শাপলা: এক রক্তাক্ত আমানত | পর্ব : তিন

মে ৭, ২০১৯

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী


[তিন]

‘অধিকার’–বাংলাদেশের বহুল পরিচিত একটি মানবাধিকার সংস্থা। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের অধিকার প্রশ্নে তারা নিজস্ব প্রতিবেদন ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে থাকে। ১৯৯৪ সালে শুরু হওয়া সংস্থাটি জাতীয়ভাবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে ২০১৩ সালের ৫ ই মে শাপলা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তৃত সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সে বছরের আগস্ট মাসে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে উক্ত বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টের জন্য গ্রেফতারের কারণে। বলা বাহুল্য, অধিকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সমাবেশ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক আঠাশ পৃষ্ঠার রিপোর্টটি ( বাংলা সংস্করণ, প্রকাশ: ১০ ই জুন, ২০১৩) শাপলা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একটি প্রামাণ্য দলীল। উক্ত রিপোর্টির চুম্বকাংশ এখানে তুলে ধরছি:
“সন্ধ্যার পরও হেফাজতের নেতারা সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন। তবে রাত আনুমানিক ৮.০০ টায় এশার নামাযের আগে এই বক্তৃতা থেমে যায়। এরপর রাত আনুমানিক ৮.৩০ টায় পুলিসের সঙ্গে হেফাজত কর্মীদের মতিঝিল থানা ও এর আশেপাশে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিস হেফাজত কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করে। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে তখন পুলিসের গুলিতে ৭ জন হেফাজত কর্মী নিহত হন। হেফাজতের নেতারা তখন মাইকে পুলিসকে গুলি না করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। রাত আনুমানিক ১১ টায় শাপলা চত্বরের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। রাতের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতের কর্মীরা যে যেখানে ছিলেন সেখানেই রাস্তার মাঝে বসে পড়েন, অনেক হেফাজত কর্মী গায়ের পান্জাবি খুলে অথবা সঙ্গে থাকা ব্যাগ কিংবা জুতা কাপড়ে পেঁচিয়ে মাথার নিচে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আবার অনেকেই সেখানে বসে জিকির করতে থাকেন।

এদিকে পুলিস, র্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব), আর্মড পুলিস ব্যাটেলিয়ন ( এবিপিএন) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে সেখানে হামলার পরিকল্পনা করে। যৌথবাহিনীর সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে রামকৃষ্ণ মিশন (আর কে মিশন) রোডটি বাদ দিয়ে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ১টি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকে বের হয়ে মূল মঞ্চের দিকে ১টি, এই মোট ৩টি দলে ভাগ হয়ে একযোগে শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই শুরু করে টিয়ারগ্যাস, গুলি, সাউন্ডগ্রেনেডসহ বিরতিহীন আক্রমণ (পৃ: ৩-৪)।”

৬ ই মে রাত আনুমানিক ১২.৩০ টায় মতিঝিলের প্রতিটি রাস্তার বৈদ্যুতিক সংযোগ করে দিয়ে চারদিক অন্ধকার করে দেয়া হয় এবং এই সময় সমাবেশ করার জন্য ব্যবহৃত মাইকের সংযোগও কেটে দেয়া হয়। যৌথবাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় রাত আনুমানিক ২.১৫ টায় হেফাজত কর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শাপলা চত্বর ও এর আশে পাশে থাকা নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত হেফাজত কর্মীদের উপর নির্বিচারে গরম পানি, টিয়ারস্যাল, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং গুলি ছুঁড়তে থাকে। যৌথবাহিনী রাতের ঐ অপারেশনের তিনটি সাংকেতিক নাম দেয়। পুলিসের পক্ষ থেকে বলা হয় ‘অপারেশন শাপলা’, র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয় ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবি’র পক্ষ থেকে বলা হয় ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা'(পৃ: ৫)।

“৬ মে রাতের ঘটনাটির বীভৎসরূপ যেন প্রকাশিত না হয়ে পড়ে, সেই কারণে সরকার ভোররাত আনুমানিক ২.৩০ টায় ইসলামিক টেলিভিশন এবং ভোররাত আনুমানিক ৪.৩০ টায় দিগন্ত টেলিভিশন নামের চ্যানেল দু’টি বন্ধ করে দেয়। এই চ্যানেল দু’টি মূলত বিরোধী দলীয় চ্যানেল হিসেবেই পরিচিত ছিল ও এই ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট করছিল। বর্তমানেও টিভি চ্যানল দু’টি বন্ধ রয়েছে” (পৃ: ৫)।”

অধিকার’র রিপোর্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফটো-সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উল্লেখ করা হয় এভাবে:
“তিনি ফকিরাপুল মোড়ে পৌঁছানোর একটু আগেই দেখতে পান কালো পোষাক পরা বেশ কিছু লোক ও ইংরেজিতে প্রেস লেখা জ্যাকেট পরা কয়েকজন সাংবাদিক দাঁড়িয়ে আছেন। সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে জানতে পারেন সেখানে দুই হাজারেরও বেশি পুলিস, র্যাব, এবিপিএন ও বিজিবি সদস্য রয়েছে। একজন জয়েন্ট কমিশনার পর্যায়ের অফিসার তাদের কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এই দলের সঙ্গে একটি রায়ট কার ও ১ টি জল কামান ছিল। তখন তিনি বুঝতে পারেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় ধরনের কোন অপারেশন শুরু হবে, তাই তিনি অপারেশন দেখার জন্য সেখানে থেকে যান। তিনি দেখেন, অপারেশন দলের কমান্ডিং অফিসার তার দলকে উত্তেজিত করার জন্য বলছে, “আপনারা কি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন?” দলের প্রত্যেক সদস্য সমস্বরে বলে ওঠে, ” ইয়েস স্যার”।………রাত আনুমানিক ২.২০ টায় যৌথবাহিনীর রায়ট কারে মাইক থাকা সত্ত্বেও তান া হেফাজত কর্মীদের সরে যেতে না বলে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে শাপলা চত্বরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এতে রাস্তায় অবস্থানরত হেফাজত কর্মীরা টিকতে না পেরে পিছু হটতে শুরু করে।……রাত আনুমানিক ২.৪৫ টায় নটর ডেম কলেজ পার হয়ে টয়েনবি সার্কুলার রোডে অবস্থিত দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার অফিসের সামনে এসে যৌথবাহিনীর সদস্যরা হেফাজত কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং সরাসরি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে শাপলা চত্বরের কাছে এসে দেখে চত্বর খালি হয়ে গেছে। কারণ, ইতিমধ্যেই দৈনিক বাংলা মোড় থেকে আরেকটি অপারেশন দল আগেই শাপলা চত্বরে এসে পৌঁছে হেফাজত কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল। হেফাজত কর্মীরা তাদের জীবন রক্ষায় তখন মতিঝিলের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়েন।

এমন সময় তিনি দেখেন একজন হেফাজত কর্মীকে পুলিস ধাওয়া করছে। ধাওয়া খেয়ে লোকটি দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়েছেন। একজন পুলিস সদস্য তাকে গুলি করতে উদ্যত হওয়ায় আরেকজন পুলিস সদস্য তখন গুলি করতে বারণ করেন। কিন্তু গুলি করতে উদ্যত পুলিস সদস্য বারণ না শুনে লোকটির পেটে গুলি ছোঁড়ে। লোকটি পেটে হাত চেপে ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় কোন একটি গলিতে ঢুকে পড়েন (পৃ: ১৩-১৪)।”

শাপলার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে অধিকার তাদের রিপোর্টের শেষের দিকে ‘আমাদের বক্তব্য’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার যোগ করেছেন যা রিপোর্টকে অত্যন্ত অর্থবহ করে তুলেছে। সেখানে তারা বলেছেন:
“অধিকার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা কর্মীদের হত্যার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সত্য উদ্ঘাটনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। অনেক মানুষের হতাহতের বিষয়ে জানা গেলেও এক শ্রেণীর ‘শিক্ষিত’ ব্যক্তিদের এই ব্যাপারে নীরবতায় অধিকার উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সরকারের মতিঝিলে অভিযান চালানোর আগে সে এলাকায় বৈদ্যুতিক সরবরাহ বন্ধ করা ও অভিযান চলাকালে বিরোধী দলীয় দুটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া এবং অন্যান্য মিডিয়াতে এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে সরকার হতাহতদের ও নৃশংসতার বিষয়টি গোপন করতে চাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে কোন স্বচ্ছতাই আশা করতে পারি না।

উপরোক্ত বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও সব ধরনের পক্ষপাতিত্ব ও অপপ্রচারকে পাশ কাটিয়ে বিষয়টির যথার্থ তথ্যানুসন্ধানের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সুপ্রীম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি করা প্রয়োজন এবং সমাজকে সংঘাতমূলক পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো তদন্তকালীন সময়ে দেখা প্রয়োজন, সেগুলো হলো-
১। মোট নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা এবং তাদের অবস্থান সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
২। কোথায় নিহতদের কবর দেয়া হয়েছে তা জানার অধিকার তাঁদের স্বজনদের রয়েছে। নিহতদের শেষকৃত্য করার অধিকারও তাঁদের স্বজনদের রয়েছে, যা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
৩। এই সমাবেশে অনেক শিশুরাও যোগ দিয়েছিল সরকার এটা জানা সত্ত্বেও কেন এই সমাবেশে ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে এবং কেন নির্বিচারে হত্যায় উম্মত্ত হয়েছে? এটা অত্যন্ত অসহনীয় যে, সরকার শিশুদের ব্যাপারে সংবেদনশীল নয়। যেসব ব্যক্তিরা গুম হয়েছেন কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন তাঁদের বিষয়ে খোঁজ করা জরুরি (পৃ: ২৮)।”

অধিকার সর্বশেষে তাদের যে চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণটি যুক্ত করেছে তা অবশ্যই শাপলার ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে:
“This is the first incident of large-scale indiscriminate killing in Dhaka city, after 42 years of independence of Bangladesh in 1971, by the State agents. ( ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ৪২ বছর পরে এটাই হচ্ছে ঢাকা শহরে সবচেয়ে বড় আকারের বাছবিচারহীন হত্যাকাণ্ড যা রাষ্ট্রযন্ত্র সংঘটিত করে।)

এবার আমরা বিশ্বের তিন প্রভাবশালী সংবাদ-মাধ্যমের দিকে দৃষ্টি দেবো। দেখি, তাদের রিপোর্টে শাপলার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী বলা হয়েছিলো। সংবাদ-মাধ্যম তিনটি হলো যথাক্রমে কাতারভিত্তিক ‘আল জাযিরা’, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘দ্য ইকোনোমিস্টস’ এবং বৃটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান। কাতারের Aljazeera শাপলা-হত্যাকাণ্ড নিয়ে দু’টো রিপোর্ট করে। একটি ২০১৩ সালে ৭ ই মে, অপরটি ২০১৩ সালের ১৪ ই মে। প্রথম রিপোর্টে তারা Protests paralyse Bangladesh capital (বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের রাজধানী অচল করে দিয়েছে) শিরোনামে বলছে, ঘটনার প্রথম দিনেই মারা গেছে ২৪ জন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে:
“Tirana Hassan, an emergencies researcher with Human Rights Watch who has just returned from Bangladesh, said the findings of its investigation into protests since last year were very alarming.

“We’ve documented alarming patterns of protesters being killed by the use of live fire by Bangladeshi forces.” she told Al Jazeera from Brussels.

“There are tens of thousands of people taking to the street, but what we documented was live fire being used -and the fatalities all had bullet entries into the head and chest.

“That’s very worrying because it’s not just that the police are trying to control the crowds, they’re firing live rounds of ammunition in a way that is bound to kill,” she said.” [ তিরানা হাসান–যিনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-র সাথে সম্পৃক্ত একজন গবেষক, সদ্য বাংলাদেশ থেকে য়ুরোপে ফিরে বললেন, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেলো বছর থেকেই বিক্ষোভ ভীতিকর হয়ে ওঠে।

মিসেস হাসান ব্রাসেলস থেকে আল জাযিরাকে বলেন:, “আমরা বিক্ষোভকারীদের জন্য ভীতিকর দিকগুলোকে নথিভুক্ত করেছি যারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি চালানো গুলিতে মারা গেছেন।”

“হাজার হাজার মানুষের জমায়েত ছিলো রাস্তায়। কিন্তু আমরা নথিভুক্ত করেছি যে, সেখানে সরাসরি গুলি চালানো হয় এবং নিহতদের সকলেই মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ ছিলো।”

মিসেস তিরানা আরও বলেন, ” সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, পুলিস জমায়েতকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে সরাসরি গুলি চালায়, ফলশ্রুতিতে মানুষের মৃত্যু ছাড়া কোন পথ খোলা ছিলো না।”]

দ্বিতীয় রিপোর্টে আল জাযিরার শিরোনাম ছিলো: Video suggests higher Bangladesh protest toll. অর্থাৎ, ভিডিও বলছে বাংলাদেশে নিহতের সংখ্যা উচ্চ। তারা লিখছে:
Al Jazeera has obtained video footage suggesting that the Bangladesh government has been providing inaccurate death tolls from recent violence.

According to official figures, 11 people had died during fighting between police and protesters from Hifazat-e-Islam, an Islamic group, on May 6, a day protesters refer to as the “Siege of Dhaka”.

Human Rights Watch, a US-based rights group, said that the exact number of deaths resulting from the protests are “unclear”.
……. “Independent news sources put the figure at approximately 50 dead, with others succumbing to injuries later,” HRW said in a statement on Saturday.
………… Abdul Jalil, a deaf and mute grave digger at Dhaka’s state-run cemetery, communicated that he buried 14 bodies of bearded men with gunshot wounds after the protest, all at night.
[ আল জাযিরা একটি ভিডিও হাতে পেয়েছে যা দেখে বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যাকে লুকাতে চেষ্টা করছে।
সরকারী ভাষ্যানুসারে, ৬ ই মে–অবরোধের পরদিন হেফাজতে ইসলাম ও পুলিসের সাথে সংঘর্ষে ১১ জন মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, শাপলার ঘটনার হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও অস্পষ্ট।
“……নিরপেক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া খবরে বলা যায়, মৃতের সংখ্যা ৫০-র কাছাকাছি।”–যেমনটি হি.রা.ও জানাচ্ছে।
“……..আব্দুল জলীল নামে একজন মুক-বধির কবর খননকারী (ইশারায়) জানায়, সরকারের পরিচালনাধীন একটি কবরাস্থানে তিনি বিক্ষোভের রাতে মুখে দাড়িযুক্ত ১১ টি মৃতদেহ মাটি দিয়েছেন যারা বন্দুকের গুলিতে মারা গিয়েছিলেন।”]

(চলবে)