রাশিয়া এখনই দিচ্ছে না এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র; ভারতকে অপেক্ষা করতে হবে আরো দেড় বছর!

বর্তমানে রাশিয়ায় তৈরি হচ্ছে ভারতের এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ ভারতে এগুলো পৌঁছার আগে কয়েক দফা পরীক্ষা করা হবে।

সূত্র জানায়, লাদাখে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চীনের সাথে উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া নির্দিষ্ট শ্রেণীর ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা সরবরাহ করছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনী জরুরিভাবে এগুলো সংগ্রহ করছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া সফরের সময় সব প্রতিরক্ষা চুক্তি ও পাইপলাইনে থাকা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভারত কয়েকবারই জরুরিভিত্তিতে সরবরাহ করার তাগিদ দিয়েছে। তারা বলছে, চুক্তি অনুযায়ী ৫.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির প্রথম কিস্তি পরিশোধের ২৪ মাসের মধ্যে এস-৪০০ সিস্টেম সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, চুক্তিটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে সই হলেও রাশিয়ার ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে মূল্য পরিশোধের উপায় নিয়ে জটিলতার কারণে বিলম্ব ঘটেছিল। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ৫টি এস-৪০০-এর প্রথমটি ২০২০ সালের প্রথম দিকে ভারতে এসে যাবে। আর বাকি চারটি চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।


একটি সূত্র জানায়, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অনেক ধরনের কম্পিউটিং ও কোডিং থাকে। এগুলো একেক ক্রেতার জন্য একেক রকম হয়ে থাকে। এরপর অনেকগুলো পরীক্ষা করতে হয়। এর পর আছে প্রশিক্ষণের পালা। ফলে খুব তাড়াহুড়া করে উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কিছু নয়, যা অন্য ক্রেতার জন্য তৈরি করাগুলো ভারতকে সরবরাহ করা যাবে।

এস-৪০০ হলো রাশিয়ার তৈরি সবচেয়ে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি দিয়ে শত্রুর আগুয়ান বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি ড্রোনও ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে ধ্বংস করা যায়। এর শনাক্ত করার সক্ষমতা ৬০০ কিলোমিটার।এটি দিয়ে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক টার্গেটও ধ্বংস করা সম্ভব।

পূর্বসূরী এস-৩০০-এর তুলনায় এস-৪০০ আড়াইগুণ বেশি দ্রুতগামী। এর আগে দি প্রিন্ট জানিয়েছিল, প্রতিটি এস-৪০০ ব্যাটারিতে দূরপাল্লার রাডার, কমান্ড পোস্ট যান, টার্গেট অ্যাকুইজেশন রাডার, দুই ব্যাটালিয়ন লঞ্চার (প্রতিটি ব্যাটালিয়নে আটটি করে) থাকে। প্রতিটি লঞ্চারে থাকে চারটি করে টিউব।

এস-৪০০ চারটি ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত হতে পারে। এগুলোর পাল্লা হতে পারে ৪০০ কিলোমিটার, ২৫০ কিলোমিটার, ১২০ কিলোমিটার ও ৪০ কিলোমিটার। দূর পাল্লার রাডার একইসাথে শতাধিক উড়ন্ত টার্গেটকে শনাক্ত করতে এবং এক ডজন টার্গেটকে মোকাবিলা করতে পারে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর