“মোদি সরকার যতই ‘মেক ইন ইন্ডিয়ার দামামা বাজাক’, কার্যক্ষেত্রে ভারতের চীন নির্ভরতা বেড়েছে”

ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ‘হুজুগের’ মধ্যেই দেশটির হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারকে বেনজির অপদস্থ করলো কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর। মোদি সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এই সরকার মুখে দেশের মাটিতে উৎপাদনের কথা বললেও আসলে চীনা পণ্য আমদানিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। মোদি সরকার যতই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র দামামা বাজাক, কার্যক্ষেত্রে এই জমানায় ভারতের চীন নির্ভরতা বেড়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে ভারত চীন থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করত, তার চেয়ে মোদি জমানায় অনেক বেশি চীনা পণ্য আমদানি করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক খবরে বলা হয়েছে, নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ভারতে চীনা পণ্য আমদানির একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন রাহুল। যাতে দেখা যাচ্ছে, মনমোহন সিং জমানায় অর্থাৎ ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ভারতের চীনা পণ্য আমদানির হার ছিল ১৪ শতাংশের নিচে। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর তা বেড়ে হয়েছে ১৮ শতাংশ। একটি টুইটে এই পরিসংখ্যান দিয়ে রাহুল বলছেন, “পরিসংখ্যান কখনও মিথ্যে বলে না। মোদি সরকার মুখে বলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র কথা। আর জিনিস কেনে চীন থেকে।”


লাদাখে চীন-ভারত অশান্তি এবং দুই দেশের সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে চিনা পণ্য বয়কটের ‘হুজুগ’ উঠেছে। স্রোতে গা ভাসিয়েছে বিজেটি সরকারও। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে টিকটক, ইউসি ব্রাউসারের মতো জনপ্রিয় চীনা অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা নেহাতই পর্বতের মূষিক প্রসবের মতো। কারণ, প্রতিবছর ভারত ও চীনের মধ্যে যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক লেনদেন হয়, তার উপর এই নিষেধাজ্ঞার সে অর্থে কোনও প্রভাবই পড়বে না। মোদি সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে নজর ঘোরানোর একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করছে বিরোধী শিবির।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন