সীমান্ত হত্যা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করলেন মেনন

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | নিজস্ব প্রতিনিধি

সীমান্ত হত্যা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

এসময় ফিলিস্তিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়ে বাংলাদেশের নীরবতার সমালোচনা করেছেন তিনি।

তার প্রশ্ন- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভয়ে বাংলাদেশ ভীত কি না?

আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন রাখেন মেনন। তিনি এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।

মেনন বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে বাংলাদেশের নীতি হলো, তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন করা। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ফিলিস্তিন সম্পর্কে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে ফিলিস্তিনকে ইসরায়েলের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের যতটুকু জমি রয়েছে সেটা পুরোনো ফিলিস্তিনের মাত্র ১২ শতাংশ। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের কোনো আর্মি থাকতে পারবে না, মুক্তিযোদ্ধাদের নিরস্ত্র করতে হবে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সরকার, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই পরিকল্পনার ব্যাপারে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি।

মেনন বলেন, কিছুদিন পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে আসবেন। সেখানে মোদির সঙ্গে মিলে এই অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। সেখানে বাংলাদেশ কোন অবস্থায় থাকবে এই ভয়ে বাংলাদেশ ভীত কি না, তা তিনি জানেন না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে মেনন বলেন, দুদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি অর্থনীতির কথা বলেছেন। কিন্তু সীমান্তে হত্যা, পররাষ্ট্রনীতির কথা, ফিলিস্তিনের সমস্যার কথা তাঁর বক্তব্যে ছিল না। রোহিঙ্গা সংকটের নাকি সুদূর ভবিষ্যতে একটি সমাধান আসবে। অদূর ভবিষ্যতে না।

এদিকে মেননের বক্তব্যের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ফিলিস্তিন সম্পর্কে বাংলাদেশের যে নীতি ছিল সেটা এখনো বহাল আছে। এ নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই। আর ভারত সীমান্তে হত্যার বিষয়টি তিনি তাঁর বক্তৃতায় উদ্ধৃত করেছেন।