মানচিত্র প্রকাশের পর নেপালের সাথে ভারতের যৌথ বাঁধ প্রকল্প অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে

তিনটি বিতর্কিত এলাকাকে দেশের অন্তর্ভুক্ত করে নেপালের মানচিত্র প্রকাশের পর থেকে ভারত-নেপাল সম্পর্কের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটার কারণে ভবিষ্যতে দুই দেশের সীমান্তে যৌথভাবে পঞ্চেশ্বর বহুমুখী বাঁধ প্রকল্প নির্মানের যে প্রস্তাবনা ছিল, সেটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

পঞ্চেশ্বর প্রকল্পটি নির্মিত হওয়ার কথা মহাকালী নদীর উপর, যে নদীটা দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা আলাদা করেছে। ভারতের উত্তরখাণ্ড এবং নেপালের ফার ওয়েস্টার্ন ডেভলপমেন্ট রিজিওনের মাঝখানে পড়েছে এই নদী। ভারতের মতে, এই নদীটির পানি আসছে মহাকালী নদী (ভারতে যে সারাদা নামে পরিচিত) থেকে, যেটার উৎপত্তিস্থল হলো কালাপানি, উত্তরখাণ্ডের যে বিতর্কিত এলাকাকে নেপাল এখন নিজেদের বলে দাবি করছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা দ্য প্রিন্টকে বলেছেন যে, তারা ধারণা করছেন সীমান্ত বিবাদের কারণে এই প্রকল্প আরেকটি বাধার মুখে পড়তে পারে, যেটা এমনিতেই অনেক বিলম্বের মধ্যে আছে। সীমান্ত বিবাদের আগে, দুই দেশ পানি বন্টন ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করে আসছে।

কেন্দ্রীয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, “পঞ্চেশ্বর ডেভলপমেন্ট অথরিটির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে ২০১৯ সালের নভেম্বরে। ভারতের পানি সম্পদ সচিব ইউ পি সিং তখন নেপাল সফর করেছিলেন। কিন্তু এর পরে আর কোন বৈঠক হয়নি। এখন সীমান্ত ইস্যু সামনে আসার কারণে শিগগিরই এর কোন অগ্রগতির ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না”।

২৪ বছর আগে ভারত আর নেপালের মধ্যে যখন মহাকালি চুক্তি হয়, পঞ্চেশ্বর বহুমুখী প্রকল্পের কথা তখনই ভাবা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটো জলবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের পরিকল্পনা রয়েছে যেগুলো থেকে ৫,০৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এবং ৩১৫ মিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যেটার মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও সেচের চাহিদা মেটানো হবে।

উপরে উল্লেখিত কর্মকর্তা আরও বলেন, দুই দেশের আলোচনা এখন মহাকালি নদীর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানি ব্যবহারের ইস্যুতে আটকে আছে। জলবিদ্যুৎ জরিপ অনুসারে, মহাকালি নদীর বছরে ১৮ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম) পানি প্রবাহ থাকে। এর মধ্যে ১৩ বিসিএম পানি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত ১২ বিসিএম এবং নেপাল ১ বিসিএম ব্যবহার করছে।

এই ১২ বিসিএমের মধ্যে উত্তর প্রদেশের সেচের জন্য ভারত ৭ বিসিএম পানি টেনে নিচ্ছে ভারত-নেপাল সীমান্তের আপার সারাদা ব্যারেজ থেকে। বাকি ৫ বিসিএম নেয়া হচ্ছে লোয়ার সারাদা ব্যারেজ থেকে, যেটা ভারতীয় অংশের ১৫০ কিলোমিটার ভেতরে।


ভারতের অবস্থান হলো বাধ নির্মাণ হলে বাকি ৫ বিসিএম পানির মধ্যে নেপাল ৩ বিসিএম ব্যবহার করবে এবং বাকি ২ বিসিএম ব্যবহার করবে ভারত।

“কিন্তু নেপাল এখানে আপত্তি জানিয়ে বলেছে যে, লোয়ার সারাদা ব্যারেজ থেকে ভারত যে ৫ বিসিএম পানি টানছে, সেটাকে ভারতের ভবিষ্যৎ ব্যবহার হিসেবে দেখতে হবে। ফলে বাকি ৫ বিসিএম পানি ব্যবহার করবে নেপাল”, জানান ওই কর্মকর্তা।

পানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, পানি বন্টনের বিবাদের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত তারা সামনে এগুতে পারবেন না এবং প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ো কোন আলোচনা সম্ভব হবে না।

সাউথ এশিয়ান মনিটর