শাপলা: এক রক্তাক্ত আমানত | পর্ব : এক

মে ৫, ২০১৯

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী


(লেখাটি গত ৪ নভেম্বর ২০১৮ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত কওমী মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়াহ কর্তৃক আয়োজিত আলোচিত ‘শোকরানা মাহফিল’-এর পরপর লেখা।)

[এক]

গত ৪ নভেম্বর, রোববার (২০১৮) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত কওমী মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়াহ কর্তৃক আয়োজিত আলোচিত ‘শোকরানা মাহফিল’-এ সরকার-প্রধান শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জয়নাল আবেদীনের দেয়া একটি বক্তব্যকে ঘিরে পুরো কওমী-জগৎ এখন উত্তপ্ত। উক্ত সমাবেশে সামরিক সচিব ‘অপ্রাসঙ্গিক’ স্বীকার করে দাবি করেন : ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা-চত্বরের ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সেদিন হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, কথিত নিহতদের সরকারিভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা জীবিত এবং মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। এর আগেও সরকার শাপলা-হত্যাকাণ্ডের অসারতার পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। তবে সেগুলো তারা বলেছেন নিজস্ব পরিমণ্ডলে। সময়ে-সময়ে সেসব বক্তব্যের প্রতিবাদও করা হয়েছে কওমী আলিম-সমাজ ও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে। কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন; ভিন্ন তার চরিত্রে এবং পরিবেশে। এবারের প্রসঙ্গটি এসেছে সম্পূর্ণ কওমী আলিম-সমাজের একটি অনুষ্ঠানে এবং তাঁদের একটি অংশের সরব উপস্থিতিতে।

উল্লেখ্য, আলোচিত শোকরানা মাহফিলে কওমী আলিম-সমাজের বৃহত্তর অংশ অংশগ্রহণ না করলেও যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা কওমী-মহলের একেবারে অপরিচিত মুখ নন। আলোচিত মাহফিলটিকে ধর্মীয় বিবেচনা দিয়ে মূল্যায়ন করার চেয়ে কৌশলগত মূল্যায়নে বিবেচিত করাটা আমার কাছে শ্রেয় মনে হয়। আয়োজকবৃন্দের মাঝেও মাহফিলটিকে ধর্মীয়ভাবে নেবার কোন লক্ষণ প্রস্ফুটিত হয়নি। মাহফিলের প্রস্তুতি, সংবর্ধনার পক্ষ-বিপক্ষ চিহ্নিতকরণ ইত্যাদির দৃষ্টিকোণে মনে হয়েছে, আয়োজকদের কাছে যেমন ছিলো মাহফিলটি কৌশলগত তেমনি সরকারের কাছেও ছিলো রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক।

প্রথম থেকেই বলা হচ্ছিলো, মাহফিলটি হবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মন্তব্যমুক্ত। কেননা, দাবি করা হয়, মাহফিলটি কওমী শিক্ষা বোর্ড হাইয়াতুল উলিয়া’র-হেফাজতের নয়। কিন্তু মঞ্চে হাযির ক’জন ব্যক্তির রাজনৈতিক বক্তৃতা, মাওলানা রুহুল আমীন সাহেবের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ‘কওমী-জননী’ খেতাবের প্রস্তাব, মাওলানা হাসনাত আমিনীর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার কামনা এবং সর্বোপরি শাপলার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামরিক সচিবের বিতর্কিত মন্তব্য ইত্যাদি কথিত শোকরানা মাহফিলকে এক ব্যতিক্রমী পরিচয়ে পরিচিত করেছে। সন্দেহ নেই, এসব বক্তব্যে দেশব্যাপী কওমী ও সাধারণে বিতর্ক ও নিন্দার জন্ম দেয়। কওমী-জগতের বহুলাংশ এ ধরনের বক্তব্যকে কওমী স্বকীয়তা ও আত্মমর্যাদাবোধের উপর সরাসরি আক্রমণ বলে মনে করছে।

বিশেষত, সামরিক সচিবের শাপলার ট্র্যাজেডি নিয়ে দেয়া বিতর্কিত বক্তব্য শাপলাকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে। তদুপরি, সামরিক সচিবের বক্তব্য-মন্তব্যের পরে মঞ্চে উপস্থিত কওমী আলিমদের কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য বা প্রতিবাদ না করায় দেশব্যাপী কওমী-অঙ্গনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মনে করছে, কওমী-জগৎ সরকারের ভাষ্যানুসারে শাপলা হত্যাকাণ্ডের অসারতাকে স্বীকার করে নিচ্ছে। বিশেষ করে, কওমী ছাত্র-সমাজ এ ধরনের তীর্যক মন্তব্যকে নীতিগত কারণে মেনে নিতে নারায বলে তৃণমূলে দৃষ্ট হচ্ছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, মাহফিল-পরবর্তী আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীসহ হাতে গোনা কয়েকজন কওমী নেতৃবৃন্দ বাদে কেউই সামরিক সচিবের উক্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি। এমন কি এখন পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের সম্মানিত আমীরেরও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনার সামরিক সচিব জনাব জয়নুল আবেদীন সেদিন শাপলা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যা বলেন, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। অন্তত এখানে তিনি সরকার-প্রধানের উপস্থিতিতে একটি বার্তা দেশবাসী ও কওমী-জগতকে দিতে চেয়েছেন। তা হলো, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থানগত পরিবর্তন হলেও শাপলার বিষয়ে অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হয়নি। সরকারের আগের অবস্থান এখনও বহাল। অর্থাৎ, শেখ হাসিনার ভাষায় ‘সেদিন কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, ওরা রঙ মেখে শুয়েছিলো, পুলিশ দেখে উঠে দৌড় দেয়’–কথাগুলোই নিখাদ বাস্তবতা। উল্লেখ্য, সামরিক সচিবের মুখনিঃসৃত এ অবস্থানে কওমী-জগৎ অতোটা আহত হননি, যতোটা হয়েছেন উপস্থিত কওমী নেতৃবৃন্দের নীরব-সম্মতিতে।

যা হোক, আমরা আজকে সামরিক সচিবের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করবো। বলাবাহুল্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা-চত্বরে সমাবেশ হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে। হত্যাকাণ্ড ঘটে ঐ দিন দিবাগত রাতে। ঘটনার দু’দিন পরে অর্থাৎ, ২০১৩ সালের ৯ মে বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ শাপলার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করে। বিবৃতিটি হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব প্যাড ও সাইটে প্রকাশিত হয়। ‘বাস্তবেই কী ঘটেছিল ৫ই মে’র রাত্রে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে?’–শিরোনামে উক্ত ভাষ্যের শুরুতে বলা হয়-
“মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গত ৫ মে দিবাগত রাতের অন্ধকারে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে জড়ো হওয়া ধর্মপ্রাণ আলেম ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের (যার একটি বড় অংশ বয়োবৃদ্ধ ও মাদরাসার শিশুছাত্র) ওপর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ, র‍্যাব ও আধাসামরিক বাহিনী বিজিবির ১০ হাজার সদস্যের চালানো নৃশংস হত্যাযজ্ঞকে বিশ্ববাসী ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করলেও বাংলাদেশ সরকার তা বেমালুম অস্বীকার করছে! ঘটনার পরদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতকর্মীদের ওয়াশআউট অভিযানে কোনো ‘হতাহতে’র ঘটনা ঘটেনি। নিহত হওয়া তো দূরের কথা, কেউ আহতও হয়নি।” আরও একটু পরে বলা হচ্ছে:
“মূল কিলিং হয়েছে দুই পর্যায়ে। হেফাজতকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য অভিযান শুরুর পর মঞ্চ দখলের আগমুহূর্তে অর্থাৎ, যে ১০ মিনিটের কথা বলা হয়েছে, তখন খুব কাছ থেকে সরাসরি হেফাজতকর্মীদের গুলি করা হয়। এতে অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনার অবতারণা করে যৌথবাহিনী সফল হয়। সহকর্মীদের মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে হেফাজতকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। ১০ মিনিটেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সমাবেশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে বড় কিলিংগুলো হয় সোনালী ব্যাংক ভবনের সিঁড়ি ও বারান্দা, বাংলাদেশ ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ডিসিসিআই, আমিন মোহাম্মদ ভবন, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ভবন, ইউনুস সেন্টার, সারা টাওয়ার, ঢাকা ব্যাংকসহ ওই এলাকার বিভিন্ন বড় বড় দালানের সিঁড়ি ও বারান্দায়। এসব স্থানে পলায়নপর হেফাজতকর্মীরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। পুলিশ মাইকে ইত্তেফাক ও হাটখোলা ধরে যাত্রাবাড়ীর দিকে পালিয়ে যেতে বলেছিল। সে নির্দেশ তারা মানেননি। ভয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন—এই ছিল তাদের অপরাধ।….বঙ্গভবনের আশপাশ এলাকায় দৌড়ে গিয়ে যারা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের অনেককে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।” ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা সম্পর্কে বলতে গিয়ে হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত উক্ত ভাষ্যে বলা হয়েছে:
“মতিঝিলের আশপাশের হাসপাতালগুলোতে হতাহত বহু লোককে নেয়া হলেও পুলিশের হুমকিতে তারা নাম প্রকাশ করে বিস্তারিত বলতে অপারগতা জানিয়েছেন। সর্বোচ্চ তিন হাজার লোক নিহত ও নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে তারা লিখিত বিবৃতিতে এ সংখ্যা ২ হাজার বলেছিল। ৬ মে রাতেই সংশোধিত সংখ্যা ৩ হাজার বলে জানায়।”

এ তো গেলো হেফাজতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক ভাষ্যের কথা। এবার আসতে পারি নির্ভরযোগ্য কিছু আন্তর্জাতিক সূত্র ও সংবাদ-মাধ্যমের তথ্যে। তথ্যের জন্য উইকিপিডিয়া’র (Wikipedia) কথা এখন নেট-দুনিয়ায় সর্বজনজ্ঞাত। ২০১৩ সালে সংঘটিত শাপলা-হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে সেখানে। সেদিনের ঘটনায় হতাহত সম্পর্কে বলা হয়েছে–
According to government estimates, the number of casualties in this operation was 11, including a few law enforcement members, while the Daily Star reported 5 deaths. Opposition parties initially claimed that 2000- 3000 of protesters had been killed, while Hefazat claimed about 1000 deaths.Human Rights Watch disagreed with Hefazat’s claims, but agrees that a massacre took place.

“(the security forces) shot live ammunition and rubber bullets into unarmed crowds, conducted sweeping arrests, and used other forms of excessive force during and after protests that began in February and continue… opened fire on crowds, often without warning…”

Some victims were bystanders, including a number of shopkeepers near the Baitul Mukarram, while most were Hefazat supporters, including children, who were killed by a blow to the head or gunshot wounds. Doctors at the Dhaka Medical College Hospital confirmed that many of those dead had been shot in the head. One policeman was also attacked in reprisal. According to Human Rights Watch, eyewitnesses saw 25-30 bodies that were confirmed dead. This included British activist and journalist David Bergman, who saw 24 bodies. The Guardian reported 22 confirmed deaths, while an investigation conducted by Aljazeera revealed that 14 bodies of “bearded men” with gunshot wounds were buried, after the protests, at Dhaka’s state-run cemetery. Human rights group Odhikar reported 61 deaths, but refused to reveal the names of the victims out of security concerns for their families. The UK Home Office estimates a total of no fewer than total of 50 deaths. Many individuals, including orphan children, were missing, which may have contributed to the discrepancies in casualties.” [ সরকারী তথ্যমতে অভিযানে নিহতের সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ১১। অবশ্য ডেইলি স্টারের রিপোর্টে বলা হয়েছে নিহতের সংখ্যা ৫। বিরোধীদলগুলো বলেছে, ২০০০-৩০০০ জন নিহত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম দাবি করেছে নিহতের সংখ্যা ১০০০। মানবাধিকার সংস্থাগুলো হেফাজতের এ দাবিতে একমত পোষণ করেনি, তবে স্বীকার করেছে যে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার সংস্থার দেয়া তথ্যানুসারে: “( নিরাপত্তা বাহিনী ) নিরস্ত্র জনতার উপর তাজা-গোলাবারুদ ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে, ব্যাপকহারে গ্রেফতার করেছে এবং ফেব্রুয়ারী থেকে চলমান এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় শক্তিপ্রয়োগ করেছে। কোন প্রকার সতর্কীকরণ ছাড়াই তাদের উপর গুলি চালিয়েছে…”
হতাহতদের মধ্যে রয়েছে কিছু পথচারী, বাইতুল মোকাররমের নিকটবর্তী দোকানকর্মী। হতাহতদের অধিকাংশ হলো, হেফাজত-সমর্থক যাদের মধ্যে শিশুও ছিলো, মাথায় আঘাতে বা গুলিতে মারা যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের অধিকাংশই মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। একজন পুলিশও হামলায় মারা গেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-র দেয়া তথ্যানুসারে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মোতাবেক ২৫-৩০ জন নিহত হয়েছে। বৃটিশ অধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান নিজে ২৪ টি মৃতদেহ দেখেছেন। বৃটেন থকে প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান বলছে, মৃতের সংখ্যা ২২। সংবাদ সংস্থা আল জাযিরা বলছে তারা বিক্ষোভ-পরবর্তী ২৪ টি এমন মৃতদেহ কবর দিতে দেখেছে যাদের মুখে দাড়ি ছিলো, সেগুলো গুলিবিদ্ধ ছিলো। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার ৬১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। কিন্তু তাদের পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরে নিহতদের পরিচিয় প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মনে করছে, ন্যূনতম ৫০ জন মারা গেছে। এতীম সিশুসহ অনেকেই উক্ত অভিযানের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে।]

(চলবে)