হেফাজতে ইসলাম আইনজীবি পরিষদের প্রতিনিধিদল কিছুদিন আগে হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়েছেলেন প্রাণপ্রিয় রাহবার শাইখুল ইসলাম হযরত আল্লামা আহমদ শফী হাঃ এর শয্যাপাশে। বড়ই আবেগময়, নিঃশব্দ মমতা দিয়ে হযরত তাদের বরণ করলেন… এডভোকেটরা অশ্রুসিক্ত নয়নে হুজুর থেকে বিদায় নিলেন।

এর পূর্বে তারা গঠনমূলক দীর্ঘ এক সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন হেফাজত মহসচিব, ঈমানদীপ্ত জনতার মধ্যমণি শাইখ জুনাইদ বাবুনগরীর সাথে। ৫ই মে’র পর অনেকটা নিষ্প্রভ হয়ে পড়া আইনজীবিদের ফোরামটিকে আবার নবোদ্যমে সজীব হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন হযরত। আইনজীবিদের বিশেষ তাগাদা ছিল সমাজের মূলধারার নানা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে হেফাজতের জোরদার সমন্বয় ও জাতীয় পর্যায়ে সংগঠনটির শক্তিশালী সম্পৃক্ততার উপর।
বিদ্বেষবাদী সেকুলার অপশক্তির বিরুদ্ধে ওলামাদের আন্দোলনে সর্বস্থরের আধুনিক শিক্ষিত মহলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, যখন একশ্রেণীর সেকুলার মিডিয়া নানা শব্দফাঁদের আশ্রয়ে, নানা টার্ম ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাসের তান্ডবে মত্ত সে মুহুর্তে আইনজীবিদের এক বড় মহল দল মত নির্বিশেষে হেফাজতে ইসলামের দাওয়াতী মিশনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশিদার হওয়ার আকাঙ্খা ও অঙ্গিকার পুনঃ ব্যাক্ত করলেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ইসলামী বিদ্যাপীঠ জামেয়া দারুল উলুম হাটহাজরীর মুঈনে মুহতামেম নির্বাচিত হওয়ায় ইসলামে শত্রু ও মুনাফেকররা অসহ্য অন্তরজ্বালায় পীড়িত হয়ে বিদ্বেষী নানা উপখ্যানের দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।
আইনজীবিরা এ নোংরা চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করলে নড়েচড়ে বসে ষড়যন্ত্রবাদী তথ্যসন্ত্রাসী ও তাদের দোসররা।
আমরা আইনজীবিদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়।
উল্লখ্য যে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বদান্যতা ও অপপ্রচারকারী মিডিয়া কতৃক প্রতিবাদ গ্রহণ ও তা প্রকাশের দরুন একটি পত্রিকার কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন আইনজীবীরা।

এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা তবে সবচে জরুরী কথা হলে হেফাজতে ইসলামের দাবীগুলো প্রচলিত পশ্চিমা আইন কাঠামোর ইসলামইজেশানের জন্য এক সুদূরপ্রসারী মাইল ফলক স্বরুপ। কেবল গনসেন্টিমেন্টের জায়গা থেকে এ লক্ষে পৌঁছা কঠিন। এরজন্য দরকার, বুদ্ধবৃত্তিক ধারাবাহিক অধ্যাবসায়। ইসলামকে আধ্যাত্মিকতার বয়ানে সীমিত না রেখে কল্যাণকর মানবিক আইনী এজেন্ডার সমাজতাত্ত্বিক বাস্তবতানির্ভর ফর্মুলার ধারণা সৃষ্টি করে এটাকে ইসলামের স্থূল জাহেরী দাবীর স্থলে গণমানুষের দাবীতে পরিনত করে আন্দোলনে রূপ দেয়া আমাদের চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

অর্বাচীন নয়,সস্তা খ্যাতি অর্জনের অনুশীলনে মত্ত নয় এমন শিক্ষিত ও চেতনা-দীপ্ত ইসলামি তারুণ্যকে আহবান, এ স্কীম নিয়ে চিন্তা করার।

তরুণ প্রজন্মের আইনজীবিরা! আপনারা ভাবুন,অচলায়তন ভাংগতে এগিয়ে আসুন। সাথে থাকুন, পর্যবেক্ষণ দিন।