চুক্তির নামে ইসরাইলকে স্বীকৃতি আমিরাতের: ফিলিস্তিন নিয়ে মিথ্যাচার

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চুক্তির মাধ্যমে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে আরব আমিরাত যে স্বীকৃতি দেয়েছে, তার মাধ্যমে মূলত ইসরাইল-আমিরাতের দীর্ঘ দিনের গোপন পিরিতি প্রকাশিত হয়েছে। যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিকাশনাম ঘটনাবলী সম্পর্কে সচেতন তারা জানেন যে বহু বছর ধরে পর্দার আড়ালে আবু ধাবি ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্কটি গভীর হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা ছিলো এই গোপন প্রচেষ্টার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মাত্র। বিশেষ করে গত বছর বা তারও আগ থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা গতি পায়, ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ও উপসাগরীয় শেখশাসিত রাজ্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চলছিলো, পাশাপাশি সামাজিক ও মূলধারার গণমাধ্যমেও প্রচেষ্টা চলে- যা ইসরাইলকে স্বীকৃতির পথ তরান্তিত করে।

‘সাহসী’ ও ‘ঐতিহাসিক’-এমন কিছু ন্যাক্কারজনক ও অবাঞ্চিত বিশেষণ যুক্ত করে এই স্বীকৃতির প্রধান তিন চরিত্র আমেরিকা, ইসরাইল ও আরব আমিরাত স্বীকৃতির প্রশংসা করলেও তাতে ফিলিস্তিনীদের দুঃখ ছাড়া আশাবাদের কিছু নেই। ফিলিস্তিনীদের জন্য এখন সশস্ত্র
সংগ্রাম ছাড়া আর কোন পথ বাকি রইলো না।

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র চুক্তিটিকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে হামাস একে বলেছে ‘পেছন থেকে ছুরিকাঘাত’।

খেলাফত ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর ফিলিস্তিনের উপর জোড় পূর্বক ইসরাইলকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দেশটির সঙ্গে উপসাগরের প্রান্তে থাকা আরব আমিরাতের কোন সীমান্তও নেই।

তাহলে ইহুদীবাদী ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই তাড়া কেন? স্পষ্টত, দুটি রাষ্ট্রের নেতৃত্বেই রয়েছেন আমেরিকান অক্ষের সদস্যরা। তাদের অভিন্ন ভূকৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে তাতে এমন কিছু নেই যাতে ফিলিস্তিনীদের কল্যাণ হবে।

অবশ্য ট্রাম্প এ চুক্তিকে তার নির্বাচনী প্রচারণায়ও ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি তার খ্রিস্টবাদী ভোটারদের দেখাতে পারবেন যে তিনি আরব বিশ্বে ইসরাইলের আরেকটি মিত্র সৃষ্টি করেছেন।

এই চুক্তি পশ্চিম তীরকে অবৈধভাবে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করা ঠেকিয়েছে বলে প্রশংসা করা হয়। কিন্তু চুক্তিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বুঝা গেছে সেটা মিথ্যা। বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু মিডিয়াকে বলছে, অধিকৃত ভূখণ্ডে ‘সার্বভৌমত্ব সম্প্রসারণ করার ব্যাপারে আমার পরিকল্পনার কোন পরিবর্তন হয়নি।’

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর