যে বিশ্বনেতাদের আক্রান্ত করেছে করোনাভাইরাস

গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারি এখন সারা বিশ্বের মানুষকে আক্রান্ত করেছে। প্রায় আড়াই মাসের লড়াইয়ে চীনের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা বা রাজনীতিবিদ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে অনেক দেশের নেতাদেরকে আক্রান্ত করেছে কোভিড-১৯ নামে প্রাণঘাতী এই রোগ।

করোনা ভাইরাসে রাজনীতিবিদ ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত রাষ্ট্র নেতাদের তালিকার সর্বষেশ যুক্ত হয়েছেন ব্রিটেনের সরকাপ্রধান ও রাজপুত্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদের ভিত্তিতে নতুন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ও সংক্রণের আশঙ্কায় থাকা বিশ্ব নেতাদের একটি তালিকা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:

ইংল্যান্ড: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে প্রথম যিনি নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ‘পজেটিভ’ আসার পর তিনি নিজেকে আলাদা (আইসোলেশন) রেখেছেন।

খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় জনসনের মধ্যে ‘মৃদু উপসর্গ’ দেখা দেয়। এরপর পরীক্ষায় তার করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব নেতাদের মধ্যে জনসনই প্রথম এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এর একদিন আগেই এ ভাইরাসের কবলে পড়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের যুবরাজ চার্লস।

কয়েক দিন আগে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ব্রিটেনের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জনসন নিজের মধ্যে কোনো লক্ষণ নেই বলে এখনই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না বলে দিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ৫৫ বছর বয়সী জনসন ও ৪১ বছর বয়সী হ্যানকক- দুজনেরই উপসর্গ মৃদু; তারা বাসা থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নেগোশিয়েটর মিশেল বার্নিয়ের কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত প্রথম দিককার রাজনীতিকদের মধ্যে অন্যতম। চলতি মাসের প্রথম দিকে ফ্রান্সে নিজের ঘর থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি আক্রান্ত হওয়ার খবর দেন।

ফ্রান্সে চারজন রাজনীতিবিদ নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন: সংসদ সদস্য, পার্লামেন্টের এক কর্মকর্তা, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং প্রতিবেশ প্রতিমন্ত্রী।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তারা দুজনেই সুস্থ আছেন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করছেন।

নিজের চিকিৎসকের মধ্যে নভেল করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেল নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছিলেন। কিন্তু দুই বারের পরীক্ষায় তার মধ্যে ভাইরাস ধরা পড়েনি।

আমেরিকা: ব্রাজিলের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্য নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে তাদের সংস্পর্শে আসায় গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরীক্ষা করা হয়। তবে তার শরীরে ভাইরাসটি পাওয়া যায়নি।

মিয়ামির মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার পরে নয় আইনপ্রণেতাও কোয়ারেন্টিনে আছেন। এদের মধ্যে তিনজন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

কানাডা: কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টিনে থেকে ট্রুডো দায়িত্ব পালন করছেন। কোনও লক্ষণ না দেখায় ভাইরাসটির জন্য তাকে পরীক্ষা করা হয়নি।

ব্রাজিল: আমেরিকা সফরে আসা ব্রাজিলের একটি প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে; ওয়াশিংটনে ব্রাজিলের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, একজন সিনেটর ও প্রেসিডেন্টের প্রেসসচিব।

ফিলিপিন্স: নতুন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত এক রোগীর সংস্পর্শে আসার পর ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতের্তেকে পরীক্ষা করে ফলাফল নেতিবাচক এসেছে।

ইরান: সরকারের আট শতাংশ সদস্য প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত- ২৯০ জন সাংসদের মধ্যে ২৩ জনের শরীরে ভাইরাস মিলেছে। দুই সাংসদ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ইরানের বেশ কয়েজন ভাইস-প্রেসিডেন্টও আক্রান্ত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া: দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এর এক সপ্তাহেরও আগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার, হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউজের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠক হয়।

মঙ্গোলিয়া: একদিনের চীন থেকে ফিরে আসার পর রাষ্ট্রপতি খালতমাজিন বাতুলগাসহ অন্য কর্মকর্তাদের দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল এসেছে।