যেসব খাবারে কিডনিতে পাথর হয়

নভেম্বর ১০, ২০১৯ অনলাইন ডেস্ক

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। এছাড়া সুস্বাস্থ্য রক্ষায় স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। কিন্তু অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হতে পারে কিডনিতে পাথর। কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে বাঁচতে চাইলে কিছু খাবার বেশি বেশি খেতে হবে আবার কিছু খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলে আসুন এবার জেনে নেয়া যাক কোন খাবারগুলো খাওয়া যাবে না।

ক্যাফেইন এবং সোডা এড়িয়ে চলুন: আপনি যদি কিডনিতে পাথর রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খেতে হবে। কিন্তু তাই বলে কফি খাবেন না। দিনে দুই কাপের ২৫০ থেকে ৫০০ বেশি কফি, চা এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস খাবেন না। অতিরিক্ত কফি পানে কিডনির অবস্থা আরো খারাপ হবে।

সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত এবং ক্যানজাত খাবার খাওয়াও বাদ দিতে হবে। কারণ এসব খাবারে প্রচুর লবণ দেয়া হয় সংরক্ষণের জন্য। তার চেয়ে বরং কম লবণযুক্ত খাবার খান।

বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার: গোস্ত, মাছ এর মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দিতে হবে।  চর্বিহীন মাংস সামান্য পরিমাণে তেলে রান্না করে বা সেদ্ধ করে খান। আর বেশি মশলাযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলুন।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি খাদ্য: আপনার যদি কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে তাহলে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি আছে উচ্চমাত্রায় এমন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে আপনাকে। অ্যান্টাসিড ওষুধও এড়িয়ে চলুন। কেননা তাতে উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকে। তবে খুবই স্বল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এছাড়া মাছের তেল বা ভিটামিন ডি খেতেও সাবধান। কেননা কিডনিতে পাথর থাকলে পরিস্থিতি খারাপ করে তুলতে পারে এসব খাবার।

অ্যালকোহল: কিডনিতে পাথর হওয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িতে না হলেও অ্যালকোহল কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে আছে পিউরিন উপাদান যা ইউরিক এসিড পাথর তৈরি করতে পারে। এছাড়া অ্যালকোহল কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট করে।

অ্যাসপ্যারাগাস: এটি মূত্রবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে কিডনিতে পাথর হলে এটি না খাওয়াই ভালো। এছাড়াও, ফুলকপি, কিডনি ও লিভারের গোস্ত, মাশরুম, অলিভ অয়েল এবং সার্ডিন মাছ খাওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে।

আইসক্রিম, ভাজা-পোড়া খাবার এবং সালাদ ড্রেসিং খাওয়ার লোভও সামলাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেটস, কমলালেবু এবং লেবুর সরবত খেতে হবে।
বর্তমানে কম বেশি সবাই কিডনিতে পাথর হওয়া নিয়ে বেশ চিন্তিত। কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে আপনাকে বেশি বেশি সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, নিম্ন-চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য, শিম, মাছ, বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার খেতে হবে।