ইহুদীবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে আরব আমিরাত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মাহবুব শাহীন


আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আবুধাবীর ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ আল নাহিয়ান এক যুক্ত বিবৃতিতে দাবি করছে, “এই ঐতিহাসিক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির অগ্রযাত্রায় সাহায্য করবে”।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের বিনিময়ে ইসরায়েল পশ্চিম তীরের বিশাল ফিলিস্তিনি এলাকা ইসরায়েলের অংশ করে নেয়ার কাজ আপাতত স্থগিত রাখবে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মদদে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ১৭ মে ঘোষণা করে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একাংশকে ইসরাইলের অন্তর্গত করার সময় এসে গেছে।

১ জুলাই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদের কারণে তেল আবিব গত ১ জুলাই সে দখলদার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে প্রতিদিনই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এবং দখলদারিত্বের প্রতিরোধ করতে গেলে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনীদের ওপর বর্বর নির্যাতনসহ নারী-শিশুদেরকে আটক করে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে ইহুদীবাদী ইসরাইল।

ফিলিস্তিন লিবারেশন অরগানাইজেশানস কমিটি অব প্রিজনার্স এন্ড ফ্রীড প্রিজনার্স, ফিলিস্তিন প্রিজনার্স ক্লাব, অ্যাডামির প্রিজনার সাপোর্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস এসোসিয়েশন এবং ওয়াদি হিলওয়াই ইনফরমেশন সেন্টারের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য মতে অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং জেরুসালেম থেকে গত জুলাই মাসেই ৪২৯ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইল। যার মধ্যে ৩২ জন শিশু ও ১০ জন নারী রয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে এতদিন পর্যন্ত কোন উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। এই স্বীকৃতির ফলে ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি ফ্লাইট, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করবে।

আমেরিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবা দাবি করে বলেন, “এটি ঐ অঞ্চলে কূটনীতির বিজয়।” তিনি একে আরব-ইসরায়েল সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে বর্ননা করেন। তার দাবি, এর ফলে উত্তেজনা কমবে এবং অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।

তবে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে আরব আমিরাত স্বীকৃতি দিলে ফিলিস্তিনসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ সংগঠনগুলো। তারা এই স্বীকৃতির কঠোর প্রতিবাদ জানান।

ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনী জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনবিরোধী অপরাধযজ্ঞের ‘প্রতিদান’ হিসেবে তেল আবিবের সঙ্গে এই চুক্তি করছে।

হামাসের আরেক মুখপাত্র ফাউজি বারহুম বলেছেন, তেল আবিবকে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনী জাতির পিঠে ছুরি বসিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এদিকে রামাল্লায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রামাল্লায় নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তার মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠান। একইসঙ্গে ফিলিস্তিন সরকার আবুধাবিতে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্র্রদূতকে রামাল্লায় ফিরে যেতে বলেছেন।

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন, ইসরাইলকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বীকৃতির ফলে মধ্যপ্রাচ্য উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসরাইলকে স্বীকৃতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হওয়ার পর নেতানিয়াহু এ দাবি করলেন।

ইহুদীবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর আশা, আমিরাতের এই স্বীকৃতির পর আরো বহু মুসলিম ও আরব দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিবে।