স্বৈরশাসক সিসির পদত্যাগের দাবীতে আবারো তাহরির স্কয়ার বিক্ষোভ শুরু করেছে মিসরের জনগণ

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


মিসরের স্বৈরশাসক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি-র পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নামে হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী।

রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ার ছাড়াও আলেকজান্দ্রিয়া, সুয়েজের মতো বড় বড় শহরগুলোতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

তাহরির স্কয়ার অভিমুখী বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালায় সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ধরপাকড়ের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। বিক্ষোভের তীব্রতায় বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।

২০১২ সালের ৩০ জুন মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা শহীদ মুহাম্মাদ মুরসি। এর এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন ইসরাইল ও সৌদির মদতপুষ্ট সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি। প্রতিবাদে মুরসি সমর্থকরা রাস্তায় নামলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ব্রাদারহুডের প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী। অভ্যুত্থানে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জেনারেল সিসি’কে সমর্থন দেয় সৌদি আরব।

সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করা হয়। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় দলটির প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মীকে। গ্রেফতার করা হয় কয়েক হাজার মুরসি সমর্থককে। কারাগারে পাঠানো হয় মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে। অন্তরীণ অবস্থাতেই কারাগারের খাঁচায় শহীদ হন তিনি। কঠোর গোপনীয়তায় তাকে দাফনে পরিবারকে বাধ্য করা হয়। বাবার মৃত্যুর দুই মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে মারা যান মুরসির ২৪ বছরের পুত্র আবদুল্লাহ মুরসি। অনেকের আশঙ্কা, বাবার মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করায় তাকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে।

২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জেনারেল সিসি সরকারের বিরুদ্ধে মিসরে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের বিক্ষাভ।

সূত্র: আল জাজিরা