আলী আজম


আজকাল দেশী-বিদেশী অনেক নামীদামী শিল্পীদের দেখা যায় তারা ইসলামী সঙ্গীতের নামে নানান সময় ইসলামের রীতিনীতির বরখেলাপ করে ইচ্ছেমত মনগড়া সঙ্গীত তৈরি করছে। সেই সঙ্গীগুলোতে তারা আবার ফাঁকেফাঁকে পবিত্র কোরআনের কিছুকিছু আয়াতের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশও টেনে আনছে। সঙ্গীতের সৌন্দর্য ধরে রাখতে তারা সেখানে পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। তারা সেখানে তিলাওয়াতের কায়দা-কানুনের তোয়াক্কাও করছেনা। যা নিঃসন্দেহে পবিত্র কোরআন অবমাননার শামিল। সঙ্গীতগুলোতে তারা কোরআনের অবমাননা করছে দ্বিধাহীনভাবে।

তারা সেখানে আবার অনেকসময় পবিত্র হাদিসের ক্ষুদ্র অংশ জড়িয়ে দিচ্ছে। ফাঁকেফাঁকে দরুদ শরীফও পাঠ করছে। সেই সমস্ত শিল্পীদের গাওয়া নামে ইসলামী সঙ্গীতগুলো আর অনৈসলামিক শিল্পীদের প্রেম, ভালবাসার রোমান্টিক গানগুলোর মধ্যে তফাৎ করাও দুরূহ ব্যাপার। গানের কথা থেকে কিছুটা ইসলামী সঙ্গীত মনে হলেও ভিডিও চিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই এগুলো যে ইসলামী সঙ্গীত। সঙ্গীতগুলো সব আবার বাজনা সম্বলিত। অনেক সময় গায়কদের হাতে গিটারও দেখা যায়। এমনকি যারা এই সঙ্গীতগুলো গাইছে তারা মুসলিম কিনা তা নির্ণয় করাও দুঃসাধ্য ব্যাপার।

তাদের মুখে নেই দাড়ি। গায়ে নেই ইসলামী পোশাক। আর যেসব মঞ্চে এসব নামে ইসলামী সঙ্গীত উপস্থাপন করা হয় সেখানে সারিসারি নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। বিশ্বব্যাপী সেসব মডার্ন শিল্পীদের সুনাম খ্যাতিও চোখে পড়ার মত। তারা একেকটা সঙ্গীতের ভিডিও নির্মাণের পিছনে লক্ষলক্ষ টাকা ব্যয় করে। এমন নামে ইসলামী বিদেশী শিল্পীদের তালিকায় টপে আছেন সামি ইউসুফ, মাহের জাইন প্রমুখ শিল্পীরা। ইতোপূর্বে এসব সঙ্গীত স্রেফ বিদেশীরা গেয়ে আসলেও সেই একই পথ অনুসরণ করে সামনে এগুতে চায়ছে বাংলাদেশের হাতেগনা কিছু তরুণ শিল্পীরাও। যা উদ্বেগের কারণ।

ভাণ্ডারী, মাজারীরাও প্রথম প্রথম এভাবে বাদ্যযন্ত্রের তালেতালে ইসলামী গান গাইতো। ধীরেধীরে তা ভাণ্ডারী কাওয়ালী গান নামে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বৈধতা পেতে থাকে। আর এখন তা মাজারপন্থীদের ধর্ম পালনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে পরিণত হয়েছে। তারা এসব বাদ্যযন্ত্র সম্বলিত গানকেও ইবাদাত মনে করে। এখন যুগোপযোগী ইসলামী সঙ্গীতের মুড়কে যদি বাদ্যযন্ত্র সম্বলিত গান বৈধতা পায়, ভবিষ্যতে এসবকে সবাই সহজে গ্রহণ করবে। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ইসলামে যে বিধিনিষেধ আছে তা অগ্রাহ্য করে বসবে। অবশ্য এসব বিতর্কিত সঙ্গীত জেনারেল শিক্ষিতরাই বেশি সহজে গ্রহণ করছে।

সচেতন আলেম সমাজ কখনো এসব অপসংস্কৃতি গ্রহণ করেনি/করবেও না। তবে সমস্যাটা বাধে সরলমনা ধর্মপ্রাণ জেনারেল শিক্ষিত মুসলমানের সন্তানদের নিয়ে। এমনিতে দেশে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার নামে অপসংস্কৃতির সয়লাব ঘটেছে। দেশের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে প্রতিনিয়ত অপসংস্কৃতির দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সাংস্কৃতিক কর্মীরা নিজেরাই অপসংস্কৃতির বেড়াজালে আটকে পড়ছে। সেখানে যদি আবার বাদ্যযন্ত্র সম্বলিত গানগুলো ইসলামী সঙ্গীত হিসেবে বৈধতা পায় তাহলে অবস্থা কী দাঁড়াবে? একে তো নাচনী বুড়ি, সাথে আবার ডুলের বারি!
এসব মডার্ন শিল্পীদের সম্মিলিতভাবে বয়কট করা হউক।


ফেসবুক থেকে