নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে শহীদ বাবরী মসজিদের যায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ করতে চায় মোদী

আগস্ট মাসের শুরুর দিকে হিন্দু দেবতা রামের নামে মন্দির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে যাচ্ছে ভারতের হিন্দুত্ববাদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজেপি সমর্থকদেরকে দেয়া বহু দশকের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চলেছে মোদি। একইসাথে এটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও একটা নতুন বয়ান যোগ করবে এবং জাতীর মানস জগতে যেটার প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী। খবর সাউথইস্টমনিটরের।

২০২০ সালে এমন কিছু অর্জন হয়নি ভারতের যেটা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। দেশ এখন একটা জটিল সময় পার করছে। দেশের ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়ে আসবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। আর চীন লাদাখে অনুপ্রবেশ করে ভারতের ভূখণ্ডের খানিকটা দখল করে নিয়েছে, যেটা দেশের জাতীয় গর্বের উপর আঘাত হেনেছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের জায়গায় ভারত যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিলের পর বিশ্বের তৃতীয় আক্রান্ত দেশ। আক্রান্তের সংখ্যা ১.১ মিলিয়ন পেরিয়ে গেছে এবং প্রতিদিনই ৪০ হাজারের বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বেকারত্বের হার অনেক বেশি এবং নতুন বিনিয়োগ এখনও চুপসে আছে। রাজ্যগুলো এখনও লকডাউনের ধকল সামলাতে ব্যস্ত এবং অন্য বিকল্পের সন্ধান করছে তারা, যেহেতু অর্থনীতির উপর এর বড় ধরণের আঘাত এসেছে।

এই সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মন্দির নির্মাণ করা গেলে কিছু মোদির জন্য ‘ইতিবাচক’ পরিবর্তন আসতে পারে বলে কিছু পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন।

৫ আগস্ট প্রথম ইটটি স্থাপনের মাধ্যমে মোদি অযোধ্যায় মন্দিরের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২ এপ্রিল, রামের জন্মবার্ষিকীতে মন্দিরের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল শুরুতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ এবং দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে এটা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়।

বিজেপি আর তাদের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের জন্য অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের অংশ। এটা নিশ্চিত যে, এই বিতর্কিত ইস্যুটিই বিজেপিকে নির্বাচনের পর নির্বাচন জেতার ক্ষেত্রে এবং নয়াদিল্লী ও বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে।

তাদের আরেকটি লক্ষ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট পার্লামেন্টে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে সেটাও হাসিল করেছে মোদি সরকার। কাশ্মীরীদের বিশেষ মর্যাদাকে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বিবেচনা করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার কয়েক বছর পরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটিকে ওই বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মুঘল সম্রাট বাবর ১৫২৬ সালের দিকে বাবরি মসজিদ নির্মান করেন।

শহীদ বাবরী মসুজিদের যায়গায় মন্দিরের সম্ভবত পাঁচটি গম্বুজ থাকবে এবং কেন্দ্রীয় কাঠামোটি হবে ৪০ মিটার উঁচু। এর চারপাশে বহু একর জমি ছড়ানো থাকবে। যে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এখানে বিভিন্ন উৎসবে সমবেত হবে, তাদের ধারণ করার জন্যই মন্দিরের চারপাশে জমি রাখা হবে।

যে দিন কাজ শুরু হবে, সেদিন থেকে ধরে তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই মন্দির নির্মাণ কাজের শুরুর সময়টাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন। সমালোচকরা বলছেন, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগ দিয়ে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং সেখানে ১.১ বিলিয়নের বেশি তীর্থযাত্রীর জায়গা সঙ্কুলান হবে, এর মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ের জন্য ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।