ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ওয়াছিক ইবনে হাফিজ


যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আমীরে শরীয়ত মুহাম্মাদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ৩২ বছর আগে ১৯৮৭ আজকের দিনে তওবার রাজনীতির প্রবক্তা হজরত হাফেজ্জী হুজুর ইন্তেকাল করেন।

হজরত হাফেজ্জী হুজুর বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রায়পুর থানধীন লুধুয়া গ্রামে ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা ইদ্রিস রহ. ও মাতার নাম খাদিজা খাতুন রহ.।  নয় ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে হজরত হাফেজ্জী হুজুর ছিলেন পঞ্চম।

ইসলামী শিক্ষার মধ্য দিয়েই শুরু হয় হজরত হাফেজ্জী হুজুরের শিক্ষাজীবন। আপন চাচা মাওলানা ইউসুফ রহ. এর নিকট তিনি প্রথম পাঠ গ্রহণ করেন।  চাচার কাছেই তিনি প্রাথমিক আরবী ফার্সী শিক্ষা লাভের পাশাপাশি ঈশ্বরচন্দ্র পণ্ডিত নামক এক হিন্দু শিক্ষকের নিকট প্রাথমিক বাংলা ভাষা শিক্ষা লাভ করেন।

তিনি তৎকালীন লক্ষীপুর থানার অন্তর্গত খিল বাছাই মাদরাসায় ভর্তি হন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আরবি ব্যাকরণ ও অনান্য কিতাবাদি অদ্ধায়ন করেন। ১৯১৫ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ভারত গমন করেন।

সেখানে গিয়ে হজরত হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. এর পরামর্শে ১৯১৫ সাল থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত সাত বছর সাহারানপুর মাযাহিরুল উলূম মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯২৩ সালে মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুর থেকে ইলমে হাদীসের সনদ লাভ করে ১৯২৪ সালে দারুল উলূম দেওবন্দে পুনরায় দাওরা হাদীসে ভর্তি হন। সেখানে তিনি হযরত আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশমীরী রহ. এর নিকট বুখারী পড়েন। এছাড়াও সেখানে তিনি শাইখুল ইসলাম হুছাইন আহমদ মাদানী রহ., শাইখুল আদব আল্লামা এযায আলী রহ. এর নিকটও দরস গ্রহণ করেন।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে রহ. বি বাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে তিনি বড়কাটারা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৮ সালে লালবাগ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সুদীর্ঘ ২৩ বছর তিনি লালবাগ শাহী মসজিদের খতীবের দায়ীত্ব পালন করেন।

১৯৬২ সালে তিনি কামরাঙ্গীচরে ১৮-২০ একর জমির উপর মাদরাসায়ে নূরিয়ার ভিত্তিস্থাপন করেন। এছাড়াও অসংখ্য মসজিদ মাদরাসা তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

হজরত হাফেজ্জী হুজুর দীর্ঘ ৬০ বছর যাবত দ্বীনি কিতাবাদীর দরস দিয়েছেন।  তাঁর ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, মুফতী ফজলুল হক আমীনী, চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম, মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী প্রমুখ।

তিনি ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে ১৯৮১ সালের নির্বাচনে তৃতীয় এবং ১৯৮৬ সালে  দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।  ১৯৮১ ইং ২৯ শে নভেম্বর তিনি খেলাফত আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সূচনা করেন।

হাফেজ্জী হুজুর রহ. চার ছেলে এবং ৬ কন্যাসহ মোট ১০ সন্তানের জনক।

ছেলেরা হচ্ছেন। মাওলানা শাহ আহমদ উল্লাহ আশরাফ রহ., মাওলানা উবাদুল্লাহ রহ., মাওলানা হামিদুল্লাহ রহ. ও আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। চার ছেলের মধ্যে বর্তমানে শুধু  আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী জিবিত আছেন। তিনি বর্তমানে হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত খেলাফত আন্দোলনের আমীর ও জামিয়া নুরিয়া মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৮৭ সালের ৭ মে মোতাবিক ৮ ই রমজান ১৪০৭ হিজরী বৃহস্পতিবার ঢাকার সোহরা্‌ওয়ার্দী হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ঢাকা কামরাঙ্গীরচরে নুরিয়া মাদ্রাসায় তাকে পার্শ্বে দাফন করা হয়।