লকডাউন শিথিল করে সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ করেছে, দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মাঝে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে লকডাউন শিথিল করে সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

শুক্রবার (০৮ মে) সকালে গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে টঙ্গী বাজার এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর পরিস্থিতির মাঝে যখন বাংলাদেশে সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে; গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে তখন সরকার লকডাউন খুলে দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের কাছ মানুষের জীবনের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আগে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটিও বলছেন লকডাউন না খোলার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু সে পরামর্শের ব্যাপারে সরকার এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের লাশ রাস্তাঘাটে পড়ে থাকছে। টেস্ট করার কোন উপায় নাই। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা নেই। এসব সরকার খেয়াল করছে না। এর কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। মানুষের জীবন তাদের কাছে বড় নয় তাদের কাছে টাকা অনেক বড় কথা। সরকারের ভাব দেখে মনে হচ্ছে মানুষ মরুক তাতে তার কিছূ যায় আসে না। তাদের অর্থনীতি চালু রাখার নামে টাকাটাই বড় বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, পর্যাপ্ত মেডিকেল ইকুইপমেন্ট না পেয়ে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স মারা যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, আজকে রাস্তাঘাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যানবাহন চলছে, গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার লোক কাজে যাচ্ছে। এতে কত লোক করোনায় আক্রান্ত হবে। তাদের না থাকবে চিকিৎসা না থাকবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। এভাবে মৃত্যুর দিকে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এই সরকার এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দেশ পরিচালনা করছে। এই পরিচালনা হচ্ছে ‘ধ্বংসের পরিচালনা’ তাদের পরিচালনা হচ্ছে ‘মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া’র পরিচালনা।

ত্রাণ বিতরণকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুই বছর অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সারাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। বিএনপি´র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন। আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সকল স্তরের নেতাকর্মীরা যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিএনপি´র নেতা-কর্মীরা খাবেন অন্যরা খাবে না এমন যেন না হয়। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি। নিজেদের টাকায় কেনা ত্রাণ দিয়ে ১৩ লাখ পরিবারকে সহায়তা করেছি। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারে নেই আমরা সরকারের জুলুমের মধ্যে আছি। আমাদের অনেক ছাত্রদল যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করছে। তাদের দোষ কেন তারা মানুষকে ত্রাণ দিচ্ছে। আর ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা জনগণের টাকায় কেনা সরকারী ত্রাণ চুরি করছে।

গাজীপুরে ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপি´র সাংগঠনিক সম্পাদক সরকার জাবেদ আহমেদ, মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাট, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সূত্র: পার্সটুডে