ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত ৫ আগস্ট হতে রবিবার ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিনে কম করে হলেও অন্তত ৪ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপরন্তু কারাগারগুলোতে জায়গা না থাকায় গ্রেফতারকৃতদের বেশীরভাগকেই কাশ্মীরের বাহিরে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে গ্রেফতারের সংখ্যা জানা গেছে।

জননিরাপত্তা আইনে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য যে কাউকে গ্রেফতার করে কোনও অভিযোগ ছাড়াই দুই বছর আটক বা বিচারের মুখোমুখি করতে পারে। ভারতে আইনটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ভারতীয় ওই কর্মকর্তা জানান, স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে রাজ্যের সহকর্মীদের কাছ থেকে গ্রেফতারের তথ্য পেয়েছেন। কারণ রাজ্যটিতে সবধরনের মোবাইল ইন্টারনেট ও টেলিফোন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ব্যবস্থায় স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করতে পারছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, শ্রীনগরের কয়েকটি জায়গায় প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আটকের পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রথমে তাদের শ্রীনগরের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে সামরিক আকাশযানে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে।

আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, কয়েক হাজার কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু কারাগারের বাইরে অন্য স্থানে যারা আছেন তাদের কথা সংশ্লিষ্ট পুলিশ থানায় রেকর্ড করা হয়নি।

সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা সীমিত রয়েছে। চলাচলেও রয়েছে বিধিনিষেধ। তা সত্ত্বেও ক্ষোভে ফুঁসছে সেখানকার সাধারণ মানুষ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জননিরাপত্তা আইনে এই মানুষদের গ্রেফতার ও আটক রাখা হয়েছে।

৫ আগস্টের পর থেকেই ভারত সরকার গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। যদিও সরকারের দাবি শতাধিক স্থানীয় রাজনীতিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদকে প্রথমদিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।