যুদ্ধবিরতি অগ্রাহ্য করে সিরিয়ায় সুন্নি মুসলমানদের হত্যা করেই যাচ্ছে আসাদ বাহিনী

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ | সোহেল আহম্মেদ



গণহত্যার খলনায়ক ও সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদ সরকার ও তার মিত্র বাহিনী প্রতিনিয়ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দেশটির সু্ন্নি মুসলমানদের হত্যা করেই যাচ্ছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮তে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে সোচি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও সিরিয়ার আসাদ ও তার মিত্র বাহিনী ইদলিব ডি-এসক্লেশন জোনে ১,৮০০ এরও বেশি মুসলমানদের হত্যা করেছে এবং ২,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। আর এই ভিটেহারা মুসলমানদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তুরস্কে শরনার্থী শিবিরে। শিবিরে আশ্রয় না পেয়ে কেউবা মানবেতর জীবনযাপন করছে গাছের নিচে।

সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের স্থায়ী শান্তি ও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ২০১৭ সালের মে মাসে তুরস্ক, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে সিরিয়ার চারটি অঞ্চলকে ডি-এসক্লেশন অঞ্চল হিসাবে মনোনীত করা হয়।

কিন্তু রাশিয়ার সমর্থিত গণহত্যার খলনায়ক আসাদ বাহিনী এসব অঞ্চলে সুন্নি মুসলমানদের কামানের নিশানা বানিয়ে তাদের হত্যা করেই যাচ্ছে এবং তুরস্কের সীমান্তের নিকটবর্তী উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ইদলিব বাদে সমস্ত অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

তারা তাদের হামলায় বহু মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল এবং সিভিল ডিফেন্স অফিসকে বরাবরের মতো কয়েকবার টার্গেট করছে। এতে আহতদের জন্য চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে, আসাদ বাহিনীর গণহত্যার ফলে মানবিক সহায়তার অভাব এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, গত দু’সপ্তাহ ধরে দ্রুত অবনতি হওয়া পরিস্থিতির কারণে ইদলিব ও আলেপ্পো প্রদেশের উত্তর ও পশ্চিমে প্রচুর সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষদের সামলাতে তাদের রিতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ওবায়দা দানদৌশ নামে সিরিয়া ভিত্তিক এনজিও ‘সিরিয়া রিলিফ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট’-র পক্ষে কাজ করা এক কর্মী বলেন, ‘পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় ২০ গুণ খারাপ। গত এক বছরের ব্যবধানে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মানবিক সহায়তার অভাব সিরিয়ার জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। সাহায্যের প্রবাহ যদি উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় আবার শুরু না হয়, তবে তিনি আশঙ্কা করছেন যে এই অঞ্চলটিতে ইয়েমেনের আকারে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।’

তুরস্কের মানবিক সংগঠন আইএইচএইচ এর মিডিয়া কর্মী সাইদ এজল আল-দিন বলেন, “খাবার ও বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, উষ্ণ কাপড়, জ্বালানি এবং তাঁবু সহ মৌলিক প্রয়োজনীয়তার বড় সংকট রয়েছে। কম তাপমাত্রার কারণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নতুন ক্যাম্পগুলিতে নতুনদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অস্থায়ী আবাসন জরুরি প্রয়োজন।”

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও আল- জাজিরা