মাহে রমজানের ফজিলত ও তাৎপর্য

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী


খোশ আমদেদ মাহে রমজান। শুরু হলো রহমত-বরকত-মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের মাস। পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস । মানবজীবনে তাকওয়া ও সংযম প্রশিক্ষণের মাস। এ মাস সবরের মাস। চন্দ্রবর্ষ গণনায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে রমজানের দিনগুলো হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। এ মাসে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে বন্দা তার জীবনকে সকল পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে আল্লাহ তায়ালার রিজামন্দী হাসিলে সক্ষম হয়। পবিত্র মাহে রমজান ফজিলত ও মর্যাদা অনেক।

রোজা ফারসি শব্দ। আরবি হচ্ছে সওম। সওমের বহুবচন সিয়াম। সওম বা সিয়ামের অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম বলা হয়, আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়ত করে সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।

ইসলামের দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে মদীনায় রোজা ফরজ করে পবিত্র কুরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। সুরা বাকারা-১৮৩
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। সুরা বাকারা-১৮৫

রমজানের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস:
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদতে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ وَإِنْ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي الصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا
আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীল কাজ করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিসকের সুগন্ধির চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ। সহীহ বুখারী-১৮৯৪
عَنْ سَهْلٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
সাহল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- জান্নাতের রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, সওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। সহীহ বুখারী- ১৮৯৬

আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করে দেয়া হয়। সহীহ বুখারী- ১৮৯৮
أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللهُ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ
আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিস্‌কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাঁকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে। সহীহ বুখারী- ১৯০৪

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- পবিত্র রমযান উপলক্ষে আমার উম্মতকে পাঁচটি বস্তু (বিশেষভাবে) দেয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী উম্মতকে দেয়া হয়নি। যথা- এক. রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মৃগনাভী হতেও বেশি পছন্দনীয়। দুই. সমুদ্রের মাছও রোযাদার ব্যক্তির জন্যে ইফতার পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। তিন. প্রতিদিন রোযাদারের জন্যে জান্নাতকে সুসজ্জিত করা হয় এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দাগণ দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ থেকে মুক্ত হয়ে অচিরেই তোমাদের কাছে আসবে। চার. রমযানে মারদুদ শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, যার কারণে সে ওই সব পাপকাজ করাতে সক্ষম হয় না, যা অন্য সময় করাতে পারে। পাঁচ. রমযান মাসের শেষরাতে রোযাদারগণের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সাহাবাগণ আরজ করেন, এ ক্ষমা কি শবে-ক্বদরে হয়ে থাকে? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, না; বরং নিয়ম হলো, শ্রমিকের কাজ শেষ হলে সে প্রতিদান পায়। মুসনাদে আহমদ; বায়হাকী

রোজাদারের জন্য সুপারিশ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুল সা. করেছেন, রোজা এবং কোরআন কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।

যাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ :
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, মুসাফির নয় এমন সব মুসলমানের ওপর মাহে রমজানের রোজা পালন করা ফরজ। রোজা ৮ শ্রেণী মানুষের ওপর ফরজ।

১. মুসলমান হওয়া। রোজা কোন অমুসলিমের জন্য ফরজ নয়।

২. বালেগ হওয়া। নাবালগের ওপর রোজা ফরজ নয়,

৩. সুস্থব্যক্তি হওয়া। শারীরিক ভাবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার নিয়ম নাই।

৪. সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া। পাগলের ওপর রোজা ফরজ নয়।

৫.স্বাধীন হওয়া। পরাধীন নয় এমন ব্যক্তি হওয়া।

৬.সজ্ঞান হওয়া। অর্থাৎ যিনি রোজা রাখবেন তিনি নিজ জ্ঞানে বা স্বেচ্ছায় আল্লাহর হুকুম পালন করবেন।

৭. মুকিম হওয়া। অর্থাৎ স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া। মুসাফিরের ওপর রোজা ফরজের ব্যপারে মাসয়ালা ভিন্ন। যেমন কষ্টসাধ্য ভ্রমন হলে পরবর্তীতে রোজা আদায়ের বিধান আছে। বর্তমানে সফর অনেক আরামের সাথে করা যায় তাই সফর অবস্থায় একমাত্র কাহিল হয়ে না পড়লে রোজা রাখা উচিৎ।

৮. তাহীরা অর্থাৎ পবিত্রতা। হায়েজ-নেফাস মুক্ত হতে হবে। রোজা সহিহ হওয়ার শর্ত হচ্ছে : ১. নিয়ত করা, ২. মহিলাদের ঋতুস্রাব অর্থাৎ হায়েজ ও নিফাস থেকে মুক্ত হওয়া, ৩. রোজা বিনষ্টকারী বিষয়াদি থেকে দূরে থাকা।

সেহরির ফজিলত :
শেষরাতে সুবহে সাদিকের আগে রোজা রাখার নিয়তে যে খাবার খাওয়া হয় তাকে সেহরি বলে। সেহরি খাওয়া সুন্নত। নবী করিম সা. বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও। কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে। পেটে ক্ষুধা না থাকলে দু-একটি খেজুর খেয়ে নেয়া উত্তম অথবা অন্য কোনো খাবার খেয়ে নেবেন। হেদায়া :খন্ড ১, পৃ. ১৮৬
বিলম্বে সেহরি খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে সামান্য কিছু চা বা পানি পান করলেও সেহরির ফজিলত অর্জিত হবে। হেদায়া : খন্ড ১, পৃ. ১৮৬
সন্দেহ হয়, এমন সময় সেহরি খাওয়া মাকরুহ। ফাতওয়ায়ে আলমগিরি : খন্ড ১, পৃ. ২০১
সঠিক ক্যালেন্ডারে সুবহে সাদিকের যে সময় দেয়া থাকে, তার দু-চার মিনিট আগে খানা বন্ধ করে দেবেন। এক-দু মিনিট আগে-পিছে হলে রোজা হয়ে যাবে, তবে ১০ মিনিট পর খাওয়ার দ্বারা রোজা হবে না। আপকে মাসায়েল : খন্ড ৩, পৃ. ২০১
কিন্তু মনে রাখতে হবে, শুধু ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কেননা অনেক সময় তাতে ভুলও হয়ে থাকে, তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। ঘুমের কারণে সেহরি খেতে না পারলেও রোজা রাখতে হবে। সেহেরি খেতে না পারায় রোজা না রাখা মহাপাপ।
ইফতারির ফজিলত:
রমজানে ইফতারির গুরুত্ব অপরিসীম। সময়মতো ইফতার করার মধ্যেও রয়েছে সওয়াব ও কল্যাণ। ইফতারে রয়েছে আল্লাভীতি, নিষ্ঠা, সংযম এবং প্রবৃত্তি দমনের অপূর্ব নিদর্শন। রাসূলে সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা ইফতারের সময় হওয়ামাত্র ইফতার করে নাও। আমি ওই ব্যক্তিকে সর্বাধিক ভালোবাসি যে ইফতারের সময় হওয়ামাত্র ইফতার করে নেয়। হালাল দ্রব্য দ্বারা ইফতার করা। কারণ এ সময় আল্লাহপাক রোজাদারের দোয়া কবুল করেন।
রাসূল সা. আরো ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে এক রোজাদার ও গাজীর তুল্য সওয়াব অর্জন করবে। আরো বলেছেন, রমজান মাসে কোনো রোজাদার ব্যক্তিকে কেউ যদি সামান্য পানি দ্বারা ইফতার করায় আল্লাহপাক রোজ কেয়ামতে তাকে হাওজে কাওসারের পানি পান করাবেন। যার ফলে জান্নাতে গমন পর্যন্ত তৃষ্ণাই অনুভব হবে না।

ইফতারের দোয়া : হাদিসে ইফতারের সময় পাঠ করার বেশ কয়েকটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য দোয়া হলো-

এক. হজরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবী করিম সা. যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْنَا وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْنَا فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমনা ওয়া আলা রিজকিকা আফতারনা। ফাতাকাব্বাল মিন্না। ইন্নাকা আনতাস্ সামিউল আলিম। (দারে কুতনি : ২৩০৩)

অর্থ : হে আল্লাহ! তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করেছি। অতএব,এ রোজা ও ইফতার তুমি কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সব কিছু শোন ও জান।

ইফতারের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দোয়া হলো-

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلى رِزْقِكَ أفْطَرْتُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।

অর্থ : হে আল্লাহ! একমাত্র তোমার জন্যই রোজা রেখেছে এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।

বিনা কারণে রোজা না রাখার পরিণাম :
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি বিনা কারণে ইচ্ছাপূর্বক রমজানের একটি রোজা ভঙ্গ করেছে, অন্য সময়ের সারা জীবনের রোজা তার সমকক্ষ হবে না। আল্লাহ তাআলা অসুস্থ, সফরকারীসহ অনেককেই রমজানের রোজা না রাখার ব্যাপারেও নসিহত করেছেন। কিন্তু বিনা কারণে কেউ যদি রমজানের রোজা না রাখে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। আর ফরজ রোজা ছেড়ে দেয়া মারাত্মক অপরাধও বটে। কারণ রোজা ছেড়ে দেয়ার অর্থই হলো আল্লাহর নির্দেশের অমান্য করা।

কারণ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসের রোজা ছেড়ে দেয়ায় দু’টি কারণ থাকতে পারে। একটি হলো- হয়তো সে তা ফরজ বলে অস্বীকার করে এবং রোজাকে ইবাদত বলেও স্বীকার করেনা। আর দ্বিতীয়ত- না হয় সে অলসতা করে রোজা রাখা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। যদি কেউ রোজাকে ফরজ হিসেবে অস্বীকার করে বা ইবাদত হিসেবে অস্বীকার করে তবে সে ব্যক্তি মুরতাদ তথা ইসলামকে অস্বীকারকারী।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ফজিলত জেনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।