পাত্রে সোপর্দ করেন। জামাতাদের মধ্যে কওমি মাদরাসার মুহতামিম, নায়েবে মুহতামিম, আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। শিক্ষার প্রতি অনুপম দরদ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষানুরাগী হওয়ার কারণে তার নাতি-নাতনীদের মধ্যে আলিম, হাফেজ, এমবিবিএস ডাক্তার, বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, কলেজ শিক্ষক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যাংকার রয়েছেন (ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, ‘এক আলোকিত মানুষের বিদায়’, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ঢাকা, ২৩ মার্চ, ২০২০)।

প্রথম মেয়ে মরহুম রাশেদা বেগমের স্বামী মাওলানা ফুজাইলুল্লাহ সাহেব, সাবেক মুহাদ্দিস, নানুপুর ওবায়দিয়া মাদরাসা, চট্টগ্রাম; দ্বিতীয় মেয়ে সাজেদা বেগমের স্বামী মাওলানা কারি মাহবুবুর রহমান (রহ.), সাবেক মুহতামিম, ডলুকুল নূরিয়া কওমি মাদরাসা, সাতকানিয়া; তৃতীয় মেয়ে আরিফা মাহবুবার স্বামী মাওলানা আবদুল কাইঊম সাহেব, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক, আলিয়া মাহমুদুল উলুম মাদরাসা, সাতকানিয়া; চতুর্থ মেয়ে জাকিরা মাহফুজার স্বামী জনাব মুহাম্মদ বেলাল সাহেব, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ওমান; পঞ্চম মেয়ে উম্মে সালমার স্বামী মাওলানা ড. আহমদ আলী সাহেব, প্রফেসর, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ^^বিদ্যালয়; ষষ্ট মেয়ে রহিমা বেগমের স্বামী মাওলানা আবু তালিব সাহেব, সাবেক কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দর; সপ্তম মেয়ে হামিদা বেগমের স্বামী মাওলানা খোবাইব সাহেব, নায়েবে মুহতামিম, আল জামিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া, জিরি, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেবের নাতি নাতনিদের মধ্যে অনেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উচ্চশিক্ষিত এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদে অধিষ্ঠিত। মাওলানা সুহাইলুল্লাহ, দাওরায়ে হাদিস, ফাযিল, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা, বিএ (অনার্স), এমএ, আল-ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ^বিদ্যালয়, রিয়াদ,। বর্তমানে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন রিয়াদের (শিফা) ইসলামি দাওয়া সেন্টারে দাঈ ও আলোচক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন হাইকোর্টের (Criminal wing) অনুবাদক ; ফাতেমা বেগম, বিএ (অনার্স) এমএ, চট্টগ্রাম মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের অধীন নয়াহাট কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক; নুসরাত হাসিনা, বিএ (অনার্স) এমএ, চকরিয়া মহিলা কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাষক; সাঈদ আহসান খালিদ, এলএলবি (অনার্স) এলএলএম (১ম শ্রেণী), চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও অ্যাডভোকেট, চট্টগ্রাম জেলা আদালত; ডা. আকেফা জাহান সায়মা, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপিএস (শেষপর্ব), ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, অবস ও গাইনী বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল; ডা. আবির হাফিজ, এমবিবিএস (লাহোর), Telehealth Consultant (Icliniq, USA), Medical Lecturer, (Preply,USA); মুহাম্মদ শোয়াইব, হাফিযে কুরআন, দাওরায়ে হাদিস (জামিয়া পটিয়া), ফাযিল (অনার্স), ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয়, সাবেক শিক্ষক, উম্মুল কুরা আদর্শ মাদরাসা, চরতি, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম; তোহফা তাসনিম, বিএসসি (অনার্স) এমএসসি (১ম শ্রেণী), অফিসার, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা; নাজমুস সাআদাত সাকিব, হাফিযে কুরআন, ট্রিপল ই বুয়েট (১ম শ্রেণী), সহকারি ইঞ্জিনিয়ার, পাওয়ার গ্রিড, ঢাকা, মাওলানা মুহাম্মদ যিননূরাইন, দাওরায়ে হাদিস (জামিয়া পটিয়া), তাখাসসুস ফিল লুগাতিল আরবিয়া, (দারুল মাআরিফ, চট্টগ্রাম), শিক্ষক, ইমাম মুসলিম ইসলামিক সেন্টার, কক্সবাজার।

সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বহুল পরিচিত অনেক ব্যক্তি মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেবের রক্ত সম্পর্কীয় নিকট আত্মীয়। হাটহাজারী মেখল হামিউস সুন্নাহ মাদরাসার সাবেক উস্তাদ হযরত মাওলানা গোলাম কাদের সাহেব তাঁর ছোট ভগ্নিপতি। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মাওলানা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী (কামিল হাদীস ও ফিক্হ, ১ম শ্রেণী), বিএ (অনার্স এমএ, ১ম শ্রেণী), পিএইচডি) ; চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, বিএসসি (অনার্স এমএসসি, ১ম শ্রেণী), পিএইচডি, দক্ষিণ কোরিয়া); মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি অব কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিনের পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ ফেলো ড. ইনামুল কবির, বিএসসি (অনার্স) এমএসসি, প্রাণিবিজ্ঞান, ঢাবি, ১ম শ্রেণী), Ph.D (SUNY, New York,USA), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, চকরিয়া শাখার কর্মকর্তা জনাব আমিনুল হক, এমকম (হিসাব বিজ্ঞান), এমবিএ, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স, ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাক্টিশনার (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা); স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম ঔষধ প্রশাসনের সহকারি পরিচালক জনাব হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান, বিএসসি (অনার্স) এমএসসি (ঢাবি); ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা মাওলানা মাহমুদুল হাসান, দাওরায়ে হাদিস (জামিয়া পটিয়া); চন্দনাইশ বিজিসি ট্রাস্ট হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের সার্জন ডা. রাগিবুল ইসলাম, হাফিযে কুরআন, বিডিএস (চবি); ঢাকার আকিজ গ্রুপের সিনিয়র আইন কর্মকর্তা জনাব মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, এলএলবি (অনার্স) এলএলএম; Axon Animal Health এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবদুল্লাহ হারেছ, ডিভিএম, এমএস (মাইক্রোবায়োলজি), সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়; চট্টগ্রাম সাদার্ণ বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক জনাব ইমরান আতিক, বিকম (অনার্স, এমকম, ১ম শ্রেণী); ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক জনাব মাহদি হাসান বিএ (অনার্স) এমএ (১ম শ্রেণীতে ১ম, প্রধানমন্ত্রির স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) তাঁর আপন নাতনি জামাই।

সামাজিক দায়িত্ব পালন
ডা. মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেব সুদীর্ঘকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক, দ্বীনি আর কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি দীর্ঘকাল সাতকানিয়া সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি জিরি কওমি মাদরাসা, পদুয়া কওমি মাদরাসা, নূরিয়া কওমি মাদরাসা ও রাজঘাটা কওমি মাদরাসার মজলিশই শূরার সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও তিনি দক্ষতা আর কর্ম নিপুণতার পরিচয় দেন। ডা. মাওলানা মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেব অসংখ্য প্রথিতযশা আলিম, মুহাদ্দিস আর বরেণ্য উস্তাদের সাহচর্য আর ভালবাসা পেয়েছেন, যাদের দরস এ মনীষীর অন্তরাত্মাকে আলোকিত করেছে। তাঁর উস্তাদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা মাসউদ-উল হক (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, খতিবে আজম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ ও সাহারানপূর, মুফতী ইব্রাহিম (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, শেরে খোদা মাওলানা আবুল হাশেম (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, মীর গোলাম মোস্তফা (রহ) ফাযিল হাটহাজারী, মাওলানা আবুল মোজাফ্ফর (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, আনোয়ার শাহ কাশ্মীরির (রহ) খাস শাগিরদ, মাওলানা দানেশ (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, মাওলানা আবদুস সাত্তার বিহারী (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, মাওলানা ফজলুল্লাহ (রহ) ফাযিল সাহারানপূর, মাওলানা মোহাম্মদ আমিন (রহ) কোলকাতা আলিয়া গোল্ড মেডালিস্ট, মাওলানা ওমর আহমদ ওসমানী (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ, মাওলানা নিয়াজ মাখদুম খোত্তানী আত তুর্কিস্তানী (রহ) ফাযিলে দেওবন্দ প্রমুখ। ডা. মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেব তাঁর জ্ঞান প্রজ্ঞা আর অবদানে অত্র সাতকানিয়া ও চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ধন্য করেন। শ্বেত শ্মশ্রুমন্ডিত মুখাবয়ব, অমায়িক আখলাক আর প্রবাদ প্রতিম চিকিৎসা দক্ষতায় তিনি সমাজের বরণীয় উচ্চাসনে নিজেকে সমাসীন করেন। বিগত ১০ মার্চ, ২০২০ ইং তারিখে এই মহান ব্যক্তিত্ব ডা. মাওলানা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেব সাতকানিয়াস্থ নিজবাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করি এবং দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।

লেখক-
(মরহুম ডা. মাওলানা মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ সাহেবের পৌত্র); এলএল.বি. (অনার্স), এলএল.এম (প্রথম শ্রেণী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাডভোকেট, চট্টগ্রাম জেলা আদালত।