আবরার হত্যার ‘প্রতিবাদে’ শোক র‌্যালি করেছে ছাত্রলীগ

অক্টোবর ১০, ২০১৯

ভারত বাংলাদেশ চুক্তির সমালোচনা করায় ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ‘পিটিয়ে হত্যা করার প্রতিবাদে’ শোক র‌্যালি করেছে ছাত্রলীগ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেকচার থিয়েটার ভবনের সামনে শোক র‌্যালিতে অংশ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আবরার হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১১ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শেখ হাসিনা ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমরা আশাবাদী এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হবে।

শোক র‌্যালিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


খুনিদের কেন ক্রসফায়ারে দেয়া হচ্ছেনা? : প্রশ্ন আবরারের বাবার


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেয়েও শুধু কবর জেয়ারত করে ফিরে যাওয়ার ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন শহীদ আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ।

তিনি বলেন, ভিসি মহোদয় সম্মানীয় ব্যক্তি তিনি আমার বাড়ির দরজায় এসে ঘরে না ঢুকে কেন চলে গেলেন। তিনি কাপুরুষের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আমার ছেলের লাশ দেখাতো দূরের কথা ছেলের জানাজা নামাজেও শরিক না হয়ে নানান প্রশ্নের জম্ম দিয়েছেন।

ফাহাদের পিতা বলেন, আমরা এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ, ভিসি মহোদয় বাড়িতে আসবেন শুনে এলাকাবাসী দারুন খুশি হয়েছিল। এলাকাবাসী ভিসির নিকট ফাহাদের খুনিদের শাস্তির দাবী জানাতে বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। সেখানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিল। তারপরেও তিনি আমার ও ফাহাদের মায়ের সাথে দেখা না করে চলে গেলেন এতে আমার পরিবার দারুনভাবে মর্মাহত।

আমরা ছেলে হারানোর বেদনায় যখন শোকে কাতর, তখন ভিসি মহোদয়ের এই ধরনের আচরনে আমরা দারুনভাবে ব্যথিত মর্মাহত।

আবরারের বাবা অভিযোগ করে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী আর সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ারে মারা হয় আর আমার ছেলেকে যারা নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদের কেন ক্রসফায়ারে দেয়া হচ্ছে না? সরকারের উচিত ছিল এতদিনে ফাহাদের খুনিদের ক্রসফায়ারের আওতায় আনা।

ফাহাদের পিতা সাংবাদিকদের আরো বলেন, খুনি ছাত্রদের আজীবনের জন্য বুয়েট থেকে বহিস্কার করতে হবে আর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রমাণ পাওয়ার পরে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।