করোনায় আর্থিক মন্দা : সরকারী প্রণোদনা এবং ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

শায়েখ মুফতী হারুন ইজহার | গবেষক, রাষ্ট্রচিন্তক


করোনা-মন্দায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা; পুঁজিবাদী পরিকল্পনা পুঁজিবাদের জন্য পুঁজিবাদ_হইতে’।

এখন দুটো আলাপ একসাথে চলছে
এক. জীবন
দুই. জীবিকা

করোনা আমাদের জানে হাত দিয়েই ছাড়ছে না, আমাদের মালেও বিপদের ঘনঘটা বাজিয়ে দিয়েছে। পৃথিবী এখন যুগপৎ জানমালের আত্মরক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত।

এমনি পটভূমিতে অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের কর্মপরিকল্পনা এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

আমি তাদের সকলের বক্তব্য শুনেছি। নতুন কোন সুর পাইনি। আমার মূল্যায়নে এটা পুঁজিবাদী পরিকল্পনা পুঁজিবাদের জন্য পুঁজিবাদ_হইতে’।

মুক্তির বিকল্প পথের সন্ধান ছাড়া সরকারগুলোর সমালোচনা একটা চলমান ফ্যাশন। মুসলিম দেশগুলোতে প্রচুর রাজা-বাদশা, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং বড় বড় জ্ঞানী ও উলামা আছেন। কোনটা নেই, সবটাই তো আছে! কিন্তু আসলটা নেই। লিডারশীপ নেই।

বিদ্যমান রাজনীতি আর অর্থনীতির যে বৈশ্বিক কাঠামো সেটা বড়লোক-কালচার ছাড়া কিছু না, আর রাষ্ট্রগুলো কি? এগুলো বৈশ্বিক কাঠামোর বাইরে কিছু না।

পুরো বৈশ্বিক কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্বার্থের উপর। কর্পোরেট কালচারে পুঁজিবাদী শ্রেণির সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় রাষ্ট্র।

করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় দরকার ছিল একটা আমূল-পরিবর্তন ও সংস্কারমূলক প্রণোদনা। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যা করছে তা কেবল বৈশ্বিক মোড়লদের কপি-পেস্ট।

ইসলামের অ্যাপ্রোচ কি?

এটা জটিল কিছু না, সালাতের পরে যে ধর্মে অর্থনীতিক মুক্তিকে দ্বিতীয় স্তম্ভ বলে ঘোষণা দিয়েছে সেখানে ইসলামের কুরআনিক সমাজ ব্যবস্থায় এমন অর্থনৈতিক হার্ড ইমিউনিটি বিরাজ করে যা করোনা ভাইরাসের মন্দার চাপকে সহজেই সামাল দিতে পারে।

ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত রেখে নানা ইসলামি অ্যপ্রোচের তাত্ত্বিক গল্প শুনিয়ে লাভ নেই।

এস্টাবলিশমেন্টের পক্ষে বৈশ্বিক জাল ছিন্ন করা সম্ভব না। লিডারশীপ থাকলে একটা হিম্মতের আশা করা যেতো। তা ছাড়া সিস্টেমেরে ভিতরে সিস্টেমের শুদ্ধিকরণের ইসলামি পরিকল্পনাগুলো গত শতাব্দীতেই ব্যর্থ হয়েছে।

তাহলে আমরা কি করবো?
আমরা জগদ্দল পাথরের মত গেঁড়ে বসা ইকো-পলিটিক্যাল এস্টাবলিশমেন্টের চক্রের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে থাকবো, নাকি তাদের বিরুদ্ধে শুধু হাহাকারে লিপ্ত থাকবো?

এসব সঙ্কটর মূল প্রাণ কিন্তু বৈশ্বিক – তাই একটা বৈশ্বিক লড়াই ছাড়া চূড়াম্ত মুক্তি আসবে না, কিন্তু এ লড়াইয় ঈমানের এমন গরীবি হালতে সকলের পক্ষে সম্ভব না, তবে আপাতত আত- ত্বইফাতুল মানছুরাহ্’র জন্য দুআটা অন্তত করতে থাকুন।

আপাতত আমাদের বৃহত্তর ইসলামি জনগোষ্ঠীর কাজ হবে একটা_ সামাজিক কাঠামো তৈরি করা।

কিন্তু প্রশ্ন আবার উঠে আসে নেতৃত্ব কে দিবে? আমরা তাই ইমরাহ্ আর জামাআহ্’র কথা বলছিলাম জোরেশোরে। তবু হাল ছাড়া যাবে না। দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধিত্বশীল ঈমানদার ব্যক্তিরা নিজ নিজ বলয়ে ইসলামিক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। সালাতকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার করে যাকাতকে অনুরূপভাবে কায়েম করুন। ধনিক শ্রেণিকে মোটিভেইট করুন, হালাল কৃষি ও ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করুন আধুনিক অভিশপ্ত পুঁজিবাদী শিল্প গড়ার চিন্তাকে গৌণ রেখে। ইসলামের মিতব্যয়ীতা আর সেবার মানসিকতা জাগ্রত করুন।

সামাজিক শক্তি অনেক বড় ব্যাপার। কওমী মাদরাসা শত বছর আউট অফ সিস্টেম ছিলো। এটা এখন এস্টাবলিশমেন্টের জন্য নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতা । ঘিলু থাকলে এর কর্তৃপক্ষ জাতিকে সারপ্রাইজ দিতে পারতো।

সঙ্কট বোঝা জরুরী। বাকি সামনের পথচলা সময় ঠিক করে দিবে, ইনশাআল্লাহ্।