মুসলমানদের হত্যা করে গীর্জা বানানো কর্ডোবা মসজিদকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের দাবি

মুসলমানদের দীর্ঘ সাতশ’ বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী বিশ্ববিখ্যাত স্পেনের কর্ডোভা মসজিদকে গীর্জা থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করে মুসলমানদের তত্ত্বাবধানে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নগরের আমির সুলতান বিন মুহাম্মাদ কাসিমি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক টুইট বার্তায় তিনি এ দাবি জানিয়েছেন বলে ‘শারজাহ নিউজ’ এর খবরে বলা হয়েছে।

টুইটের বার্তায় সুলতান বিন মুহাম্মাদ কাসিমি বলেন, আমরা কর্ডোভা মসজিদকে আবারও মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের দাবি জানাচ্ছি। আমাকে বলা হয়, সিটি কাউন্সিল তা খ্রিস্টানদের দিয়েছে। তখন আমি বললাম, মালিকানাহীন বস্তু অনুপযুক্তকে দেওয়া হয়েছে। অথচ এর মালিকানা শুধু মুসলিমদের।

উল্লেখ্য, স্পেনের মসজিদে কর্ডোভা মুসলমানদের দীর্ঘ সাতশ’ বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী৷ ৭৮৪সালে খলীফা আব্দুর রহমানের আমলে তৎকালীন রাজধানী কর্ডোভায় এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মিত হয়৷ মুসলমানগণ এশিয়া থেকে নিয়ে গোটা ইউরোপ ওআফ্রিকা এখানে বসেই শাসন করতেন৷ মসজিদটি শরয়ী আইন ও সালিসের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হতো৷


ইউরোপিয়ানরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে গিয়ে গর্ববোধ করতো৷ স্পেনের মুসলমানদের আবিষ্কৃত জিনিস ব্যবহার করে গোটা বিশ্ব উপকৃত হতো৷ মুসলমানদের নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পুরো দুনিয়া চলতো৷

মোটকথা, মুসলমানগণ তখন উন্নতির চরম শিখরে পৌছেছিলো। এই মসজিদেই তাফসীরে কুরতুবী লিখক আল্লামা কুরতুবীর তাফসীর চলতো, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া অন্দুলুসীর দরস হতো, ইবনে হাযাম যাহেরীর ফিকহী প্রবন্ধ পাঠ করা হতো, ইবনে আরাবী তাসাউফের সুক্ষ্ম ও জটিল বিষয়াদী বর্ণনা করতেন এবং বাকি ইবনে মাখলাদের মতো ব্যক্তিত্ব এখানে বসেই ‘কালাল্লাহ’ এবং ‘কালার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন৷

কিন্তু, ১২৩৬ সালে ক্যাসলের রাজা তৃতীয় ফার্ডিনান্দ ও রাণী ইসাবেলা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করে স্পেন দখল করে নেয় আর মসজিদটিকে রোমান ক্যাথলিক গির্জায় রুপান্তরিত করে৷

আজো সেখানে ক্রুশ টানিয়ে রাখা হয়েছে৷ নামাজ পড়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এমনকি কেউ যেন রুকুও না করতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন স্থানে সিকিরিউটি লোক রাখা হয়েছে৷ ২০১০ সালে এক দল মুসলিম পর্যটক শুধু রুকু করতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন৷ একজন সত্যিকার ও চিন্তাশীল মুসলমান মসজিদে কর্ডোভায় দাড়িয়ে না কেঁদে থাকতে পারে না৷

সূত্র: আলজাজিরা।