সম্পর্ক জোরদার করতে শিগগিরিই পাকিস্তান যাচ্ছে আব্দুল্লাহ

আফগান পিস কাউন্সিলের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ শিগগিরই দেশটির আমেরিকা সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। তালেবানের সাথে আন্ত:আফগান আলোচনার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আফগান শান্তি আলোচনা প্রবেশ করার আগ মুহূর্তে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ড. আব্দুল্লাহর সফর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হওয়ারও ইংগিত। অবিশ্বাস ও পরস্পরকে দোষারোপ করার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে দুই দেশের সম্পর্ক।

আমেরিকার মদদপুষ্ট আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির অংশ হিসেবে আব্দুল্লাহ সুপ্রিম ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তাকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের বিশেষ আফগান দূত মুহাম্মাদ সাদিক।

বিশেষ দূত এক টুইটে বলেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি আফগান পিস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তিনি সফরে আসবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এটাই হবে পাকিস্তানে কোন সিনিয়র আফগান নেতার সফর। অবিশ্বাসের কারণে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোকে মদতদানের অভিযোগ করে। তবে গত ৯ জুন পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া ও আইএসআই প্রধান লে. জেনারেল ফাইজ হামিদ কাবুল সফরে গেলে সম্পর্কে নতুন করে উষ্ণতা তৈরি হয়। তারা ঘানি ও আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করেন।

তালেবানের সাথে আন্ত:আফগান আলোচনা সফল হওয়ার জন্য কাবুল-ইসলামাদ সম্পর্কে অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। শিগগিরই ওই আলোচনা শুরু হচ্ছে। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে তালেবানদের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর শান্তি প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আন্ত:আফগান আলোচনা।


তালেবানদের সাথে শান্তিচুক্তিতে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিলো বন্দি বিনিময়। প্রথম দিকে ঘানি তালেবান বন্দি মুক্তি দিতে অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত আমেরিকার চাপে বাধ্য হয়ে ৩৫০০ জনকে মুক্তি দেয়।

কাতার বা জার্মানিতে আন্ত:আফগান আলোচনা হতে পারে। এই আলোচনা আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ চলার পথ নির্ধারণ করবে। এবং আফগানে তালেবানের শাসন ক্ষমতা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে এই আলোচনাকে মনে করা হয়।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Previous post করোনার কারণে এবারের হজ্বে কাবা শরীফ ছোঁয়া নিষেধ
Next post হেবরন দখলের প্রতিবাদ করায় ফিলিস্তিনি যুবককে গুরুতর আহত করলো ইসরায়েল