মুফতী হারুন ইজহার চৌধুরী | গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক


আজ রাজপথে গর্জন শুনলাম। শ্লোগানে, ব্যানারে, র‍্যালিতে, মিছিলে, প্রচারপত্রে,শোভাযাত্রায় সরব ছিল বাংলাদেশের রাজপথ। আমি কোলাহল আর অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা এড়িয়ে থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু ইসলামের দাওয়াতি দর্শন এবং মানবতাবাদী বাণী আমাকে ভাবিয়ে রাখে। আর তাই আমি আমার স্কলার বন্ধুদের আত্মকেন্দ্রিকতার বিপরীত মানুষের দুর্ভোগ মনস্তাত্ত্বিক ভাবে হলেও শেয়ার করে চলতে চাই।
আমি এই গরমে রিকশাচালকদের সাথে ঢাকাইয়া খেতাবে মামা ডেকে ডেকে তাদের প্রচুর সাক্ষাতকার নিয়েছি।

আজকের শ্রমিক আয়োজনগুলোতে শ্রমিকের মনের আওয়াজের চেয়ে শ্রমিক সংঘগুলোর স্বার্থের আওয়াজটাই আমার কাছে দৃশ্যমান মনে হয়েছে।

আমি শ্রমিকদের মন বুঝার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছিলনা। শ্রমিক দিবসের চোখ ধাঁধানো আনুষ্ঠানিকতার কোলহলে আমি শ্রমিকের মনের আওয়াজগুলো হারিয়ে ফেলেছি।

শ্রমিকরা মালিকদের পুঁজিবাদী পশুত্বের বলি, শ্রমিকরা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক গুন্ডাদের ক্লাবের পাহারাদার রাষ্ট্রের বৈষম্যের বলি। কিন্তু আজ নতুন করে রাজপথে দাঁড়িয়ে যেটা মনে হয়েছে তারা খোদ শ্রমিক সংঘগুলোর দলীয় কাঠামো ও স্বার্থের ব্লাকমেইলিংয়ের কাছেও বলি।

নিরীহ শ্রমিকদের মাঝে আমি উৎসবের আমেজটাও লক্ষ্য করেছি। এটা আমার কাছে মনে হলো; “হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কষ্ট কত শত”।

মানবসভ্যতার পরতে পরতে অসভ্যতা ছিল, সেটা প্রকাশ্য ঘৃণিত ছিলো।সেই দাসত্বপ্রথা থেকে সামন্তবাদ পর্যন্ত। কিন্তু ভন্ডামি ছিলনা। জুলুম ছিল প্রতারণা ছিলা। আর এখন আছে শোষণ আর প্রতারণা একই সাথে, তার নাম পুঁজিবাদ। প্রাচ্যবিদ ইউরোপীয় ইতিহাসজ্ঞরা অতীতের দাসত্ববাদ আর সামান্তবাদের সমালোচনায় পঞ্চমুখ হলেও এই ভাড়াটে বুদ্ধিজীবি বদমাইশরা পশ্চিমা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে কোন আলাপে নেই।

ভাইসব!
শ্রমিক দিবসে আমরা আজ একটা আত্মপ্রবঞ্চনায় মেতেছিলাম। এইসব গরম বিনোদন দিয়ে কিছু হবেনা। আর এদেশটা খন্ডিত ইসলাম চর্চার দেশ, কোন ক্যারিশমাটিক ইসলামি বয়ান ও নেতার শূন্যতার দেশ।
কেউ কেউ দুয়েকটা কুআনের আয়াত আর হাদীস লেখেছেন নসীহতের ভাষায়। তো একটা সময় আমরাও তা করতাম। ফায়দা নেই। বরং এটাতে শামিল হয়ে আমরা শ্রমিকদিবসের ইসলামি করণের মাধ্যমে আত্মপ্রবঞ্চনা কসরতই করছি।

আসুন গোড়ায় কাজ করি! তাওহীদের বিপ্লবের ইশতিহারে আমাদের সঙ্গী হোন। বিদ্রোহটা কুরআন দিয়ে শুরু করি। আর ফররুখের ভাষায় বলি-

তারপর আসিলে সময়
বিশ্বময়
তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিন্ডে পদাঘাত হানি’
নিয়ে যাব জাহান্নাম দ্বারপ্রান্তে টানি’
আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যুদীর্ণ নিখিলের অভিশাপ বও;
ধ্বংস হও-
তুমি ধ্বংস হও।