শরণার্থী শিবিরে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ছেলে শিশুরাও

মার্চ ৫, ২০১৬ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফ্রান্সের ক্যালে জঙ্গলের শরণার্থী শিবিরে ছেলে শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করে ছেন সেখানে কর্মরত ত্রাণকর্মীরা। এ ঘটনায় শরণার্থী শিবিরে কিশোরদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কয়েক হাজার বাস্তুহীন শিশুর নির্যাতনের ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

শরণার্থী শিবিরে সহযোগিতাকারী মেডিক্যাল সেচ্ছাসেবীরা জানান, গত ছয় মাসে তারা সাতজন ছেলে শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের বয়স ১৪-১৬ বছর। ওই শিশুরা দাবি করেছে, তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট আঘাতও রয়েছে তাদের শরীরে।

সেচ্ছাসেবীরা আরও জানান, চারটি ক্ষেত্রে অভিযোগকারী ছেলেদের সার্জারি করতে হয়েছে। একজনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। তবে অন্যরা লজ্জা ও ভয়ে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

শরণার্থী ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জিএমসির নিবন্ধিত চিকিৎসকও ছেলেদের ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ইউরোপোল বাস্তুহীন শরণার্থীদের শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানুয়ারিতে সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধি জানান, আশ্রয় না পাওয়া প্রায় ১০ হাজার শরণার্থী শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

সেচ্ছাসেবিরা ক্যালে শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ঘটনা অভিযোগ করার প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতিকে দায়ী করেছেন। তারা শরণার্থী শিবির পরিচালনাকারী সংস্থাকে এ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

ক্যালে শরণার্থী শিবির থেকে সহযোগিতাকারী সংস্থাগুলো সরে যেতে শুরু করেছে। এখন শুধু সেচ্ছাসেবীরাই সেখানে কাজ করছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছেন, কোনও শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয় ঘোষণা করা হলে অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার আহ্বান জানালেই কেবল দায়িত্ব নেয় সংস্থাটি।

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর এক মুখপাত্রও ক্যালে শরণার্থী শিবিরে শিশুদের যৌন হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শরণার্থী শিবিরে থাকা বেশির ভাগ শিশুর অভিভাবকরা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তাদের আশ্রয় পাওয়া উচিত। কিন্তু আশ্রয় প্রক্রিয়াটি জটিল হওয়ার কারণে শিশুদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করতে হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট