৫০০ বছর ধরে লিবিয়ার সাথে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক, আমরা ভাইদের একা ছেড়ে যাব না: এরদোগান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়ার সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আমরা আমাদের লিবিয় ভাইদের একা ছেড়ে যাব না। লিবিয়ার ব্যাপারে তুরস্ক যে দায়িত্ব আজ অবধি পালন করে আসছে ভবিষ্যতেও তা নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাবে। লিবিয়ার ইস্যুতে মিশরীয় হস্তক্ষেপ অবৈধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান অবশ্যই দস্যুতার শামিল।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইস্তাম্বুলে জুমু’আর নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, পূর্বেই তুরস্ক লিবিয়ার সাথে সামরিক প্রশিক্ষণ সহায়তার একটি চুক্তি সম্পাদন করেছিল, আমরা সামনে জাতিসংঘের অংশগ্রহণে ত্রিপোলির সাথে আরেকটি নতুন চুক্তি সম্পাদন করতে চলেছি। লিবিয়া সরকার এই সম্পর্ক ধরে রাখতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং তুরস্ক বিভিন্ন ইস্যুতে ত্রিপোলিকে সমর্থন দিয়ে তাদের সাথে নিজেদের একাত্মতা প্রকাশ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লিবিয়ার ইস্যুতে মিশরীয় হস্তক্ষেপগুলি অবৈধ। কারণ, মিশর কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো দ্বারা এটা প্রকাশ পায় যে তাদের অবস্থান বিদ্রোহী হাফতারের পক্ষে এবং তারা আড়ালে থেকে তাকে রক্ষায় অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, লিবিয়ার প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মনোভাব জলদস্যুতা, কারণ এটি হাফতারকে অস্ত্র ও অর্থ প্রদান করছে। বিষয়টি হল যারা ত্রিপোলিতে ফয়েজ আল সররাজের বৈধ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যারা বিদ্রোহী হাফতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের মধ্যকার একটি সংঘাত। আর যারাই দ্বিতীয় পক্ষে (হাফতারের পক্ষে) অবস্থান নিয়েছে তারা বেআইনি এবং অবৈধ।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মিশরের স্বৈরশাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি রাজধানী কায়রোতে জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়া সরকারের বিরোধী সমস্ত বিদ্রোহী গোত্রগুলোর প্রধান এবং উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করে তাদের যুদ্ধের দিকে উসকে দেন। এসময় তিনি বলেন, উত্তর-মধ্য লিবিয়ার সির্ত শহরে হামলার জন্য সেনা সমাবেশ ঘটলে তার দেশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

সিসির উস্কানিমূলক এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে লিবিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল অফ স্টেট বলেছে, মিশর কর্তৃক লিবিয়ার বিদ্রোহী গোত্রগুলোকে সশস্ত্র করণের সিদ্ধান্ত লিবিয়দের মাঝে স্তিমিত থাকা একে অপরকে হত্যার আগুনকে ভড়কে দেওয়ার নামান্তর।

উল্লেখ্য, লিবিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জিএনএ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতারকে প্রকাশ্য মদদ দিয়ে যাচ্ছে মিশর, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। অপরদিকে জিএনএ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক। দেশটির উপজাতি গোষ্ঠিগুলোকে অস্ত্র দিয়ে মিশরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল করতে চাইছে বলে আশঙ্কা করছে জিএনএ সরকার।


আরব আমিরাত, রাশিয়া ও মিশরের মদদ নিয়ে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল দখল করে নেয় যুদ্ধবাজ হাফতার। সম্প্রতি তুরস্ক জিএনএ সরকারের সমর্থনে লিবিয়ায় সেনা পাঠালে পুনরায় বেশ কিছু শহর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার।

সূত্র:আল জাজিরা

About |

Check Also

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্বেও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কিনবে তুরস্ক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্বেও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা থেকে ফিরবে না …