মুসলিম নাম দেখে নয়াদিল্লীতে সাংবাদিকদের উপর হিন্দু উগ্রবাদীদের হামলা

ভারতের তিনজন সাংবাদিক রাজধানী নয়াদিল্লীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় হিন্দু গোষ্ঠির হামলার শিকার হয়েছে। ওই সাংবাদিকরা আল জাজিরাকে এ তথ্য জানান।

ক্যারাভান ম্যাগাজিনের জন্য উত্তরপূর্ব দিল্লীতে ভিডিওচিত্র ধারণ করছিলেন সাংবাদিক শাহিদ তান্ত্রে এবং তার দুই সহকর্মী। এই এলাকায় ফেব্রুয়ারি মাসে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএ-র প্রতিবাদ করায় হিন্দুত্ববাদীরা সংঘাত সৃষ্টি করেছিল। সংঘাতে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই মুসলিম।

re style=”display: none;”>

ভারত দখলকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা তান্ত্রে বলেন, তারা যখন ভিডিও করছিলেন তখন হিন্দুদের একটি গ্রুপ এসে জিজ্ঞাসা করে কেন তারা ভিডিও নিচ্ছে। এদের একজন নিজেকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্য হিসেবেও পরিচয় দেয়।

আমার প্রেস কার্ডে ‘তান্ত্রে, ২৮’ দেখে তারা আমাদেরকে সন্দেহ করতে শুরু করে।

তিনি বলেন, “বিজেপি সদর্সটি চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, (তান্ত্রে) একজন মুসলিম এবং আরও মানুষদের ঘটনাস্থলে জড়ো করে”।

“এই জনতা আমাকে পেটায়, আমার ঘাড়ে ও পিঠে ঘুষি মারে, এবং ক্যামেরায় স্ট্র্যাপ দিয়ে আমার শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। তখন থেকে আমাদের ঘাড়ের আর পিঠের ব্যাথাটা এখনও যায়নি”।

“মুসলিম মানেই তাদের শত্রু’

তিনি আরও জানান, ওই গ্রুপটি প্রায় ৯০ মিনিট তাদেরকে আটকে রাখে। তার সহকর্মী তাকে ক্রুদ্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সাংবাদিকদের রক্ষার জন্য পুলিশের অতিরিক্ত একটি টিমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদেরকে কাছের পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই মুসলিম সাংবাদিকের সহকর্মী সিং আল জাজিরাকে বলেন, “তাদের চোখে পরিস্কার ঘৃণা দেখছিলাম আমি। আমি শিখদের পাগড়ি পরা ছিলাম এবং তারা আমার ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে সচেতন ছিল। কিন্তু তাদের শত্রু ছিল শাহিদ (তান্ত্রে), কারণ সে একজন মুসলিম”।

তিনি বলেন, আরও মানুষ জড়ো হয়ে প্রায় ১০০ মানুষ হয়ে গিয়েছিল সেখানে।

সিং আল জাজিরাকে বলেন, “আমাদের নারী সহকর্মী সড়ক থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছিল, কিন্তু জনতা পরে কলোনির গেট আটকে দেয় শাহিদ আর আমাকে সেখানে আটকে ফেলে”।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ও আল জাজিরা