সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে অতিষ্ঠ বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০ । নিজস্ব প্রতিনিধি



বিএসএফ-র ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর বেপরোয়া আচরণে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবাসীদের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক তাড়া করছে। বিরাজ করছে উত্তেজনা। আতঙ্ক কাটাতে সীমান্তজুড়ে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড (বিজিবি)। মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবির বাড়তি সদস্য। চিঠি চালাচালিও চলছে দুপক্ষের উচ্চ পর্যায়ে।

অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বেশ কয়মাস ধরে হঠাৎ করে বেশি বেপারোয়া আচরণ করছে ভারতীয় বিএসএফ। কথায় কথায় সীমান্ত অতিক্রম করে এসে বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়া, বাংলাদেশের ভূখন্ডকে নিজেদের বলে দাবি করা, অনেকটা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর মত উস্কানি দিচ্ছে ভারতীয় ঐই বাহিনী।

গত ১৭ অক্টোবর রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে পদ্মার বড়াল মোহনায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভারতীয় তিন জেলে ইলিশ ধরতে শুরু করে। বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলে দুজন পালিয়ে যায়। একজনকে আটক করা হয়। পালিয়ে যাওয়ারা বিএসএফকে খবর দিলে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অনেক ভেতরে এসে আটক জেলেকে ছাড়িয়ে নিতে জোর জবরদস্তি করে।

বিজিবি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে হুমকিও দেয়। ফিরে যাবার সময় বিএসএফ সদস্যরা বিজিবির উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষায় বিজিবিও পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে বিএসএফের হেড কনেস্টবল বিজয়ভান মারা যায়। আহত হয় রাজবীর সিং নামে এক সদস্য।

এরপর থেকে বিএসএফ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় গুলি করে মারছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি জেলে কৃষক আর রাখালদের। পতাকা বৈঠকে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং পুনরাবৃত্তি হবে না এমন কথা বললেও বাস্তবে করছে উল্টো আচরণ। মনে হচ্ছে যেন প্রতিশোধের নেশা তাদের পেয়ে বসেছে। ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো মিথ্যাচার করছে। বিএসএফ’র বাড়াবাড়ি আচরণে রুটিন মাফিক বিজিবি প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বর্তমানে তারাও ত্যাক্ত বিরক্ত।

গত ৩১ জানুয়ারি রাজশাহীর সোনাইকান্দি বিওপির নিকট পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে বাংলাদেশ সীমান্তের এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে বিএসএফ অনুপ্রবেশ করে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এমন অন্যায় কর্মকান্ডে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছে নদী তীরবর্তী মানুষ।

কিন্তু তাদের পাশে দাড়ায়নি আইনি সংগঠন। বিশেষ করে কিছু চেতনাধারী সংগঠন রয়েছে যারা কথায় কথায় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করে। এক্ষেত্রে তারা একেবারে নিরব। যেন তারা চেতনাহীন হয়ে পড়েছে। তাদের ভূমিকা যেন ভাসুরের নাম মুখে নিতে মানার মতো। প্রতিবাদ করলে পাছে বন্ধু রুষ্ট হয়।

সচেতনমহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ভারত থেকে ব্যাপকহারে অস্ত্র, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য ও মালামাল পাচারের সময় তা বিএসএফ এর চোখে পড়ে না। তাদের বিরুদ্ধে গুলি করে মারা তো দূরে থাক তাদের ধরাও হয় না। যে গরু আসে তা বিএসএফ এর সাথে সমোঝোতা করেই। বনি বনা না হলে রাখালকে গুলি করে মারা হয়। যতো অত্যাচার বাংলাদেশি কৃষক, জেলেদের ওপর। সীমান্তে অত্যাচার বন্ধে সকল দেশ প্রেমিককে সোচ্চার হতে হবে।