রমজানে আল্লাহ রহমতের সকল দরজা খুলে দেন : মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র সহসভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র যুগ্মমহাসচিব আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন  মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেছেন, রমজান মাস আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস ৷ এই মাসে আল্লাহ তাআলা রহমতের সকল দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন৷ কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে এ বছর তারাবির নামাজ মসজিদে হবে না। বলা হচ্ছে, সকলকে তারাবী নিজ গৃহে আদায় করতে হবে।

আজ (১৯ এপ্রিল) রোববার এক বিবৃতিতে মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব আরো বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে মুসল্লীদের ইবাদত-বন্দেগীতে সরকারী এমন প্রতিবন্ধকতার ঘোষণায় অত্যন্ত ব্যথিত এবং মর্মাহত হয়েছি। আমি মনে করি, সরকারী এমন ঘোষণায় বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতার অন্তর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে৷ কারণ, বাংলাদেশে এরকম অসংখ্য অগণিত ধর্মভীরু ও আল্লাহভীরু পরহেযগার মানুষ রয়েছেন, যারা রমজান মাসে মসজিদে ইবাদত বন্দেগী করে আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য অর্জন করে থাকেন ৷ তারাবীহ আদায় নিয়ে সরকারী এই ঘোষণা তাদের অন্তরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে৷

তিনি বলেন, আমরা স্বাভাবিক ভাবে লক্ষ্য করে থাকি হক্ব তথা সত্যের উপস্থিতিতে কখনোই বাতিল থাকে ন। যেমন, আলো আসলে অন্ধকার থাকে না, আর রহমত আসলে সেখানে গজব থাকে না ৷

মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, এই করোনাভাইরাস নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাকের একটি গজব৷ আমাদের জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা ও গুনাহের কারণেই এই গজব এসেছে এবং এটা আল্লাহ পাকের অসন্তুষ্টির একটি নমুনা৷

তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে আল্লাহ তাআলার রহমতের দরজাসমূহ যেখানে উন্মুক্ত করে দিবেন, তখন এই মহামারীর গজবও রহমতের মাধ্যমে দূরীভূত হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ ৷ আর এটাই মুসলমানদের দৃঢ় বিশ্বাস ও গভীর বিশ্বাস৷

বিবৃতিতে মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, আমরা আশা করব বাংলাদেশ সরকার ও দায়িত্বশীল সকলে এই বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। আমরা এ করোনা নামক গজব থেকে নিজ শক্তি দিয়ে বাঁচতে পারবো বা মুকাবেলা করতে পারবো- এটা মুমিন মুসলমানরা আশা করেন না। মুমিনের জন্য এ আজাব ও গজব থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়, রাব্বুল আলামীনের রহমত ও সাহায্য কামনা। তিনিই আমাদেরকে হেফাজত করতে পারেন৷

মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, আমরা যদি ভেবে থাকি আমাদের কলাকৌশল দিয়ে, নিজেদের প্রযুক্তি দিয়ে, ভ্যাকসিন দিয়ে, লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে বন্দি রেখে, এ ধরনের সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা থেকে মুক্তি পাবো, তাহলে এটা ভুল হবে। পত্রিকায় দেখলাম, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত আফ্রিকার এমন দেশেও করোনা প্রদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। আজ দেখলাম, মহাকাশচারিরা মহাশূণ্যে থেকেও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাহলে তারা তো কারো সংস্পর্শে আসেননি, করোনা আক্রান্ত কীভাবে হলেন? হাদীসে আছে, মহামারিতে যে লোক সর্বপ্রথম আক্রান্ত হয়েছেন, তিনি যেভাবে আক্রান্ত হয়েছেন একই ভাবে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই, এমন বিপদ থেকে আল্লাহর রহমত, দয়া ও ইচ্ছা ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়।

মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, বাহ্যিকভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সকল নিয়ম ও সতর্কতা আমাদেরকে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সকলপ্রকার গুনাহ থেকে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে তাওবা করে আল্লাহর সাহায্য ও রহমত কামনা করতে হবে। কারণ, এই মহামারীর বিপদ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করার একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা।

মাওলানা আল-হাবীব আরো বলেন, বিশ্বের অমুসলিমরা যেখানে তাদের দুনিয়াবী সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যার্থ হওয়ার পর এখন আসমানের দিকে হাত পেতেছেন, সেখানে আমরা মুসলমান হয়ে রব্বুল আলামীন আল্লাহর দিকে রুজু না হয়ে কলাকৌশল ও প্রযুক্তির পিছনে ধাবিত হচ্ছি- এটা অত্যান্ত দুঃখজনক৷ কৌশল অবলম্বন অবশ্যই করতে হবে এবং এ ব্যপারে এদেশের উলামায়ে কেরামের কেউ দ্বীমত পোষন করেননি৷ তবে কৌশল অবলম্বন যেন আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া থেকে কোনভাবেই প্রতিবন্ধক না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে৷

মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, আসুন আমরা সবাই মহান আল্লাহতালার দরবারে পানাহ চাই৷ আল্লাহ পাক যেন মসজিদগুলোকে পাঁচওয়াক্ত নামাজ, তারাবী ও সকল ইবাদত বন্দেগীর জন্যে উন্মুক্ত করে দেন। নিশ্চয় আল্লাহ পাক মুহূর্তের ভিতরে অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেন৷ আল্লাহ পাকের দরবারে মুমিনের চোখের পানি অতি মূল্যবান ৷