৬ বছরের চ্যালেঞ্জ; ইসলামি মিডিয়ার অভাব পূরণে কতটুকু সফল ইনসাফ?

এইচ এম আদিব | মালয়েশিয়া প্রবাসী


২০১৩ সালে হেফাজতের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। তখন আমাদের নিজস্ব কোনো মিডিয়া ছিল না। হেফাজতের প্রতিটা মূহুর্তের সংবাদ জানতে আমরা বিভিন্ন ফেসবুকভিত্তিক পেইজে নজর দিতাম। এক কথায় নিজেদের মিডিয়া বলতে আমাদের তখন কিছুই ছিল না। তখনকারদিনে মনে একটা হাহাকার ছিল নিজস্ব মিডিয়া না থাকার। সেই হাহাকার বর্ণনা করার মত ছিল না।

হেফাজতের সেই রক্তাক্ত শহীদি দিবসের ঠিক এক বছর পরই আত্মপ্রকাশ হয় ‘ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম’-এর। এই দেশের ইসলামি ঘরানার প্রথম অনলাইন পত্রিকা হিসেবে ইনসাফের উপর দাঁড়ায় বিশাল চ্যালেঞ্জ। ইনসাফ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটুকু কী করতে পেরেছে এখন সময় এসেছে তার যোগ বিয়োগ করার। আমি এই ক্ষেত্রে ইনসাফের কয়েকটা ভালো গুণের কথা উল্লেখ করছি।

(১) তাবলিগের দুটি গ্রুপের ইস্যুতে ইনসাফের ভূমিকা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এই ইস্যুতে ই’তেদালি মেজায বজায় রেখে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঘরের নিউজ বাহিরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিউজের মত হলেই নিউজ করতে হবে এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে উপকারী নিউজ প্রকাশ করাটা একটা বড় বিষয়।

(২) অনলাইন পত্রিকাগুলোর একটা বৈশিষ্ট্য হলো তারা কেবল নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য প্রচার করে। সে জায়গাটাতে ইনসাফ এখনো নির্দলীয় ইসলামিক পত্রিকা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এই জায়গাটা আদল ও ইনসাফের সাথে ধরা রাখাটা হবে ইনসাফের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

(৩) টকশোর আদলে লাইভ সাক্ষাতকার একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল ইনসাফের৷ জানিনা কী কারনে এটা অনেক দিন যাবত বন্ধ আছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানের টকশো হতে যেই উপাদানগুলো দরকার, সেগুলোর অভাব ধীরেধীরে দূর করে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এই জায়গাটাতে যদি ইনসাফ ভালোভাবে ফিরে আসতে পারে, সেটা হবে অনেক বড় কিছু।

একটা মিডিয়ার প্রাথমিক অবস্থায় বিভিন্নধরনের সমস্যা ও সংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেই সময়টাতে বিভিন্নভাবে তাদেরকে সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। আর নয়তো অংকুরেই অনেকে হারিয়ে যায়। মিডিয়া তৈরি নিয়ে আমাদের বড়দের অনেক চিন্তা-ফিকির ও চেষ্টা প্রচেষ্টার কথা জানতে পারি, আজ যেহেতু আমাদের মিডিয়া দাঁড়িয়ে গেছে তাদেরকে সাপোর্ট দেওয়া উচিত। অন্ততপক্ষে কোনো ভুল হলে, হুট করে প্রতিবাদী পাবলিক পোস্ট না দিয়ে পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত যে কাউকে জানাতে পারেন। আমি যতটুকু জানি, শরঈ বিষয়ের খেলাফ কোনো বিষয় তাদের মাধ্যমে হয়ে গেলে, তারা হাসিমুখে তা সংশোধন করে নেয়। সবার দোয়া ও ভালবাসাতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম। এই প্রত্যাশা-ই করি।

Previous post তথ্যের চাহিদা পূরণে ইনসাফের ভূমিকা প্রশংসনীয়
Next post বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারণার মাধ্যমে ইনসাফ পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে