ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সাঈদ মুহাম্মাদ


অসুস্থ হলে চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার আবেদন জানালেও প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা মেলেনা। এভাবেই ইসলামপন্থী রাজনৈতিক বন্দীরা ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করছেন অবৈধ সেনা শাসক সিসির কথিত ধর্মনিরপেক্ষ মিশরে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে এগুলো ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের শামিল।

মিশরে ষাটটি কারাগার ও ৩২০ টি আটক কেন্দ্রে এখন প্রায় ৬০ হাজার বিরোধী রাজনীতিক ব্যক্তি আটক আছেন। তবে বন্দীদের প্রকৃত সংখা কখনো সরকারী ভাবে প্রকাশ করা হয়না।

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফেজ মুহাম্মাদ মুরসী গত মাসে ইন্তেকাল করেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তাকে হত্যা করা হয়। মাত্র একমাসের মাথায় গতকাল সোমবার আদিল ও হাসান নামক দু’জন বন্দী ইন্তেকাল করেন। তাদেরকেও চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

গত ২২ জুলাই হাসান আলকিলানি মৃত্যুবরণ করেন। একটি মামলায় সাজানো কাঙ্গারু ট্রায়ালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনিও চিকিৎসার আবেদন জানিয়েছিলেন কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি।

২০১৪ সালে গ্রেফতার উমর আদিলও (২৯) গত সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। সাতদিন আগে তাকে ‘সংশোধন কেন্দ্র’ থেকে কারাগারে আনা হয়। তার পরিবারের অভিযোগ দেখা করার জন্য বারবার আবেদন জানালেও রহস্যজনক কারণে উমরের সাথে তারা দেখা করতে পারছিলেন না। আজ হঠাৎ তারা উমরের মৃত্যু সংবাদ পেলেন। তার কোনো অসুখও ছিলনা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গত ২০১৭-২০১৮ দুই বছরে বন্দীদের চিকিৎসায় অবহেলা সংক্রান্ত ৮১৬ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন বন্দী ইন্তেকাল করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ৪৬ জনের ক্ষেত্রে চিকিৎসায় অবহেলা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে।