সেক্যুলারের আসল চেহারা : আল্লাহ লিখলে সমস্যা, ভগবান লিখলে ঠিক আছে : আসিফ নজরুল

অক্টোবর ১০, ২০১৯

ডক্টর আসিফ নজরুল | অধ্যাপক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


তসলিমা নাসরিনের শিবলিঙ্গ পুজোয় সমস্যা নাই, সমস্যা আছে আবরারের নামাজ পড়া নিয়ে। এই বিকারগ্রস্থ মহিলাকে নিয়ে কখনো লিখিনি আমি। কিন্তু তার একথার উল্লেখ প্রয়োজন হলো এটা বলতে যে বাংলাদেশের বহু ছদ্মবেশী সেক্যুলারের আসল চেহারা তসলিমার মতো।কেউ আল্লাহ লিখলে তাদের সমস্যা হয়, ভগবান বা ঈম্বর লিখলে ঠিক আছে। আরো কতো কিছু!
অথচ সেক্যুলার মানে হচ্ছে সব ধর্ম সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল থাকা অথবা কোন ধর্ম সম্পর্কেই বিরূপ মন্তব্য না করা।
যারা একচোখা হয়ে শুধু একটা ধর্মে সমস্যা খোজে তারা সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক ও মানবতার শত্রু।



দেশের পক্ষে বললে ছাত্রলীগ পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারবে, এমন আইন করতে হবে : আসিফ নজরুল
অক্টোবর ৭, ২০১৯

ডক্টর আসিফ নজরুল | অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


আবরার মরলো কেন?

বুয়েটের হতভাগ্য ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে গতরাতে। পারিপার্শিক সকল আলামতে এটি স্পষ্ট যে খুনটা করেছে বুয়েট ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মী। কেন খুন করা হলো আবরারকে?

ভারত-বাংলাদেশে অসম সম্পর্ক নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলার কারণে? শিবির করার কারণে? এসব কারণে কাউকে হত্যা করার সুযোগ কি আছে বাংলাদেশের কোন আইনে? ছাত্রলীগকে কাউকে পেটানোর বা হত্যা করার অধিকার কি দেয়া হয়েছে কোন কেতাবে?

এসবের উত্তর হচ্ছে, না। কেউ ভারতের সমালোচনা করলে, সরকারের ভারতনীতির সমালোচনা করলে, ভিন্নমত পোষন করলে এমনকি কেউ শিবির করলেও একারণে তাকে হত্যা, অত্যাচার, আটক বা পুলিশের কাছে সোপর্দ্ করার অধিকার নেই ছাত্রলীগের ( বা অন্য কারো)। অথচ এরকম কাজ বহুবার করেছে তারা গত দশ-বারো বছরে।

আববার হত্যার বিচার অবশ্যই করতে হবে। হত্যাকারীদের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। আর না হলে কেউ ভিন্নমত পোষন করলে বা দেশের পক্ষে কিছু বললে ছাত্রলীগ তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারবে-এমন একটা আইন করতে হবে এদেশে!

যে পোস্ট দেয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে আবরারকে তা হাজার হাজার শেয়ার করুন। প্রশ্ন তুলুন নিজের দেশের পক্ষে কথা বলার ‘অপরাধে’ মেরে ফেলার সিস্টেমটা কে বা কারা চালু করেছে এদেশে? কারা ছাত্রলীগকে দিয়ে করাচ্ছে এসব? কাদের নির্দেশে চলে এখন ছাত্রলীগ?

আবরারের জন্য দোয়া করুন। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কথা বলার এই মৃত্যু-কে বৃথা যেতে দিবেন না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা থাকবে তাদের মুখোশ উন্মেচন করুন। এটাই মুক্তিযুদ্ধের আসল চেতনা।