মেয়ে হওয়ায় নবজাতককে হত্যা করলো বাবা

জানুয়ারি ১৮, ২০২০ নিজস্ব প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে পরপর তিন মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ায় ৪০ দিনের নবজাতককে হত্যা করেছে বাবা। জিদনী নামের ওই শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বাবা জাহাঙ্গীর সিকদার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মা সীমা বেগম আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘৪০ দিন বয়সী শিশুকে হত্যার দায়ে তার বাবা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বাবা। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

স্থানীয় ও আমতলী থানার পুলিশ সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর ও সীমা দম্পতির সোহাগী (৯) ও জান্নাতী (৩) নামের দুইটি মেয়ে রয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর জিদনী নামের আরেক মেয়ের জন্ম হয়। বাবা জাহাঙ্গীর বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। সে পুত্র সন্তানের আশা করেছিল। তাই মেয়ে শিশু জন্মের পর থেকেই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর মেয়ে জিদনিকে নিয়ে ঘরে শুয়ে ছিল। এ সময় তার স্ত্রী সীমা এবং শাশুড়ি পারুল বেগম ঘরের বাইরে গৃহস্থলী কাজ করছিলেন। শিশুটির মা ও নানি কাজ শেষে রাত ১১টার দিকে ঘরে ফিরে জিদনি ও জাহাঙ্গীরকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার করেন। পরে ঘরের পিছনের ডোবা থেকে কাঁথায় মোড়ানো বিছানাপত্রসহ জিদনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ রাত ৩টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।