লকডাউন অমান্য ও ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে জারি লকডাউন অমান্য ও নিয়ম রক্ষায় ব্যর্থতার দায় অন্য কর্মকর্তার ঘাড়ে চাপানোয় সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক। লকডাউনের মধ্যে তিনি সাইকেল চালিয়ে পাহাড়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া, গত সপ্তাহে সীমান্তে নিয়ম রক্ষায় ব্যর্থতার দায় অন্য এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। এতে জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। এর আগেও একবার লকডাউন অমান্যের দায়ে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও এবিসি নিউজ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিজের পদত্যাগ ঘোষণার সময় তিনি জানান, নিজের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তিনি।

খবরে বলা হয়, লকডাউনের নিয়ম ভাঙায় নিজেকে ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ক্লার্ক। কিন্তু এটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় সরকারের সার্বিক করোনা মোকাবিলা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ক্লার্ক জানান, মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করলেও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন তিনি।

নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দেশজুড়ে উপহাসের শিকার হয়েছেন ক্লার্ক। গত সপ্তাহে কয়েকজন ফিরতি ভ্রমণকারীকে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার আগে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত করে দেয়ার দায় স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক অ্যাশলি ব্লুমফিল্ডের উপর চাপিয়ে দেন তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় ক্লার্কের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে দেখা যায়, ক্লার্ক বক্তব্য দেয়ার সময় অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছেন ব্লুমফিল্ড। এ নিয়ে তীব্রভাবে সমালোচিত হন ক্লার্ক।

এর আগে গত এপ্রিলে লকডাউন ভেঙে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে হাঁটতে যান তিনি। তখন নিজ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় সে সময় তার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি আরডার্ন। শাস্তিস্বরূপ তার ক্ষমতা সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন আরডার্ন। তার জায়গায় সাময়িকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্সকে।